Thikana News
২৯ অগাস্ট ২০২৫
  1. ই-পেপার
  2. চলতি সংখ্যা
  3. বিশেষ সংখ্যা
  4. প্রধান সংবাদ
  5. আমেরিকার অন্দরে
  6. বিশ্বচরাচর
আমেরিকা শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫

জ্বালানি তেল সরবরাহের নতুন যুগে বাংলাদেশ

জ্বালানি তেল সরবরাহের নতুন যুগে বাংলাদেশ ছবি সংগৃহীত
পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহের নতুন যুগে ঢুকছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রাম থেকে ২৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ ১৬ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপলাইনে পরিবেশবান্ধব, ঝুঁকিমুক্ত, পরিবহন ব্যয় ও সময় সাশ্রয়ী মাত্র ১২ ঘণ্টায় ৫০ লাখ লিটার তেল ঢাকা অঞ্চলে পৌঁছাবে। বাসস

আগামী শনিবার (১৬ আগস্ট) ৩ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকার এই প্রকল্প আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হচ্ছে। চট্টগ্রাম-ঢাকা জ্বালানি পাইপলাইন দেশের জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে একাধিক সফল পরীক্ষামূলক চালান সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

বিপিসি কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রথমে রিফাইন ডিজেল নেওয়া হবে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার ৯টি ট্যাংকে। সেখান থেকে ডিজেল যাবে ডেসপাস টার্মিনালে, এরপর পাম্পিংয়ের মাধ্যমে কুমিল্লা হয়ে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লায় পৌঁছাবে। এতে বছরে অন্তত ৩০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। এসব তেল পরিবহনে শতাধিক কোস্টাল ট্যাংকারে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগত। এখন ১২ ঘণ্টায় জ্বালানি তেল নারায়ণগঞ্জের ডিপোতে পৌঁছাবে।

২০১৮ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) অর্থায়নে শুরু হওয়া ৩ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের মার্চে শেষ হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা থেকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ পর্যন্ত ১৬ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের ২৪২ কিলোমিটার এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে ফতুল্লা পর্যন্ত ১০ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের আরও ৮ কিলোমিটার পাইপ বসানো হয়েছে। এ ছাড়া কুমিল্লায় পেট্রোলিয়াম ডিপো স্থাপনসহ সিদ্ধিরগঞ্জে পদ্মা অয়েল ও মেঘনা পেট্রোলিয়ামের এবং ফতুল্লায় যমুনা অয়েল ও মেঘনা পেট্রোলিয়ামের রিজার্ভার বসানো হয়েছে।

এ বিষয়ে পেট্রোলিয়াম ট্রান্সমিশন কোম্পানির প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মো. আমিনুল হক জানান, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লার ডিপো থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন ডিপোতে জ্বালানি পাঠানো যাবে। চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জে জ্বালানি পৌঁছাতে মাত্র ১২ ঘণ্টা সময় লাগবে।

বিপিসির কর্মকর্তারা জানান, পদ্মা অয়েল কোম্পানির তত্ত্বাবধানে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের বাস্তবায়নে নির্মিত এ প্রকল্পে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে, পতেঙ্গার নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকেই পুরো পাইপলাইনের তেল সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে। বছরে এই প্রকল্প থেকে ৩২৬ কোটি টাকা আয় হবে। এর মধ্যে ৯০ কোটি টাকা খরচ হলেও কমবে অন্তত ২৩৬ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল পর্যন্ত ডিজেল সরবরাহের একাধিক সফল ট্রায়াল হয়েছে জানিয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান বলেন, এই পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল লেনদেনের সময় নিয়ন্ত্রণ কক্ষে বসেই পুরো পাইপ লাইনের তেল সরবরাহ মনিটর করা যাবে। আগামী শনিবার (১৬ আগস্ট) এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন জ্বালানি উপদেষ্টা মোহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। এতে  বিশেষ অতিথি থাকবেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ মেজর জেনারেল মু. হাসান-উজ-জামান। উদ্বোধনের পর নদীপথে অয়েল ট্যাংকারের পরিবর্তে পাইপলাইনেই নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা ডিপোতে জ্বালানি তেল পাঠানো হবে।

তিনি আরও বলেন, গত জুনের শেষ দিকে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে নারায়ণগঞ্জে ৩২ হাজার টন পরিশোধিত ডিজেল তিন দিনে সফলভাবে সরবরাহ করা হয়। প্রকল্প চালুর পর থেকে চাহিদা অনুযায়ী, সাড়ে চার কোটি লিটার তেল পরিবহন করেছে এই পাইপলাইন। এখন এটি বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

জানা যায়, প্রি-কমিশনিংয়ের পাশাপাশি সেন্ট্রাল অটোমেশন, টেলিকমিউনিকেশন ও ফাইন টিউনিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে তিন কোটি লিটার তেল পাইপলাইনে প্রবেশ করানো হয়েছে। আগে শতাধিক কোস্টাল শিপে এসব তেল পরিবহন হলেও এখন পাইপলাইনে সময় বাঁচবে অন্তত দেড় দিন।

সম্পূর্ণভাবে চালু হলে চট্টগ্রাম-ঢাকা জ্বালানি পাইপলাইন দেশের জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি জ্বালানি সরবরাহের সময় কমাবে, সড়কপথে যানজট হ্রাস করবে, পরিবহন ব্যয় কমাবে এবং তেলবাহী ট্যাংকারে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও অনেকাংশে কমিয়ে আনবে।

ঠিকানা/এনআই

কমেন্ট বক্স