প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর, শ্রমবাজার খোলা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর আশা
ঠিকানা অনলাইন
প্রকাশ : ২০ জুন ২০২৬, ০১:২২
•
অনলাইন সংস্করণ
ছবি সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোববার (২১ জুন) মালয়েশিয়া সফরের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফর শুরু করছেন। ২২ জুন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে শ্রমবাজার পুনরায় চালু, প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার বিষয়ে এ সফরে ইতিবাচক অগ্রগতি হতে পারে। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। শ্রমবাজার চালুর পাশাপাশি কর্মী নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও সিন্ডিকেটমুক্ত ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।
মালয়েশিয়া সফর শেষে ২৩ জুন প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে যাবেন। সেখানে তিনি দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্স’-এ অংশ নেবেন এবং পরে বেইজিংয়ে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করবেন। চীন সফরে বাংলাদেশ অবকাঠামো উন্নয়ন, সেতু, উড়ালসড়ক, পাতাল রেলসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা চাইবে বলে জানা গেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চীনের সঙ্গে শিক্ষা, কৃষি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও উন্নয়ন সহযোগিতাসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ১৫টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হতে পারে। একই সঙ্গে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগ, সবুজ উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং বাংলাদেশি পণ্যের চীনা বাজারে প্রবেশাধিকারের বিষয়েও আলোচনা হবে।
অন্যদিকে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সংস্কৃতি ও তথ্য-সম্প্রচার খাতে দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া সন্ত্রাস দমন, মুক্ত বাণিজ্য আলোচনা এবং অন্যান্য সহযোগিতামূলক বিষয়ে নথি বিনিময় হতে পারে।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো আশা করছে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর পথ সুগম করবে। তবে শ্রমিক নিয়োগে অতীতের সিন্ডিকেটভিত্তিক দুর্নীতি যেন ফিরে না আসে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর বাংলাদেশের অর্থনীতি, বৈদেশিক কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।