সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ :
• প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাইকার প্রেসিডেন্টের সৌজন্য সাক্ষাৎ • রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কার না হলে তারেক রহমানও একই পথে হাঁটবেন : নাহিদ ইসলাম • ৭ নভেম্বর উপলক্ষে বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা • ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ চাই’ লিখে পোস্ট করে বহিষ্কার যুবদল নেতা • কেরাণীগঞ্জে প্লাস্টিক কারখানায় আগুনে একজনের মৃত্যু • দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু • আজকের শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে : রাষ্ট্রপতি • মোহাম্মদপুরে ট্রাক চালক হোসেন হত্যা: হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিচার শুরু • সরকার অনুমতি দিলে ‘ক্রসফায়ার’ করবে পুলিশ: আইজিপি • বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

​তরুণদেরকে পণ্য নয়, মানবসম্পদে রূপান্তর করে বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রেরণ করুন

​তরুণদেরকে পণ্য নয়, মানবসম্পদে রূপান্তর করে বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রেরণ করুন

বিজ্ঞাপন
একটি দেশের সবচেয়ে বড় বিপদের সংকেত তখনই দৃশ্যমান হয়, যখন তার তরুণেরা বলতে শুরু করে, ‘এই দেশে আমার কোনো ভবিষ্যৎ নেই।’ এই বাক্যটি কেবল একটি তরুণের হতাশা নয়; এটি রাষ্ট্রের অর্থনীতি, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে একটি কঠিন প্রশ্ন। বাংলাদেশে সেই প্রশ্ন এখন আর উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। শিক্ষিত বেকারত্ব, নিম্নমানের কর্মসংস্থান, রাজনৈতিক ও সামাজিক অনিশ্চয়তা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যে তরুণদের একটি অংশ বিদেশে যাওয়াকে ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রধান পথ হিসেবে দেখছে। কিন্তু এখানেই বাংলাদেশের দ্বিতীয় সংকট—বিদেশে যাওয়ার পথটিও দুর্নীতি, দালাল, সিন্ডিকেট ও প্রশাসনিক জটিলতায় আক্রান্ত।

শিক্ষিত হচ্ছে তরুণ কিন্তু কর্মসংস্থান কোথায়?

‘বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো’র ‘শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪’ অনুযায়ী, বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়-শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা প্রায় ৮.৮৫ লাখ এবং স্নাতকদের বেকারত্বের হার ১৩.৫ শতাংশ। জাতীয় বেকারত্বের হার যেখানে ৪.৪৮ শতাংশ, সেখানে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের এই হার আমাদের শিক্ষা ও অর্থনীতির মধ্যে গভীর অসামঞ্জস্যের প্রমাণ তুলে ধরে।

অর্থাৎ সমস্যা শুধু এটা নয়, চাকরি নেই; বরং সমস্যা হলো, যে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, অর্থনীতি তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কাজ তৈরি করছে না। ফলে তরুণদের সামনে এখন দুটি পথ খোলা : ১। চাকরির জন্য দেশে দীর্ঘ অপেক্ষা করা আর ২। চাকরির উদ্দেশ্যে বিদেশে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা করা।

২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে ১১ লাখ ৩০ হাজার ৭৫৭ জন বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য গেছেন; যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১১.৭ শতাংশ বেশি। কিন্তু এই বিপুল শ্রমশক্তি পাঠানোর সাফল্যের আড়ালে রয়েছে একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন; আর তা হলো একজন বাংলাদেশি শ্রমিক বিদেশে যেতে কত টাকা খরচ করেন, আর সেই টাকার কতটা আসলে তাঁর চাকরি পাওয়ার মূল্য?

বাংলাদেশের অভিবাসন-ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো বহুস্তরীয় মধ্যস্বত্বভোগী। বিদেশি চাকরিদাতা→রিক্রুটিং এজেন্সি→দেশীয় এজেন্সি→সাব এজেন্ট→স্থানীয় দালাল; এই দীর্ঘ শৃঙ্খলের প্রতিটি স্তরে কমিশন যোগ হয়। ফলে বিদেশে যে চাকরির প্রকৃত নিয়োগ ব্যয় তুলনামূলক কম; বাংলাদেশের একজন শ্রমিকের কাছে সেটিই কয়েক লাখ টাকার প্রকল্পে পরিণত হয়।

IOM-এর গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের অভিবাসন-প্রক্রিয়ায় উচ্চ ব্যয়ের বড় অংশ দালাল ও এজেন্সি-নির্ভর ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত এবং IOM সরাসরি বলেছে, উচ্চ অভিবাসন মূল্যের সুবিধা অনেক সময় বাংলাদেশ ও গন্তব্য দেশের এজেন্সি ও দালালরাই পায়।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, ILO-এর একটি ‘বাংলাদেশি রিক্রুটমেন্ট রিফর্ম’ প্রকল্পে দেখা গেছে, স্বচ্ছ ও এমপ্লয়ার পেইড রিক্রুটমেন্ট মডেল ব্যবহার করে কাতারের নির্মাণশিল্পে বাংলাদেশি কর্মীদের গড় অভিবাসন ব্যয় ৯২ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হয়েছিল। অর্থাৎ উচ্চ অভিবাসন ব্যয় কোনো প্রাকৃতিক বাস্তবতা নয়; বরং ব্যবস্থার সংস্কার করলে তা নাটকীয়ভাবে কমানো সম্ভব।

দুর্নীতির আরেক নাম—অদৃশ্য অভিবাসন কর। বিদেশে যেতে একজন কর্মীকে পাসপোর্ট, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, মেডিকেল টেস্ট, প্রশিক্ষণ, বিএমইটি ছাড়পত্র, কাগজপত্র সত্যায়ন, ভিসা প্রক্রিয়াকরণ—এসব বিভিন্ন ধাপ পার হতে হয়। প্রতিটি ধাপ যদি স্বচ্ছ ও ডিজিটাল না হয়, তাহলেই দালালের প্রয়োজন তৈরি হয়। সরকারি সেবার নির্ধারিত ফি যদি দালালের মাধ্যমে কয়েক গুণে পরিণত হয়, সেটিই হয়ে ওঠে অদৃশ্য অভিবাসন কর। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ভুয়া চাকরির নিয়োগপত্র, বেতন গোপন করা, অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ, ভিসা ট্রেডিং, চুক্তি প্রতিস্থাপন এবং কখনো কখনো সরকারি-বেসরকারি যোগসাজশের অভিযোগ।

মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা আমাদের বিপুল সম্ভাবনাময় শ্রমবাজারের জন্য সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা। ২০২২ সালের পর ৪ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মী প্রায় ১০০টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে কেন্দ্র করে গঠিত একটি সিন্ডিকেট-ব্যবস্থার মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় যান। পরবর্তী সময়ে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মী কাজ না পাওয়া, কম বেতন বা বেতন না পাওয়ার সমস্যায় পড়েন। একটি দেশের রিক্রুটমেন্ট সিস্টেমের অনিয়ম যে শুধু শ্রমিকের ক্ষতি করে তা নয়; একটি সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারও নষ্ট করতে পারে; আর মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা তার জ্বলন্ত উদাহরণ।

মধ্যপ্রাচ্য : বিশাল বাজার কিন্তু সেই একই পুরোনো কৌশল। বাংলাদেশের জন্য মধ্যপ্রাচ্য এখনো সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার। ILO-এর তথ্য অনুযায়ী, GCC দেশগুলোতে অভিবাসন কর্মী মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ৭৬ থেকে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত। অর্থাৎ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইনের অর্থনীতি বিদেশি শ্রমের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। বাংলাদেশের জন্য সুযোগ শুধু নির্মাণশিল্প বা গৃহস্থালি কাজেই সীমাবদ্ধ নয়। Healthcare, caregiving, logistics, hospitality, transportation, facility management, engineering, electrical, welding, plumbing, refrigeration, IT এবং technical maintenance-এও দিন দিন কাজের সুযোগ বাড়ছে। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো প্রধানত সংখ্যা বাড়ানোর শ্রম রপ্তানি করছে। আমাদের প্রয়োজন মূল্য বাড়ানোর শ্রম রপ্তানি। এক লাখ অদক্ষ শ্রমিকের চেয়ে এক লাখ দক্ষ শ্রমিকের আয়, নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি বাজারমূল্য অনেক বেশি।

ইউরোপ ও মধ্য এশিয়া : এটিই আগামী দিনের কৌশলগত বাজার। ILO-এর ২০২৪ সালের বৈশ্বিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালে ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ায় প্রায় ৫৪.২ মিলিয়ন আন্তর্জাতিক অভিবাসী কর্মী শ্রমবাজারে সক্রিয় ছিলেন। বিশ্বজুড়ে migrant workers-এর প্রায় এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি এই অঞ্চলে কাজ করেন।

এ অঞ্চলের বহু দেশে জনসংখ্যা দ্রুত বয়স্ক হচ্ছে এবং healthcare, elderly care, construction, manufacturing, transportation, hospitality I technical occupations-এ শ্রমিকের চাহিদা তৈরি হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের সমস্যা হলো আমরা এই বাজারের জন্য প্রয়োজনীয় language, certification, licensing এবং skill recognition infrastructure এখনো যথেষ্টভাবে গড়ে তুলিনি। তাই ইউরোপের বাজারে ‘শ্রমিক পাঠানো’ নয়, বাংলাদেশের লক্ষ্য হওয়া উচিত ‘certified skilled workforce পাঠানো’।

এখনই প্রয়োজন ১০ দফা National Labour Migration Reform Plan
1. Migration Cost Ceiling.
প্রতিটি দেশের জন্য সরকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ অভিবাসন ব্যয় প্রকাশ করতে হবে এবং এর বাইরে অর্থ নেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে।

২. Zero-Cash Recruitment:
নিয়োগ-সংক্রান্ত সব অর্থ ব্যাংক বা ডিজিটাল মাধ্যমে দিতে হবে। নগদ লেনদেন বন্ধ করতে হবে।

৩. Single Digital Migration Platform:
BMET, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, recruiting agency, training centre, medical centre ও বাংলাদেশ মিশনকে একই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনতে হবে।

৪. Job Order Transparency:
বিদেশি employer-এর চাকরির বেতন, contract, accommodation, কাজের ধরন ও মোট সরমৎধঃরড়হ পড়ংঃ প্রকাশ্যে দেখাতে হবে।

৫. Licensed Agent Reform:
দালাল ব্যবস্থাকে অন্ধভাবে নিষিদ্ধ না করে প্রত্যেক sub-agent-কে নিবন্ধিত, biometric-ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থায় আনতে হবে।

৬.Recruitment Syndicate ভাঙা:
কোনো একটি দেশ বা employer-এর recruitment কয়েকটি ধমবহপু-র হাতে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। প্রতিযোগিতামূলক ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

৭. Global Labour Market Intelligence Unit:
প্রতিটি দেশে আগামী পাঁচ বছরে কোন দক্ষতার কত শ্রমিক প্রয়োজন—এমন পূর্বাভাস তৈরির জন্য একটি বিশেষ রাষ্ট্রীয় গবেষণা ইউনিট গঠন করতে হবে।

৮. Skill Passpor:
প্রতিটি কর্মীর জন্য Digital skill passport থাকবে; training, certification, experience, language proficiency I employer rating সহ।

৯. Skilled Migration Diplomacy:
সৌদি আরব ও GCC-এর পাশাপাশি ইউরোপ, মধ্য এশিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় বাজারে government-to-government labour agreement বাড়াতে হবে।

১০. Migration Ombudsman:
বিদেশে যাওয়ার আগে বা পরে প্রতারণার শিকার কর্মীদের জন্য স্বাধীন Migration Ombudsman বা ‘অভিবাসন ন্যায়পাল’ ও ‘অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা’ গড়ে তুলতে হবে। এককথায় এ বিষয়ে রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গিই বদলাতে হবে। বাংলাদেশকে আর শুধু ‘জনশক্তি রপ্তানিকারক দেশ’ হিসেবে ভাবলে চলবে না। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত বাংলাদেশ হবে দক্ষ মানবসম্পদ রপ্তানিকারক দেশ। যে তরুণ আজ দেশে চাকরি পাচ্ছে না, তাকে শুধু বিদেশ যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া যাবে না। তাকে এমন দক্ষতা দিতে হবে, যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে তার মূল্য বাড়ে। আর যে বিদেশে যাবে, তার কাছ থেকে দালাল-সিন্ডিকেট নয়; রাষ্ট্র তার অধিকার নিশ্চিত করবে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে ১১.৩ লাখের বেশি বিদেশগামী কর্মী এবং বিপুল remittance প্রবাহ প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার দেশের অর্থনীতির একটি প্রধান স্তম্ভ। কিন্তু এই স্তম্ভের ভিত্তি যদি দুর্নীতি হয়, তাহলে একদিন এই শক্তিশালী বাজারও ক্রমান্বয়ে হারানোর ঝুঁকি থাকবে। অন্যদিকে যদি ভিত্তি হয় দক্ষতা, স্বচ্ছতা, প্রযুক্তি ও শ্রম-কূটনীতি, তবে অভিবাসন বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী মানবসম্পদ ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের কৌশলে পরিণত হতে পারে। তাই তরুণদের দেশ ছাড়ার আকাঙ্ক্ষা থামানোর চেষ্টা নয়; দেশকে এমনভাবে প্রস্তুত করাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব, যাতে তরুণরা বাধ্য হয়ে নয়, তাদের নিজস্ব দক্ষতা ও পছন্দ নিয়ে অভিবাসন বিশ্বে পদার্পণ করে। আর সবচেয়ে বড় কথা, বিদেশে যাওয়ার আগে যেন কোনো বাংলাদেশি তরুণের প্রথম প্রতিপক্ষ রাষ্ট্র না হয়। দালাল নয়, রাষ্ট্র তার পথ দেখাবে। সিন্ডিকেট নয়, বাজার তার মূল্য নির্ধারণ করবে। ঘুষ নয়, প্রযুক্তি তার সেবা নিশ্চিত করবে। আর অদক্ষতা নয়, দক্ষতাই হবে বাংলাদেশের নতুন অভিবাসন কূটনীতির মূল শক্তি। কারণ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি পণ্য পণ্য নয়—বাংলাদেশের মানুষ। আর মানুষকে পণ্য বানিয়ে নয়, মানবসম্পদে পরিণত করেই বাংলাদেশকে বিশ্ব শ্রমবাজারে জয়ী হতে হবে। লেখক : কবি, রাষ্ট্রচিন্তক ও পর্যটন বিশেষজ্ঞ।

নিউজটি শেয়ার করুন


সর্বশেষ আপডেট

 
© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz