বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের পাশে যুক্তরাষ্ট্র, যেকোনো সহায়তায় প্রস্তুত: সারাহ আলড্রিচ
ঠিকানা অনলাইন
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৩
•
অনলাইন সংস্করণ
ওয়াশিংটন ডিসি প্রতিনিধি : বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের পাশে যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও উন্নয়নে যেকোনো ধরনের সহায়তা দিতে ওয়াশিংটন প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সারাহ আলড্রিচ।
২৮ আগস্ট (শুক্রবার) ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর দ্বিতীয় বার্ষিকীর স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সারাহ আলড্রিচ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থী-জনতার আত্মদানের কথা স্মরণ করে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে একটি নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে এবং যুক্তরাষ্ট্র মনে করে বাংলাদেশ সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নানা জটিলতা অতিক্রম করে অন্তর্বর্তী সরকার অল্প সময়ের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করেছে। এর ফলে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারার নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন মার্কিন এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক ইতোমধ্যে আরও শক্তিশালী হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী।
সারাহ আলড্রিচ বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। কৃষি, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় অগ্রগতি অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বাংলাদেশের ক্রমাগত উন্নতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেন-জি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে পরিবর্তনের সূচনা করেছে, তা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রভাব ফেলেছে। এ কারণে বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান আন্তর্জাতিক পরিসরেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
স্মরণসভার শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জীবনদানকারী শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান, বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনা, রাষ্ট্র ও সমাজের কাঠামোতে গুণগত পরিবর্তন এবং বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক, মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
স্মরণসভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্র ‘জুলাইকন্যা’ প্রদর্শন করা হয়। তথ্যচিত্রটিতে জুলাই আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণ ও অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম গণঅভ্যুত্থানে নিহত সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর (পলিটিক্যাল-২) নাজনীন সুলতানা।