সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

​ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কাছে জলবায়ু ক্ষতিপূরণ দাবি নেপালের

​ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কাছে জলবায়ু ক্ষতিপূরণ দাবি নেপালের

বিজ্ঞাপন
ভয়াবহ বন্যায় ১ হাজার জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর পর ভারত, চীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জলবায়ু ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে নেপাল। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল সহায়তাকে ‘করুণা নয়, নৈতিক দায়বদ্ধতা’ উল্লেখ করে এই আহ্বান জানান। 

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে টাইমস নাউ।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানান, বিশ্বজুড়ে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমনে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা দেশগুলোর নেপালের মতো ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঐতিহাসিক দায়িত্ব রয়েছে। 

গত ২৬ আগস্ট চীন সীমান্ত সংলগ্ন নেপালের রসুয়া জেলায় হিমবাহ ধসে ভয়াবহ বন্যা হয়। এতে নেপালে ১ হাজার ১১৪ জন এবং চীন অংশে ১৬ জনসহ মোট ১১৩০ জন নিহত হন এবং প্রায় ৪ হাজার ৫০০ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে জানায়, হিমবাহ ধসে যাওয়ার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে, যেখানে কোনো বৃষ্টিপাত না থাকায় বাসিন্দারা কোনো পূর্ব সতর্কবার্তা পাননি। কান্তিপুর টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খানাল এটিকে ‘পাহাড়ি সুনামির’ সঙ্গে তুলনা করে বলেন, বৈশ্বিক নির্গমনে নেপালের অবদান মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য চার শতাংশ হলেও দেশটি অন্যদের তৈরি করা সংকটের চরম মূল্য দিচ্ছে।

নেপালের জলবায়ু কূটনীতিতে পরিবর্তন এনে দান পাওয়ার পরিবর্তে ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবি তোলা হচ্ছে। খানাল বলেন, ‘এটি কোনো করুণার বিষয় নয়; এটি আইনগত ও নৈতিক দায়বদ্ধতার বিষয়।’ নেপাল ইতিমধ্যেই তাদের আন্তর্জাতিক সহযোগীদের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি পাঠিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে।

ইউরোপীয় কমিশনের ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের ৬১ দশমিক ৮ শতাংশের জন্য চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া যৌথভাবে দায়ী ছিল। তবে ভারত বরাবরই মাথাপিছু কম নির্গমনের কথা উল্লেখ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তার জোর দাবি জানিয়ে আসছে।

ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের বিশেষজ্ঞ শাস্বত স্যান্যাল এবং জাতিসংঘের জলবায়ু আলোচক মনজিৎ ধকাল জানান, নেপাল মোট নির্গমনের শূন্য দশমিক এক শতাংশেরও কম দায়ী হলেও মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হচ্ছে। তারা জলবায়ু পরিবর্তনকারী দেশগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার এবং কার্বন নির্গমন কমানোর আহ্বান জানান। সূত্র: টাইমস নাউ

ঠিকানা/এসআর

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz