বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ :
• রাজধানী থেকে সাবেক দুই মেয়রসহ আ. লীগের ৩ নেতা গ্রেফতার • মিনহাসের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে পাকিস্তানের টানা জয় • সাত বছরেই ৪৯ কবিতার কাব্যগ্রন্থ, নিউইয়র্কে ক্ষুদে কবি পরমাকে ঘিরে সাহিত্যিকদের মিলনমেলা • সমঅধিকারভিত্তিক সমাজ গঠনে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী • ক্যানসারে মারা গেলেন অভিনেত্রী-গায়িকা লুয়া ব্লাঙ্কো • আজ বিজয়া দশমী • ধর্ম যার যার, পরিচয় আমরা সবাই বাংলাদেশি : প্রধানমন্ত্রী • ইরানে সরকার উৎখাতে আমি ও ট্রাম্প অঙ্গীকারবদ্ধ : নেতানিয়াহু • ইশরাকের পদত্যাগের ঘটনায় আইনের কোনও ব্যত্যয় ঘটেনি : অ্যাটর্নি জেনারেল • ইসরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে সমর্থনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান জেডি ভ্যান্সের

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

​বাংলাদেশের সামনে নতুন কূটনৈতিক দিগন্ত

​বাংলাদেশের সামনে নতুন কূটনৈতিক দিগন্ত

বিজ্ঞাপন
আগামী সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে উঠতে যাচ্ছে। এ অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন। এই দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
গত ২ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত গোপন ব্যালটের নির্বাচনে সাইপ্রাসের প্রার্থী রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেয়াস কাকুরিসকে পরাজিত করে সভাপতি নির্বাচিত হন ড. খলিলুর রহমান। ১৯৩ সদস্যরাষ্ট্রের ভোটে বাংলাদেশ পায় ৯৯ ভোট, আর সাইপ্রাস পায় ৯১ ভোট। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশের এই বিজয় বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে দেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর আগে ১৯৮৬-৮৭ সালে বাংলাদেশের হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্ক পৌঁছাবেন এবং ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে তার প্রথম নীতিনির্ধারণী ভাষণ দেবেন। একই সময়ে বাংলাদেশের একজন প্রতিনিধি যখন সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে থাকবেন, তখন প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি বিরল ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সফরকালে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ারও কথা রয়েছে।
ড. খলিলুর রহমান আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে এক বছরের জন্য সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তার ঘোষিত প্রতিপাদ্য ‘আস্থা পুনর্গঠন, রূপান্তর পরিচালনা : সবার জন্য কার্যকর একটি জাতিসংঘ’। বৈশ্বিক সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন এবং জাতিসংঘের সংস্কারসহ গুরুত্বপূর্ণ নানা ইস্যুতে তার নেতৃত্বাধীন সাধারণ পরিষদের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হবে। একই অধিবেশনেই জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হওয়ার কথা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই বিজয় আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা, কূটনৈতিক সক্ষমতা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতায় সক্রিয় ভূমিকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। সরকারের মতে, এটি কেবল একটি মর্যাদাপূর্ণ পদে নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা নয়; বরং শান্তি, উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং দায়িত্বশীল বৈশ্বিক অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুসংহত করার সুযোগ। বিশ্লেষকদের মতে, এই সাফল্যের পেছনে তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, বাংলাদেশের সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং ড. খলিলুর রহমানের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা। মাত্র তিন মাস সময় হাতে থাকলেও বাংলাদেশ ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হয়। অথচ প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাস প্রায় এক দশক ধরে তাদের প্রচার চালিয়ে আসছিল।
এই প্রচারে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ও হুমায়ুন কবির। পাশাপাশি নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত কূটনৈতিক মিশনগুলো সমন্বিতভাবে প্রচারণা চালায়। গত ১৩ মে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ড. খলিলুর রহমানের ইন্টারঅ্যাকটিভ ডায়ালগও সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ইতিবাচক সাড়া সৃষ্টি করে এবং বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত হাসান মাহমুদ খন্দকারের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের এই অর্জন উন্নয়নশীল ও জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর স্বার্থ আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি করবে। তবে এই আন্তর্জাতিক মর্যাদাকে অর্থনৈতিক কূটনীতি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং জাতীয় স্বার্থরক্ষায় কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায়, তার ওপরই নির্ভর করবে এ সাফল্যের প্রকৃত মূল্য।
বিশ্ব কূটনীতির সর্বোচ্চ মঞ্চে একদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্ব এবং অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিঃসন্দেহে দেশের জন্য এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। এই অর্জন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা, কূটনৈতিক প্রভাব এবং বৈশ্বিক পরিসরে দেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে, এমন প্রত্যাশাই দেশবাসীর।

নিউজটি শেয়ার করুন


সর্বশেষ আপডেট

© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz