এনসিপির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর সমালোচনা করতে গিয়ে, তাকে ‘ফকিন্নির বাচ্চা’ বলেছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক রুমিন ফারহানা। এ ধরনের শব্দ চয়ন ঠিক হয়নি। এটা অবশ্যই ‘এক্সপাঞ্জ’ হওয়ার মতো শব্দ। ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন টকশোতে এসব কথা বলেছেন বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সহ-সম্পাদক নিলোফার চৌধুরী মনি। তবে আগে হাসনাত যেভাবে রুমিনকে দিল্লিতে শেখ হাসিনার কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন, সেটাও ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে দলীয় সহকর্মীর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে নিলোফার চৌধুরী মনি বলেন, ‘কাউকে জবরদস্তি করে দিল্লি পাঠানোর হুমকি দেওয়ার বিষয়টি খারাপ। এমন কথা শুনলে মাথা ঠিক রাখা কঠিন। সে কারণেই হয়তো রুমিন এভাবে জবাব দিয়েছেন।’
২৬ আগস্ট মঙ্গলবার এই টকশোতে অতিথি হিসেবে আরো ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মির্জা গালিব। নিউইয়র্ক সময় বেলা ১১টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা) আলোচনা অনুষ্ঠানটি সরাসরি দেখা গেছে ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন ইউটিউব চ্যানেলে। যেখানে সমসাময়িক রাজনীতির নানা বিষয়ে কথা বলেন দুই অতিথি।
জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করার অভিযোগে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ফজলুর রহমানের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদ তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছে বিএনপি। মঙ্গলবার আসা এই সিদ্ধান্ত সমর্থন করে জামায়াতপন্থী রাজনৈতিক ভাষ্যকার হিসেবে পরিচিত ড. মির্জা গালিব বলেন, গত এক বছরে ফজলুর রহমান যেভাবে কথা বলেছেন, যে রাজনৈতিক দর্শন প্রচার করেছেন- সেটা বিএনপির মূলধারার রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে যায় কি না, সেই প্রশ্ন তোলা দরকার। কারণ তিনি জুলাই আন্দোলনকে অস্বীকারই করতে চান। একাত্তর ও চব্বিশকে সাংঘর্ষিক জায়গায় নিয়ে যেতে চান। ফজলুর রহমান নিজে তরুণ বয়সে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। কিন্তু চব্বিশের অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের পছন্দ করতে পারছেন না। এই জায়গা থেকে ফজলুর রহমানের সমালোচনা হতেই পারে, বলছেন ড. মির্জা গালিব।
নিজে বিএনপির একজন নেত্রী হলেও ফজলুর রহমানের দলীয় পদ স্থগিত হওয়ার বিষয়টিকে ‘লজ্জিত’ হওয়ার মতো ঘটনা বলছেন নিলোফার চৌধুরী মনি। তিনি আরো বলেন, ‘ফজলুর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা। তার জন্য খারাপই লাগছে। দল তাকে সম্মান করলেই ভালো হতো।’
তিনি আরো যোগ করেন, ফজলুর রহমান যদি কোনো অন্যায় করে থাকেন তবে তার বিচার হতেই পারে। কিন্তু তাকে নিয়ে জঘন্য স্লোগান দেওয়া, তার বাড়ি ঘিরে রেখে ‘মব’ তৈরি করার মতো বিষয় গ্রহণযোগ্য নয়। ফজলুর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু পরিস্থিতি এখন এমন মুক্তিযোদ্ধাদের ছোট করতে সুকৌশলে ‘রাজাকার’ শব্দটিকে দেশে প্রতিষ্ঠিত করা হচ্ছে, মন্তব্য করেন নিলোফার চৌধুরী মনি।
গত এক বছরে মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননা করতে দেশেই সক্রিয় একটি মহল। এর সঙ্গে কখনো কখনো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের নামও জড়িয়ে পড়ছে। এ প্রসঙ্গে ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা ড. মির্জা গালিব বলেন, একাত্তর নিয়ে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা নিয়ে কেউ কেউ উগ্র মন্তব্য করেন। এক্ষেত্রে জামায়াত-শিবির কিন্তু কোনো উগ্র অবস্থান গ্রহণ করেনি। জামায়াত অবশ্য একাত্তরের নেতিবাচক ভূমিকার জন্য শর্তহীনভাবে ক্ষমাও চায়নি, বলেন তিনি।
ড. মির্জা গালিব আরো যোগ করেন, মুক্তিযুদ্ধকে আওয়ামী লীগের বয়ানে বিচার করা যেমন ঠিক নয়, তেমন উগ্রতার জায়গা থেকে বিশ্লেষণ করাও ভুল। একটা মাঝামাঝি জায়গা গ্রহণ করতে হবে। কারণ আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নাম দিয়ে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল। সেখান থেকে মুক্তিযুদ্ধকে গণমানুষের জায়গায় নিয়ে যেতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
ঠিকানা/এএস