অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন চাইছে। তারা হয়তো সামগ্রিক জটিলতা থেকে মুক্ত হতে চলে যেতে চাইছে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় এই সরকারের পক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচন করা অসম্ভব। এসব কথা বলেছেন কবি ও তাত্ত্বিক ফরহাদ মজহার।
ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন টকশোতে তিনি আরো বললেন, নির্বাচনে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে প্রচুর দাঙ্গা-হাঙ্গামার আশঙ্কা রয়েছে। সেনাবাহিনী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা নিয়ে এক বছর ধরে মাঠে আছে। কিন্তু নির্বাচনী দাঙ্গা ঠেকাতে প্রাতিষ্ঠানিক আরো শক্তির প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে পুলিশ সংস্কার হয়নি। নির্বাচন পরিচালনায় প্রশিক্ষিত লোকবলের ঘাটতি রয়ে গেছে। প্রশাসনিক আরো নানা দুর্বলতা নিয়ে কীভাবে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব? এমন প্রশ্ন সামনে রাখেন রাষ্ট্র ও রাজনীতির অন্যতম তাত্ত্বিক ফরহাদ মজহার।
২১ আগস্ট বৃহস্পতিবার ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন ইউটিউব চ্যানেলের এই টকশোটিতে একক অতিথি হিসেবে ছিলেন তিনি। যা সরাসরি সম্প্রচারিত হয় নিউইয়র্ক সময় বেলা ১১টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা)। দেশের সমসাময়িক রাজনীতি, সরকার, সংবিধান, নির্বাচন, মুক্তিযুদ্ধ- নানা বিষয়ে ঠিকানা টিভির প্রধান সম্পাদক খালেদ মুহিউদ্দীনের প্রশ্নের জবাব দেন রাষ্ট্র চিন্তক ফরহাদ মজহার।
সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের মধ্যে এক ধরনের দূরত্ব রয়েছে, প্রায়ই এমন আলোচনা সামনে আসছে। এর সত্যতা রয়েছে বলে মনে করেন কবি ও তাত্ত্বিক ফরহাদ মজহার। তার ভাষ্যমতে, ‘তাদের মধ্যে দূরত্ব কমানোর চেষ্টা নেই। দুজনেই বিষয়টি টিকিয়ে রেখেছেন। এটা ভালো নয়। অথচ দূরত্বটা মিটিয়ে ফেলা দরকার ছিল।’
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর মাঠের রাজনীতিতে বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী অনেক বেশি সক্রিয়। সরকারেও তাদের অনেক প্রভাব স্পষ্ট। কিন্তু একাত্তরে জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, এই আলোচনাও হারিয়ে যায়নি। এ প্রসঙ্গে লেখক ও দার্শনিক ফরহাদ মজহার বলেন, তাদের প্রথম কাজটা হবে জামায়াতে ইসলামী নামটা বাদ দিয়ে নতুন নামে রাজনীতি করা। কারণ তারা এই নামে থাকলে আওয়ামী লীগ আবার ফিরে আসবে। জামায়াতের নামে রাজনীতিতে থাকলে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির লড়াইটা মুখ্য থাকে। এতে আওয়ামী লীগ আবার প্রাসঙ্গিক হয়ে যায় বলে তিনি মনে করেন।
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে বর্তমান সরকার। তাদের ছাড়াই জাতীয় নির্বাচন করার দিকে যেতে চাইছে সরকার। দলটির ফিরে আসার কোনো সুযোগ রয়েছে কি না- জানতে চাইলে ফরহাদ মজহার বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নিজেকে আগে বদলাতে হবে। তাদের অনুশোচনা করতে হবে। ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। কিন্তু তাদের মধ্যে তো আত্মসমালোচনা দেখা যাচ্ছে না। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক অবদান আছে। তারা রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দেখাতে পারলে ফিরে আসবে। নয়তো মুসলিম লীগ, ন্যাপের মতোই ঐতিহাসিকভাবে বিলুপ্তির দিকে এগিয়ে যাবে, এ নিয়ে হায় হায় করার কিছু নেই।’
আলোচনার একপর্যায়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মূল্যায়ন করেন ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, ‘এনসিপির তরুণেরা একটা গণঅভ্যুত্থান করেছে। তাদের প্রতি আমাদের সহানুভূতি থাকবে। চব্বিশের আন্দোলনে এনসিপির ঐতিহাসিক যে গুরুত্ব সেই স্বীকৃতি অবশ্যই দিতে হবে।’
তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যারা সরকারের উপদেষ্টা হয়েছেন, তারা উপদেষ্টা হিসেবে সফল নন বলে মনে করেন কবি ও তাত্ত্বিক ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, ৮ আগস্ট সরকারে না গিয়ে তরুণদের উচিত ছিল গণঅভ্যুত্থান সচল রাখা। সেটা তারা করেনি। আবার পেশাদারিত্বের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ও চালাতে পারছে না। বিষয়টি জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক। কারণ আগামীতে তাদেরই জাতির হাল ধরার কথা- বলেন তিনি।
ঠিকানা/এএস