কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশিসহ বিদেশি অভিবাসীদের জন্য একটি দুঃসংবাদ দিয়েছে দেশটির সরকার। অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে ‘প্যারেন্টস অ্যান্ড গ্র্যান্ডপ্যারেন্টস’ (পিজিপি) প্রোগ্রামে নতুন আবেদন গ্রহণ। সরকারি ওয়েবসাইটের এক বিজ্ঞপ্তিতে গত বুধবার এ তথ্য প্রকাশ করেছে কানাডার অভিবাসন দপ্তর। অভিবাসীদের মা-বাবা এবং দাদা-দাদিকে স্থায়ীভাবে কানাডায় আনার জনপ্রিয় একটি স্পন্সরশিপ কর্মসূচি হলো পিজিপি ।
নতুন অভিবাসী ও কানাডার নাগরিকদের জন্য একটি কার্যকর, সুশৃঙ্খল ও টেকসই অভিবাসন ব্যবস্থা বজায় রাখতে সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে। তবে ইতিমধ্যে যেসব আবেদন জমা পড়েছে, সেগুলোর আইনি প্রক্রিয়া যথানিয়মে চালু থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছে দেশটির সরকার। এতে ২০২৬ সালের প্রোগ্রাম অনুযায়ী প্রায় ১৫ হাজার জঙ্কে স্থায়ী বসবাসের অনুমোদন দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে তাদের।
পিজিপি প্রোগ্রামে আগ্রহীর সংখ্যা বরাদ্দকৃত আসনের তুলনায় অনেক গুণ বেশি হওয়ায় দীর্ঘ জট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো স্পন্সরশিপ আবেদন গ্রহণ বা সম্ভাব্য স্পন্সরদের আবেদন করার আমন্ত্রণ জানানো হবে না বলেও যোগ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। তবে নতুন আবেদন বন্ধ থাকলেও অভিবাসীদের বাবা-মা ও দাদা-দাদিরা চাইলে ‘সুপার ভিসা’ কর্মসূচির সুবিধা নিতে পারবেন। এ ভিসার মাধ্যমে তারা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কানাডায় অবস্থান করতে পারবেন এবং ১০ বছর পর্যন্ত একাধিকবার দেশটিতে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন।
ইমিগ্রেশন রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা (আইআরসিসি) বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২০ সালে চালু হওয়া এই কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে ৬০ হাজার ৫০০টিরও বেশি আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যা সম্পূর্ণ নিষ্পত্তি করতে লেগে যেতে পারে আড়াই থেকে ছয় বছর। এই বিপুল ব্যাকলগ বা জট কমাতেই গ্রহণ করা হয়েছে নতুন আবেদন বন্ধের সিদ্ধান্ত।