টাইমস স্কয়ারে অভিবাসীদের অবদান উদযাপনে ‘নিউইয়র্ক প্রাউড’
ঠিকানা রিপোর্ট
প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪২
•
অনলাইন সংস্করণ
নিউইয়র্কের অভিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবন, পরিচয় ও অবদান তুলে ধরতে টাইমস স্কয়ারে শুরু হয়েছে বৃহৎ জনশিল্প প্রদর্শনী ‘নিউইয়র্ক প্রাউড’। নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশন, টাইমস স্কয়ার আর্টস ও ফটোভিলের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচি এবার তৃতীয় বছরে পা দিয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত জনসমাগমস্থল টাইমস স্কয়ারে অভিবাসী নিউইয়র্কবাসীর বড় আকারের প্রতিকৃতি ও ব্যক্তিগত গল্প প্রদর্শনের মাধ্যমে শহরের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও সামাজিক জীবনে তাদের অবদান তুলে ধরাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। ফেডারেল পর্যায়ে অভিবাসীদের ঘিরে ক্রমবর্ধমান চাপ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে আয়োজকেরা এ প্রদর্শনীকে তাদের পরিচয় ও অবদান দৃশ্যমান করার একটি সাংস্কৃতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।
নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুরাদ আওয়াদেহ বলেন, ‘নিউইয়র্ক প্রাউড’ একটি মৌলিক সত্য সামনে আনতে চায়—অভিবাসীরাই নিউইয়র্কের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তারা শহরের অর্থনীতিকে সচল রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার সামাজিক বন্ধন শক্তিশালী এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সমৃদ্ধ করছেন।
এবারের প্রদর্শনীর প্রতিকৃতিগুলো তুলেছেন ভেনেজুয়েলান শিল্পী ও ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফার অস্কার বি. কাস্তিলো। তাঁর ছবিতে নিউইয়র্কের বিভিন্ন অভিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের জীবন, পরিচয় ও অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে। কাস্তিলোর ভাষায়, শহরের পরিচিত জনপরিসরে নিজের জীবন ও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব দেখতে পাওয়া মানুষের জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী এক অভিজ্ঞতা।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়রস অফিস অব ইমিগ্র্যান্ট অ্যাফেয়ার্সের কমিশনার ফাইজা এন. আলী বলেন, অভিবাসীরা প্রতিদিন নিউইয়র্কের কমিউনিটি, সংস্কৃতি ও অর্থনীতিকে সচল রাখছেন। বর্তমান ফেডারেল পরিস্থিতিতে তাদের অবদান দৃশ্যমান করার পাশাপাশি নিরাপত্তা ও কল্যাণের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করাও জরুরি।
সিটি কাউন্সিল সদস্য কার্লিনা রিভেরা এবং অ্যাসেম্বলি মেম্বার আমান্ডা এন. সেপটিমোও অভিবাসীদের নিউইয়র্কের পরিচয় ও প্রাণশক্তির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, অভিবাসীদের জীবনসংগ্রাম, ব্যবসা, শিল্প-সংস্কৃতি ও স্বপ্নই নিউইয়র্কের বৈচিত্র্যময় চরিত্র গড়ে তুলেছে।
‘নিউইয়র্ক প্রাউড’ শুধু টাইমস স্কয়ারেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ২৮ আগস্ট থেকে ৭ সেপ্টেম্বর ম্যানহাটনের টাইমস স্কয়ার পেডেস্ট্রিয়ান প্লাজায় প্রদর্শনীর পর ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর ব্রঙ্কসের মিল পন্ড পার্ক, ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২ নভেম্বর কুইন্স মিউজিয়াম সংলগ্ন ফ্লাশিং মেডোজ করোনা পার্ক এবং ৬ থেকে ২৮ অক্টোবর ব্রুকলিনের দ্য প্লাজা অ্যাট ৩০০ অ্যাশল্যান্ডে প্রদর্শনী চলবে।
আয়োজকদের আশা, নিউইয়র্কের পরিচিত জনপরিসরে এসব প্রতিকৃতি ও ব্যক্তিগত গল্প তুলে ধরার মাধ্যমে নগরজীবন, অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে অভিবাসীদের অবদান আরও দৃশ্যমান হবে।