বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন
​ট্রেনে রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদ

রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ

রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ক্যাম্পাসের চারুকলা সংলগ্ন এলাকায় রেললাইন অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা

বিজ্ঞাপন
রসিদ ছাড়াই যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের প্রতিবাদ করায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক (টিটি) মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা সংলগ্ন রেললাইনে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এতে রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ফোরকান উদ্দীন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি জানান, ঢাকা থেকে পদ্মা এক্সপ্রেসে রাজশাহী ফেরার পথে কয়েকজন টিটি যাত্রীদের কাছ থেকে রসিদ ছাড়াই টাকা আদায় করছিলেন। তিনি এর প্রতিবাদ জানালে ৬ থেকে ৭ জন টিটি তাকে পেছন থেকে ধরে দুই বগির মাঝখানে নিয়ে যান এবং ঘাড় ও পিঠে মারধর করেন।

ফোরকানের অভিযোগ, একপর্যায়ে তাকে ট্রেনের জানালার পাশে নিয়ে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। এতে তার চশমা ভেঙে যায়। তিনি অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

তিনি বলেন, "রেলের টাকা রাষ্ট্রের সম্পদ। টিকিট ইস্যু না করে টাকা নেওয়া অনিয়ম। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি এর প্রতিবাদ করেছিলাম। কিন্তু প্রতিবাদের জেরে আমাকে মারধরের শিকার হতে হয়েছে।"

ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। দাবিগুলো হলো—অভিযুক্তকে সশরীরে উপস্থিত করতে হবে; ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করতে হবে এবং শিক্ষার্থীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে রেল কর্তৃপক্ষকে বাদী হয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে; ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং সব দূরপাল্লার ট্রেনের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করতে হবে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আরিফুল ইসলাম বলেন, "অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় আমাদের এক সহপাঠীকে মারধর করা হয়েছে। রেলে অনিয়ম ও প্রতিবাদকারীদের হেনস্তা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত রেল অবরোধ চলবে।"

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে হেনস্তার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে অবরোধস্থলে অবস্থান নিয়েছেন রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার।

অন্যদিকে ফেসবুক পোস্টে রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত রেললাইন অবরোধ অব্যাহত থাকবে। তিনি অভিযোগ করেন, এর আগেও রাবির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণের ঘটনা ঘটেছে এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপককে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ট্রেনের টিকিট পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করেছে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি হচ্ছে, সেটি আমরা উপলব্ধি করছি। তবে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। সূত্র: ইত্তেফাক

ঠিকানা/এসআর

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz