নিউইয়র্কে প্রথম ‘সিটিওয়াইড রেশিয়াল ইক্যুইটি প্ল্যান’
নাশরাত আর্শিয়ানা চৌধুরী
প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২০
•
অনলাইন সংস্করণ
নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চূড়ান্ত ‘সিটিওয়াইড রেশিয়াল ইক্যুইটি প্ল্যান’ প্রকাশ করেছে মেয়র জোহরান কওয়ামে মামদানির প্রশাসন। নগর সরকারের ৪৫টি সংস্থাকে সম্পৃক্ত করে তৈরি এই পরিকল্পনায় আবাসন, শৈশবকালীন শিক্ষা, কে-১২ শিক্ষা, কর্মসংস্থান, বিচারব্যবস্থা, স্বাস্থ্য, পরিবহন ও ডিজিটাল সংযোগ—আটটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে জাতিগত বৈষম্য কমানোর জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০৩৪ সাল পর্যন্ত এসব লক্ষ্যের অগ্রগতি পরিমাপ ও প্রকাশ করা হবে।
মামদানি প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি শুধু বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরার কোনো নীতিপত্র নয়; বরং কোন ক্ষেত্রে কী পরিবর্তন আনা হবে, সেই পরিবর্তন কীভাবে পরিমাপ করা হবে এবং জনগণ কীভাবে প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করবে—তার একটি নগরব্যাপী কাঠামো। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে প্রাথমিক পরিকল্পনা প্রকাশের পর পাঁচ বরোর বাসিন্দাদের কাছ থেকে ৩০ দিন ধরে মতামত নেওয়া হয়। এ সময় ১০টি জনসম্পৃক্ততা অধিবেশন, লিখিত মতামত এবং বিভিন্ন কমিউনিটি নেতার সঙ্গে আলোচনা করা হয়। এরপর ৪৫টি সিটি এজেন্সির সঙ্গে সমন্বয় করে চূড়ান্ত পরিকল্পনায় লক্ষ্য, কৌশল ও অগ্রগতি পরিমাপের সূচক আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।
নিউইয়র্কের এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে ২০২২ সালের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনভোট। ওই গণভোটের মাধ্যমে নগর সরকারকে জাতিগত বৈষম্য শনাক্ত, পরিমাপ এবং তা মোকাবিলায় পরিকল্পনা প্রণয়নের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। আগের প্রশাসনের সময়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই পরিকল্পনা প্রকাশ না হওয়ায় মামদানি প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি আবার অগ্রাধিকার দেয়। জানুয়ারিতে আফুয়া আত্তা-মেনসাহকে প্রধান সমতা কর্মকর্তা ও মেয়রের অফিস অব ইক্যুইটি অ্যান্ড রেশিয়াল জাস্টিসের কমিশনার নিয়োগের সময় মামদানি প্রশাসন প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে প্রাথমিক পরিকল্পনা প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় ক্ষেত্রগুলোর একটি আবাসন। নিউইয়র্কে দীর্ঘদিনের বৈষম্যমূলক আবাসননীতি, গৃহঋণ ও বিনিয়োগের অসম সুযোগ এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর আবাসন থেকে বঞ্চিত হওয়ার ইতিহাসকে পরিকল্পনায় কাঠামোগত বৈষম্যের অন্যতম উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে ভাড়া পরিশোধের চাপ ও গৃহহীনতার ক্ষেত্রে জাতিগত ব্যবধান কমানোর পাশাপাশি নগরজুড়ে সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন নির্মাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আয়সীমাভিত্তিক আবাসনের সুযোগ পাঁচ বরোতেই সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নগর পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক সাইদিয়া শেরম্যানের মতে, ঐতিহাসিক বৈষম্যমূলক আবাসন নীতির প্রভাব মোকাবিলায় এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
শিক্ষাক্ষেত্রেও পরিকল্পনাটি দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়েছে। শৈশবকালীন শিক্ষায় ২০৩৪ সালের মধ্যে সাক্ষরতা, গণিত ও সামাজিক-আবেগীয় বিকাশে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কমানো হবে। একই সঙ্গে প্রাথমিক শৈশব শিক্ষার পরিধি ও মান বাড়ানো এবং শিশু পরিচর্যা কর্মীদের চাকরির মান ও কর্মপরিবেশ উন্নত করার কথা বলা হয়েছে। নগর সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মীদের বড় অংশই রঙিন জনগোষ্ঠীর নারী হওয়ায় শিশু পরিচর্যা ব্যবস্থার উন্নয়নকে শুধু শিক্ষা নয়, কর্মসংস্থান ও জাতিগত সমতার সঙ্গেও যুক্ত করা হয়েছে।
কে-১২ শিক্ষার ক্ষেত্রে নিউইয়র্কের সরকারি স্কুলগুলোকে আরও সমন্বিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থিতিশীল শিক্ষার্থীসংখ্যা, একাডেমিক কর্মসূচি ও বিভিন্ন শিক্ষাসেবায় সমান প্রবেশাধিকার এবং সাংস্কৃতিকভাবে সংবেদনশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে কৃষ্ণাঙ্গ ও লাতিনো শিক্ষার্থী, বহুভাষী শিক্ষার্থী, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীসহ ঐতিহাসিকভাবে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর শিক্ষার ফলাফল উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে কৃষ্ণাঙ্গ, লাতিনো এবং এশিয়ান-আমেরিকান নিউইয়র্কবাসীর বেকারত্বের হার ২০২৬ সালের তুলনায় কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এ জন্য কর্মী উন্নয়ন ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ফলাফল উন্নত করার পাশাপাশি উচ্চ বেকারত্বের এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের মানসম্মত চাকরির সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ডেপুটি মেয়র ফর ইকোনমিক জাস্টিস জুলি সু বলেছেন, আবাসন ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যগুলো কর্মজীবী নিউইয়র্কবাসীর দৈনন্দিন বাস্তবতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
স্বাস্থ্য খাতে কৃষ্ণাঙ্গ নিউইয়র্কবাসীর গর্ভাবস্থা ও প্রসবকালীন স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ মাতৃমৃত্যুর হার কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং জাতি ও জাতিগত পরিচয়ভিত্তিক তথ্য ব্যবহার করে অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের কথা বলা হয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনায় স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে ২০৩৪ সালের মধ্যে প্রত্যেক নিউইয়র্কবাসীর প্রাথমিক চিকিৎসকের কাছে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার বৃহত্তর লক্ষ্যও রাখা হয়েছিল।
বিচারব্যবস্থায় কারাগারে থাকা মানুষের সংখ্যা কমানো এবং কারাবন্দিদের মধ্যে বর্ণগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অতিরিক্ত প্রতিনিধিত্ব কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ছোট আকারের বরো-ভিত্তিক কারাগার ব্যবস্থাকে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনার এই অংশটি নগরীর ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় জাতিগত বৈষম্য কমানোর বৃহত্তর প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত।
পরিবহনেও জাতিগত বৈষম্য কমানোর লক্ষ্য রয়েছে। বিশেষ করে টাস্ক ফোর্স অন রেশিয়াল ইনক্লুশন অ্যান্ড ইক্যুইটি বা টিআরআইই এলাকার পাশাপাশি যেসব জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি পরিবহন সংকটে রয়েছে, সেখানে দ্রুততর, নির্ভরযোগ্য ও সহজপ্রাপ্য বাসসেবা অগ্রাধিকার পাবে। অর্থাৎ পরিবহন অবকাঠামো ও সেবার ঘাটতি কোন জনগোষ্ঠীর ওপর বেশি চাপ তৈরি করছে, তা বিবেচনায় নিয়ে বিনিয়োগের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে।
ডিজিটাল বৈষম্যও পরিকল্পনার আওতায় এসেছে। যেসব এলাকায় বাড়িতে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারের হার কম, সেখানে সংযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে শুধু নগরব্যাপী গড় তথ্যের ওপর নির্ভর না করে পাড়া বা এলাকার ভিত্তিতে তথ্য বিশ্লেষণ করা হবে। ফলে ডিজিটাল সুবিধা থেকে পিছিয়ে থাকা নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী ও এলাকাগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
জাতিগত বৈষম্যের সঙ্গে নিউইয়র্কের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সংকটের সরাসরি সম্পর্কও পরিকল্পনায় তুলে ধরা হয়েছে। এপ্রিল মাসে প্রকাশিত নগরীর ‘ট্রু কস্ট অব লিভিং’ পরিমাপ অনুযায়ী, নিউইয়র্কবাসীর ৬২ শতাংশ প্রকৃত জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর মতো পর্যাপ্ত আয় করতে পারছেন না। এই সংকট সব জনগোষ্ঠীর ওপর সমানভাবে পড়ছে না। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জীবনযাত্রার প্রকৃত ব্যয় বহনে অক্ষমতার হার শ্বেতাঙ্গ নিউইয়র্কবাসীর ক্ষেত্রে ৪৪ শতাংশ হলেও কৃষ্ণাঙ্গদের ক্ষেত্রে তা ৬৬ শতাংশ এবং হিস্পানিক নিউইয়র্কবাসীর ক্ষেত্রে ৭৮ শতাংশ। এশিয়ান ও প্যাসিফিক আইল্যান্ডার জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রেও হার ৬৩ শতাংশ।
প্রাথমিক রেশিয়াল ইক্যুইটি পরিকল্পনায় আরও বিস্তৃতভাবে দেখা হয়েছিল নিউইয়র্কে সম্পদ ও সুযোগের বৈষম্য কতটা গভীর। নগর সরকারের তথ্য অনুযায়ী, শ্বেতাঙ্গ নিউইয়র্কবাসীর মধ্যম পারিবারিক নিট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ৭৬ হাজার ৯০০ ডলার, যেখানে কৃষ্ণাঙ্গ নিউইয়র্কবাসীর ক্ষেত্রে তা প্রায় ১৮ হাজার ৮৭০ ডলার—অর্থাৎ প্রায় ১৫ গুণের ব্যবধান। একইভাবে জীবন প্রত্যাশার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে; কৃষ্ণাঙ্গ নিউইয়র্কবাসীর গড় জীবন প্রত্যাশা ৭৬ দশমিক ১ বছর, যেখানে শ্বেতাঙ্গদের ক্ষেত্রে তা ৮১ দশমিক ৮ বছর।
মেয়র মামদানি বলেছেন, নিউইয়র্কবাসীর কাছ থেকেই জানা হয়েছে তারা কোন বিষয়গুলোকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন এবং সেই দাবির ভিত্তিতেই পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে। তার মতে, এতদিন সরকার বৈষম্যের অস্তিত্ব স্বীকার করলেও তা দূর করার জন্য যথেষ্ট সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করেনি। নতুন পরিকল্পনায় লক্ষ্যগুলো নির্দিষ্ট, পরিমাপযোগ্য ও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। ফলে প্রশাসনকে শুধু প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে নয়, বাস্তব ফলাফলের ভিত্তিতেও মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।
প্রধান সমতা কর্মকর্তা আফুয়া আত্তা-মেনসাহ বলেন, জনমত গ্রহণের সময় নিউইয়র্কবাসী স্পষ্টভাবে ভিত্তিমূলক তথ্য, জবাবদিহি এবং কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন। শুধু প্রশিক্ষণ বা জনসম্পৃক্ততা কর্মসূচি দিয়ে বৈষম্য দূর করা সম্ভব নয়; মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনতে হবে। এই পরিকল্পনায় সেই বাস্তব পরিবর্তনের জন্য লক্ষ্য ও পরিমাপের কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।
পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে নগর সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়। ৪৫টি সিটি এজেন্সির নিজস্ব লক্ষ্য, কৌশল ও অগ্রগতি পরিমাপের সূচক এই কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। মেয়রের অফিস অব ইক্যুইটি অ্যান্ড রেশিয়াল জাস্টিস প্রতি দুই বছর পরপর আটটি নগরব্যাপী লক্ষ্যের অগ্রগতি প্রকাশ করবে। পাশাপাশি এনওয়াইসি কমিশন অন রেশিয়াল ইক্যুইটি বা কোর স্বাধীন জবাবদিহিমূলক অংশীদার হিসেবে বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে ভূমিকা রাখবে।
নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক অ্যাডভোকেট জুমানে ডি. উইলিয়ামস পরিকল্পনাটিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, কৃষ্ণাঙ্গ ও ব্রাউন জনগোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিনের জাতিগত বৈষম্য নগরীর প্রতিভা ও সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ডেপুটি স্পিকার নানতাশা উইলিয়ামসও বলেছেন, পরিকল্পনাটি বহু বছরের আন্দোলন ও নিউইয়র্কবাসীর দাবির ফল। তবে এর প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে মানুষ তাদের নিজ নিজ পাড়া ও দৈনন্দিন জীবনে কতটা দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছেন তার ওপর।
কুইন্সের মতো অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় বরোর জন্য এই উদ্যোগের গুরুত্ব বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। কুইন্স ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের নির্বাহী পরিচালক বেন গুটম্যানের মতে, বরোর অর্ধেকের বেশি মানুষ বাড়িতে ইংরেজি ছাড়া অন্য ভাষায় কথা বলেন এবং প্রায় অর্ধেক বাসিন্দা বিদেশে জন্মগ্রহণ করেছেন। এমন বহুভাষিক ও বহুজাতিক জনগোষ্ঠীর নগরে সরকারি সেবা, বিনিয়োগ ও সুযোগের ক্ষেত্রে সমতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিউইয়র্কের প্রথম সিটিওয়াইড রেশিয়াল ইক্যুইটি প্ল্যান তাই কেবল একটি প্রশাসনিক দলিল নয়; এটি নগর সরকারের নীতি, বাজেট, সেবা প্রদান এবং জবাবদিহির পদ্ধতিতে জাতিগত সমতাকে আরও কেন্দ্রীয়ভাবে যুক্ত করার একটি প্রচেষ্টা। আগামী আট বছরে আবাসন থেকে স্কুল, কর্মসংস্থান থেকে মাতৃস্বাস্থ্য, পরিবহন থেকে ইন্টারনেট—প্রতিটি ক্ষেত্রে নির্ধারিত সূচকে কতটা অগ্রগতি হয়, সেটিই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে মামদানি প্রশাসনের এই উদ্যোগ বাস্তবে কতটা পরিবর্তন আনতে পেরেছে। নগর সরকার বলছে, পরিকল্পনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বৈষম্যকে শুধু স্বীকার করা নয়, সেটি কমানোর জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ এবং সেই অগ্রগতি জনগণের সামনে প্রকাশ করা।