২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনে (ইসি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হিসেবে নিয়োগ পান সাবেক সচিব এ এম এম নাসির উদ্দীন। অন্য চার নির্বাচন কমিশনার হলেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, সাবেক জেলা ও দায়রা জজ আবদুর রহমানেল মাসুদ, সাবেক যুগ্ম সচিব বেগম তহমিদা আহমদ এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ইসি নির্বাচন কমিশনকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেয়। ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের বেঁধে দেওয়া টাইমফ্রেম অনুযায়ী আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ইসি। সে অনুযায়ী আগামী সপ্তাহে নির্বাচনের রোডম্যাপ (অ্যাকশন প্ল্যান) প্রকাশ করা হতে পারে।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত সময়ে নির্বাচনের ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। সিইসি বার্তা দিয়েছেন, তিনি সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর কারও অযাচিত দাবি কর্ণপাত করবেন না। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইসি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনের আয়োজন করবে। দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাসের মাথায় সিইসি ঘোষণা দেন, ইসি প্রস্তুত, অন্তর্বর্তী সরকার যখনই চাইবে তখনই নির্বাচনের আয়োজন করা হবে।
এদিকে রাজনৈতিক দলগুলোও বসে নেই। জামায়াত, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলন পিআর পদ্ধতির নির্বাচন দাবিতে রাজনৈতিক অঙ্গন গরম করার চেষ্টা করলেও নির্বাচনের প্রার্থী বাছাই, প্রার্থী ঘোষণার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বিএনপি শরিক দলগুলোকে আসন ছেড়ে দেওয়াসহ ৩০০ আসনে প্রার্থী বাছাইয়ে দলীয়ভাবে জরিপ করছে। জামায়াত ইতিমধ্যেই ৩০০ আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। আরও কয়েকটি দল নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। আগামী রমজানের আগে নির্বাচন হবে-প্রধান উপদেষ্টার এমন ঘোষণার পর সারা দেশে কার্যত নির্বাচনের আবহ শুরু হয়ে গেছে।
অন্তর্বর্তী সরকার প্রচলিত পদ্ধতিতেই নির্বাচনের পথে অনড়। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীনকে বাসভবনে ডেকে নির্বাচনী প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেন। নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করবে এমন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেন। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে গত ২৮ জুলাই ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলন করে প্রেস সচিব শফিকুল আলম নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে দেশবাসীকে অবহিত করে জানান, ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবে এমন দেড় লাখ পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করে পরবর্তী তিন মাস পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ চলবে। এ ছাড়া নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৬০ হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন করা হবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের আগে জেলার প্রশাসনে লটারির মাধ্যমে ডিসি, এসপি নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে যে কটি আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে আপত্তি এসেছে, সেগুলোর শুনানি করা হবে। বর্তমানে ইসিতে সীমানা নির্ধারণ নিয়ে শুনানি চলছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ চূড়ান্ত করতে বৈঠকে বসেন চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসি কর্মকর্তারা। বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাসুদ বলেন, দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে। রোডম্যাপের সবই চূড়ান্ত হয়ে গেছে। আগামী সপ্তাহে ঘোষণা হবে। তবে ইসি সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশের আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে প্রতিদিন ঢাকার বাইরে যাচ্ছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন। এ ছাড়া কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ দেশের বাইরে (জাপান) অবস্থান করায় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। রোডম্যাপ নিয়ে বৈঠক শুরুর সময় নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বৈঠক হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সার্বিক অগ্রগতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকেও জানাতে হবে। আগামী বছর ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে রোজার আগে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এ সংক্রান্ত চিঠিও দেওয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনে। সিইসি নাসির উদ্দীন বলেছেন, নির্বাচনের তারিখের প্রায় দুই মাস আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচন কমিশন সভায় আলোচনা শেষে জানানো হয়, ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল দেবে ইসি।