রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

​যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ : মধ্যস্থতার ভূমিকায় এগিয়ে এলো কাতার

​যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ : মধ্যস্থতার ভূমিকায় এগিয়ে এলো কাতার

বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে মধ্যস্থতার দায়িত্ব এতদিন অনেকটা এককভাবেই পালন করে এসেছে পাকিস্তান। এবার পাকিস্তানের পাশাপাশি এই ভূমিকায় এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারও। বৃহস্পতিবার তেহরান সফরে গিয়েছিলেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল থানি।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা-সংলাপ চালিয়ে যেতে আর আগ্রহী নয় যুক্তরাষ্ট্র। গত ২৪ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অভিযান ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ শুরুর ঘোষণা দেন। এদিন হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত-বিনিময়ের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের (ইরান) সঙ্গে আর কথা বলতে চাই না। (ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে) বৈঠক কিংবা এ জাতীয় কোনো কিছুর পরিকল্পনাও আমাদের নেই।”

তবে আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন. “আমরা চাই, ইরান একটি ফলপ্রসূ আলোচনার সিদ্ধান্ত নিক। যতদিন তা না হচ্ছে, ততদিন আমাদের এই অর্থনৈতিক অভিযান চলবে।”

ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে ঘিরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করে মার্কিন বাহিনী। সেই অভিযান থেকে সূত্রপাত হওয়ার পর প্রায় ৬ মাস পেরিয়েছে যুদ্ধের। এতদিন মার্কিন এবং ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনী পরস্পরকে লক্ষ্য করে অভিযান-পাল্টা অভিযান পরিচালনা করেছে, মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রচেষ্টায় দু’টি যুদ্ধবিরতি চুক্তি করেছে, আবার সেই চুক্তি থেকে বেরিয়ে এসে পরস্পরকে লক্ষ্য করে অভিযানও পরিচালনা করেছে।

তবে ২৪ আগস্ট ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ ঘোষণার কয়েক দিন আগে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানে সামরিক অভিযান পরিচালনার পরিবর্তে দেশটির অর্থনীতির ওপর সীমাহীন চাপ প্রয়োগের নীতি নিয়েছে ওয়াশিংটন।

এমন পরিস্থিতিতেই তেহরান সফর করলেন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র কাতারের প্রধামন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুলরহমান আল-থানি। ওয়াশিংটন ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ ঘোষণার চার দিন পর তেহরানে পৌঁছে দেশটির শীর্ষ আলোচক এবং ক্ষমতসীন ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের অন্যতম মুখপাত্র মোহাম্মদ বাকের ঘালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী এবং সে বৈঠকে ইরানকে ফের কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।   

আল-থানির এ আহ্বানের উত্তরে ঘালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা সম্পূর্ণ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তেহরান ফের কূটনৈতিক আলোচনায় আসতে পারে।

আল-থানি এবং ঘালিবাফের বৈঠকে ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নির্বাহী প্রধান মেজর জেনারেল মোহসিন রেজায়িও ছিলেন। তিনি বলেছেন, ইরান শিগগিরই হরমুজ প্রনালী খুলে দেওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসবে এবং যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই আলোচনা চায়— তাহলে ইরানের হরমুজ বিষয়ক পদক্ষেপ গ্রহণের আগেই তা শুরু করতে হবে।

আলোচনার নামে যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো ‘ষড়যন্ত্র’ করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে কঠোর হামলা পরিচালনা করা হবে বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন রেজায়ি।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী বিদেশি জাহাজগুলো থেকে টোল আদায়ের ঘোষণা দিয়েছিল ইরান। সে সময় গুরুতর আপত্তি জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বলেছিল, প্রাকৃতিক জলপথ থেকে টোল আদায় আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনবিরোধী। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোও এ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সরাসরি সমর্থন জানিয়েছে।

তেহরান সফর শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় আল থানি বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় তিনি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ-নৌযানের মুক্ত চলাচলের ওপর জোর দিয়েছেন। পাশপাশি, তিনি এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণালীর মধ্য দিয়ে একটি অস্থায়ী যৌথ ইরান-ওমানি নৌ-পরিবহন করিডোর স্থাপন এবং মাইন অপসারণের একটি যৌথ প্রকল্প নিয়েও আলোচনা করেছেন।

এদিকে হোয়াইট হাউসের বিদায়ী প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করবেন তখনই ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু হতে পারে, তার আগে নয়। রয়টার্সকে তিনি বলেছেন, “আমরা অপারেশন এপিক ফিউরির মাধ্যমে তাদের সামরিক শক্তিকে ধ্বংস করেছি। এখন আমরা অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট শুরু করেছি। এ অভিযান চলমান থাকবে। বর্তমানে কোনো আলোচনা তাদের সঙ্গে হচ্ছে না এবং প্রেসিডেন্ট যতদিন পর্যন্ত উপযুক্ত সময় নির্ধারণ না করছেন, ততদিন পর্যন্ত কোনো কূটনৈতিক সংলাপ হবে না।” সূত্র : রয়টার্স

ঠিকানা/এসআর

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz