১৫ কর্মদিবসের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে জনস্বার্থে মামলা করার হুঁশিয়ারি
ঠিকানা অনলাইন
প্রকাশ : ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৫:৩০
•
অনলাইন সংস্করণ
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পরিচালিত ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিরাপদ প্যারাসেলিং কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ, সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে অ্যাডভেঞ্চার পর্যটনে কঠোর নিরাপত্তা কাঠামো প্রণয়নের দাবিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত ১ আগস্ট কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেলিং করার সময় ছিটকে পড়ে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়। ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে বলা হয়, এটি পর্যটকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ধরনের দুর্বলতা এবং প্রশাসনিক তদারকির ঘাটতির ইঙ্গিত বহন করে।
এতে অভিযোগ করা হয়, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত অপারেটর এবং মানসম্মত সরঞ্জাম ছাড়াই প্যারাসেলিং পরিচালিত হচ্ছে। অতীতে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা হয়নি।
নোটিশে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার পর প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার বক্তব্যে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্যারাসেলিং পরিচালনার প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল না। একই সঙ্গে প্রশাসন দাবি করেছে, পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করলেও দুর্ঘটনাটি তাদের অগোচরে ঘটে।
তবে নোটিশে বলা হয়েছে, তদারকির দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও অননুমোদিত ও ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম চলতে দেওয়া প্রশাসনিক ব্যর্থতারই প্রমাণ। এতে ভবিষ্যৎ পর্যটকদের জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
লিগ্যাল নোটিশে আট দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
* কক্সবাজারে পরিচালিত সব ঝুঁকিপূর্ণ প্যারাসেলিং কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করা।
* সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের লাইসেন্স, অনুমোদন ও নিরাপত্তা মান যাচাই করা।
* সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন।
* দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।
* ট্যুরিস্ট পুলিশ ও ট্যুরিস্ট ম্যাজিস্ট্রেটদের দায়িত্ব পালনে আরও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা।
* নিহত পর্যটকের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান।
* দরিয়ানগরের ‘ফ্লাই এয়ার সি স্পোর্টস প্যারাসেইলিং’ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থা জনসম্মুখে প্রকাশ করা।
* ভবিষ্যতে প্যারাসেলিংসহ সব ধরনের অ্যাডভেঞ্চার পর্যটন পরিচালনায় আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা নির্দেশিকা (স্ট্যান্ডার্ড সেফটি গাইডলাইন) এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামো (রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক) প্রণয়ন ও কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
নোটিশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় জনস্বার্থে উচ্চ আদালতে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করেছেন অ্যাডভোকেট নিশাত ফারজানা।