গ্রামীণ উন্নয়নকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠবে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ভবিষ্যৎ
ঠিকানা অনলাইন
প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৬, ২২:৩৩
•
অনলাইন সংস্করণ
ছবি সংগৃহীত
গ্রামীণ উন্নয়ন শুধু একটি খাতভিত্তিক কর্মসূচি নয়; এটি টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবকেন্দ্রিক উন্নয়নের মূল ভিত্তি। আঞ্চলিক সহযোগিতা, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগের মাধ্যমে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কোটি কোটি গ্রামীণ মানুষের জীবনমানের ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব এবং সিরডাপ (CIRDAP) নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি মোহাম্মদ শওকত রশীদ চৌধুরী এ মন্তব্য করেন।
গত ৬ জুলাই ঢাকার সিরডাপ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সিরডাপের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং দ্বিতীয় বিশ্ব গ্রামীণ উন্নয়ন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা, দারিদ্র্য, বৈষম্য ও কর্মসংস্থানের মতো বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গ্রামীণ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। এ জন্য সরকার, আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, গবেষণা সংস্থা এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের জন্য গ্রামীণ উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। কারণ বিশ্বের অধিকাংশ দরিদ্র জনগোষ্ঠী এখনো গ্রামীণ এলাকায় বসবাস করে। তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও আর্থিক সেবায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা ছাড়া অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন সম্ভব নয়।
সচিব বলেন, বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে পল্লী উন্নয়ন, সমবায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন, ক্ষুদ্রঋণ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং স্থানীয় সরকারব্যবস্থার উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এসব অভিজ্ঞতা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিনিময়ের মাধ্যমে অন্যান্য সদস্যরাষ্ট্রও উপকৃত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সফল উদ্যোগ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং কার্যকর নীতিমালা একে অপরের সঙ্গে ভাগাভাগি করা গেলে সমগ্র অঞ্চলের গ্রামীণ উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে। কৃষির আধুনিকায়ন, সমবায়ভিত্তিক উদ্যোগ, ডিজিটাল প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যুব ও নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও টেকসই গ্রামীণ অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণের ওপরও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে উদ্ভাবন, গবেষণা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করতে হবে।
সচিব আরও উল্লেখ করেন, সিরডাপ প্রতিষ্ঠার পর থেকে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে জ্ঞান বিনিময়, নীতিগত সহায়তা, প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সমন্বিত গ্রামীণ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ভবিষ্যতেও এ সংস্থা আঞ্চলিক সহযোগিতার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জাতিসংঘের স্বীকৃত বিশ্ব গ্রামীণ উন্নয়ন দিবস বিশ্বব্যাপী গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নকে নতুন মাত্রায় তুলে ধরেছে। দারিদ্র্য দূরীকরণ, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং এসডিজি অর্জনে গ্রামীণ উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরতেই দিবসটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ৬ জুলাই বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয় সেন্টার অন ইন্টিগ্রেটেড রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক (CIRDAP)। বর্তমানে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক সদস্যরাষ্ট্র নিয়ে গঠিত এই আন্তঃসরকারি সংস্থাটি পল্লী উন্নয়ন, সমবায়, কৃষি, স্থানীয় সরকার, গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
অনুষ্ঠানে গ্রামীণ উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার, উদ্ভাবনী প্রযুক্তির বিস্তার, সমবায় আন্দোলনকে শক্তিশালী করা, যুবসমাজ ও নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরা হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, বিশ্ব গ্রামীণ উন্নয়ন দিবসের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গ্রামীণ উন্নয়নকে আরও অগ্রাধিকার দেবে এবং এসডিজি বাস্তবায়নে নতুন গতি সৃষ্টি হবে।