মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

পদ হারানোর শঙ্কায় ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো

পদ হারানোর শঙ্কায় ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো

ছবি সংগৃহীত

বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডজনিত এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জেরে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফিফার ভেতরে ও বাইরে তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি একাধিক সদস্যদেশ তার প্রতি সমর্থন প্রত্যাহারের বিষয়টিও বিবেচনা করছে বলে দাবি করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বালোগুনকে লাল কার্ড দেখানোর পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হওয়ার কথা থাকলেও ফিফা সেই শাস্তি এক বছরের প্রবেশন শর্তে স্থগিত করে। ফলে তিনি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পান। ফিফা শৃঙ্খলাবিধির ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিলেও বিষয়টি ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।

বিতর্ক আরও বাড়ে যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে জানান, বালোগুনের বিষয়টি নিয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ইনফান্তিনোর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। এর পর থেকেই ফিফার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। যদিও ইনফান্তিনো দাবি করেছেন, ফিফার বিচারিক সংস্থাগুলো স্বাধীনভাবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তিনি শুধু চলমান প্রক্রিয়া সম্পর্কে ট্রাম্পকে অবহিত করেছিলেন।

দ্য টাইমস–এর দাবি, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ডসহ কয়েকটি সদস্যদেশ প্রকাশ্যে এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। এ ছাড়া মিসর ও সেনেগালও ফিফার বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করছে।

ফিফার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের এর চেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ কল্পনা করা কঠিন। ফিফা যেভাবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে, তা হাস্যকর। ইনফান্তিনো এখন গভীরভাবে বিচ্ছিন্ন। তিনি এমন এক সভাপতি হয়ে উঠছেন, যিনি প্রকৃত ক্ষমতা হারিয়েছেন।”

এদিকে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফাও ফিফার সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তকে ‘অভূতপূর্ব, বোধগম্য নয় এবং অযৌক্তিক’ উল্লেখ করে বলেছে, এটি ফুটবলের ন্যায্যতা ও প্রতিযোগিতার বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে।

প্রতিবেদনটি আরও বলছে, ইনফান্তিনোর দীর্ঘমেয়াদি বেশ কয়েকটি পরিকল্পনাও এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে। ক্লাব বিশ্বকাপ আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ ব্যাপক বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছে। পাশাপাশি ২০৩১ সালের পরও সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে থাকতে ফিফার গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের সম্ভাবনাও অনেকটাই ক্ষীণ হয়ে এসেছে।

তবে বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্তটি ফিফার কোন পর্যায়ে বা কারা অনুমোদন করেছিলেন, সে বিষয়ে এখনো সংস্থাটির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে পুরো বিষয়টি ঘিরে বিতর্ক ও প্রশ্ন এখনো অব্যাহত রয়েছে।

ঠিকানা/এনআই

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz