সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

​আই হ্যাভ আ প্ল্যান—এ জাদুময় কথা যেন কথার কথা না হয়

​আই হ্যাভ আ প্ল্যান—এ জাদুময় কথা যেন কথার কথা না হয়

বিজ্ঞাপন
মার্টিন লুথার কিং ১৯৬৩ সালে বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ আ ড্রিম।’ তার সে স্বপ্নের বাস্তবায়নের পথ ততটা সহজ ছিল না, এটা সবার জানা। আমেরিকার সমাজে অহিংসার নীতিকে প্রতিষ্ঠা করার সে ইতিহাসের ধারাবাহিকতা এখনো বহন করে আমেরিকার জনগোষ্ঠী। মার্টিন লুথার কিং আমেরিকার মানুষের কাছে সব সময়ই একজন স্বপ্নবান মানুষ। তার স্বপ্নকে নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই বলে আমেরিকা বিশ্বে উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। আসলে মানুষের জীবনে যখন স্বপ্ন থাকে, তখন সে স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য থাকে পরিকল্পনা, যা প্রকাশ পায় জীবনের পথচলায়। হয়তো-বা মার্টিন লুথার কিংয়ের সে স্বপ্নের মতো বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার দেশকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছেন নির্বাসিত জীবনে। আর সেই স্বপ্ন কেবল স্বপ্ন ছিল না বলেই নতুন বাংলাদেশের মাটিকে ছুঁয়ে নিজের নির্বাসিত জীবনের যন্ত্রণাকে দূর করতে চেয়েছেন গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে। সে ফিরে আসার গল্পটা দেশের মানুষের কারও অজানা নয়। আর তার ভাষণের প্রিয় অংশ ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ কথাটা মুহূর্তে সারা দেশকে স্বপ্ন দেখিয়েছে। তা তিনি অনুধাবন করতে পেরেছিলেন বলেই একই ভাষণে বিএনপির ৩১ দফাকে সামনে রেখে আবার বলেন, ‘উই হ্যাভ আ প্ল্যান। উই হ্যাভ আ প্ল্যান ফর দ্য পিপল, ফর দ্য কান্ট্রি।’ ‘আমি’ শব্দটিকে জাদুর মতো ‘আমরা’য় পরিণত করার মতো দূরদর্শিতা সেদিন তারেক রহমান দেখাতে পেরেছেন বলেই মানুষ আবার নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছে তার হাত ধরে। যার প্রমাণ দিয়েছে মানুষ ভোটের মাধ্যমে।

দেশে ফিরে আসার পর থেকে আজ অবধি ব্যক্তিজীবনের পরিমিত চালচলনে তারেক রহমান নিজেকে আমজনতার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরিচিত করতে পেরেছেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। জনগণের কাছে বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে অনেকটাই কাছের মানুষ মনে হয়। কারণ তিনি নিজের নিরাপত্তার আগে ভাবেন জনগণের ভোগান্তির কথা। আর সে কারণে সাধারণ মানুষের মতোই রাস্তায় চলাচল করেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে কল্পনাতীত। নিজের টাকায় গাড়ির তেল খরচ থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আপ্যায়ন ব্যয় সংকুচিত করেছেন। একজন প্রধানমন্ত্রীর জীবনযাপন সাধারণ মানুষের মতো হওয়ার কথা নয়। তবে তারেক রহমান সেটা করেছেন। তার ছবির ব্যবহার কিংবা নামের আগে মাননীয় শব্দের অযাচিত প্রয়োগ করতে নিষেধ করে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। ব্যক্তি তারেক রহমান এখন অবধি দেশের কাজের পাশাপাশি পরিবার-সন্তানকে প্রাধান্য দিয়ে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন একজন স্বামী ও পিতা হিসেবে। এর পাশাপাশি যে কাজটি তিনি করেন, তা হলো প্রায়ই তিনি বাবা-মা আর ভাইয়ের কবর জিয়ারত করেন। সব মিলিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সময়ের সঙ্গে নিজেকে একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করতে পেরেছেন, এটা সত্যিকারভাবে সাধুবাদের যোগ্য। হয়তো নির্বাসিত জীবনে তিনি নিজেকে আত্মস্থ করতে পেরেছেন জীবনের সঠিক মূল্যবোধ দিয়ে। তার এ মূল্যবোধ দেখে মনে হতেই পারে নিশ্চয়ই কোন জাদুবলে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছেলে এত সহজে সাধারণ জীবনে পথচলা শুরু করেছেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ব্যক্তি তারেক জিয়ার সাধারণ জীবনবোধ দেশ পরিচালনায় কি বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারবে? কারণ একজন প্রধানমন্ত্রীর কাঁধে সারা দেশের দায়ভার। তাকে সাধারণ মানুষের জীবনের চাওয়া-পাওয়ার দিকে লক্ষ রাখার জন্য দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। আর সে ধারাবাহিকতায় দেশ মূল্যায়ন করবে তারেক রহমানের সে কথাকে, ‘I have a plan।’

জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আওয়ামী সরকারের পতন ঘটেছে আর ১৭ বছর পর আবার বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে। যদিও পারিবারিকভাবে তারেক রহমান বাবা, মা দুজনকেই দেখেছেন দেশ চালাতে। কিন্তু নিজের প্রজ্ঞা ও মেধা দিয়ে দেশ পরিচালনায় তারেক রহমান অনেকটাই নবীন। আর বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে খুব মসৃণভাবে, তা কিন্তু নয়। তাদের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ। দেশের দুর্নীতি, অর্থনৈতিক অবস্থা তথৈবচ, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটসহ নানা সমস্যা দেশজুড়ে। এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি সরকারকে নিয়ে সংকটে ফেলতে চাইছে বিরোধী দল। তাই দেশের প্রতিটি সেক্টরকে সঠিক পথে পরিচালনা করতে পারার পরিকল্পনা নেওয়া আর বাস্তবায়ন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মতো মানসিকতা থাকতে হবে বিএনপির মন্ত্রিপরিষদ ও সাংসদদের। পরিতাপের বিষয় হলো দেশের সার্বিক ব্যবস্থায় এখন পর্যন্ত বিএনপি সরকার নিয়ন্ত্রণ আনতে পারেনি। নিজেদের ৩১ দফার অন্যতম দফা ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ডসহ আরও কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে এসব বাস্তবায়নের জন্য ব্যাংক থেকে প্রতিনিয়ত ঋণ নেওয়াটা দেশের জন্য সুখকর বিষয় নয়। আর্থিক খাতের সবচেয়ে কঠিন বিষয় হলো ব্যাংকের অর্থ সংকট। এ ক্ষেত্রে যদি পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে না পারে, তবে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে কতটা পারবে, তা ভাবতে হবে সরকারকে। এর পাশাপাশি যে বিষয়টি লক্ষণীয়, তা হলো দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। জুলাই আন্দোলনের পরবর্তী সময়ে দেশের পুলিশিং সিস্টেম অনেকটাই অকার্যকর হয়ে পড়েছে। পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে গেছে তাদের বিগত সরকার অনুগামী আচরণের কারণে। আওয়ামী সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি সরকারে পরিণত করার পেছনে দেশের প্রশাসন, পুলিশ অনেক বেশি ভূমিকা পালন করেছে। তারা এ কাজ করেছে নিজেদের দুর্নীতি আড়াল করে সম্পদের পাহাড় গড়তে। তাই তারেক রহমানের যে বিষয়টি বিশেষভাবে লক্ষ রাখা উচিত, তা হলো রাজনৈতিক অবস্থানে থাকা সরকারকে দেশের প্রশাসন ও পুলিশের মাধ্যমে যেন কোনোভাবেই প্রভাবিত না করা হয়। রাজনৈতিক পরিচয়ে লোক নিয়োগ কিংবা চাকরিতে প্রমোশন দেওয়ার আগে যাচাই-বাছাই করা উচিত। কারণ বর্তমান বাংলাদেশে সবাই এখন বিএনপির নেতা, কর্মী বা সমর্থক। যেমনটা ছিল আওয়ামী লীগের সময়। আওয়ামী লীগ সরকারের আজ্ঞাবহ অনেক ব্যক্তিই রাতারাতি চরিত্র বদল করে বিএনপি সরকারের ছায়াতলে ইতিমধ্যে অবস্থান নিয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। একজন দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি সব সময়ই দুর্নীতিবাজ, এ কথাটা অকাট্য সত্য। আর এ ধরনের ব্যক্তিরা রাজনৈতিক চরিত্র বদল করে নিজের স্বার্থে। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হয়, দেশটা অনিরাপদ ও দুর্নীতি পরিবেষ্টিত একটি দেশ। তাই দেশের মানুষের সর্বোচ্চ ম্যান্ডেট নিয়ে আসা বিএনপি সরকারের সবার আগে যে কাজটি করার দরকার ছিল, তা এখন অবধি হয়নি। তা হলো আইনশৃঙ্খলা। পুলিশের নৈতিক অবক্ষয় আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নাজুক অবস্থাকে কোনো কারণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা অবান্তর। তাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আরও বেশি সচেতন হতে হবে। তার শাসন পরিচালনা দেখে মনে হয়, তিনি অনেকটাই জিয়াউর রহমানের চিন্তাধারাকে অনুসরণ করছেন। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারকে খেয়াল রাখতে হবে, সময়ের পরিবর্তন হয়েছে। জিয়াউর রহমানের সময় ঘুষ, দুর্নীতি শব্দগুলো মানুষ শোনেনি। কিন্তু বর্তমানে ঘুষ ছাড়া মানুষ কোনো কাজ করতে পারে না। দেশটাকে ভালো করতে হলে মনস্তাত্ত্বিক চিন্তাধারার পরিবর্তন করা প্রয়োজন। আর সে কাজটা যদি তারেক রহমান তার সরকার ও দল থেকে শুরু করতে পারতেন, তাহলে হয়তো অনেক কিছু সহজ হয়ে যেত।

বাংলাদেশের বর্তমান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি সরকারের ১৮০ দিন পার হওয়ার আগেই আন্দোলনে রাস্তায় নেমেছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের নামে। কিন্তু তারা জনগণের কথা বলে না। তারা দেশকে এগিয়ে নিতে চায় একাত্তরকে অস্বীকার করে, যা খুবই হাস্যকর। স্বাধীনতাবিরোধীরা আজ দেশের বিরোধী দল, এটা বাংলাদেশের জন্য সুখকর বিষয় নয়। তাদের সঙ্গে এনসিপি যোগ দিয়ে বাংলাদেশের সংবিধানকে উপেক্ষা করতে চায় নয়া বন্দোবস্তের নামে। এদের হাত থেকে সংবিধানকে রক্ষার গুরুদায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের। বিরোধী দল মনে করে, কথায় কথায় আন্দোলন হয়। আন্দোলন বিষয়টা খুব সহজ নয়। দেশের জনগণ কখন কেন পথে নামে, তা অতীত থেকে বুঝতে হবে সরকার ও বিরোধী দল উভয়কে। দেশের মানুষ গ্যাস, বিদ্যুৎ নিয়ে যে সংকটে আছে, তা সামাল দিতে হবে সরকারকে তড়িৎ গতিতে। বিগতে সরকারের দোহাই দিয়ে পরিস্থিতিকে বেশি দিন সামাল দিতে পারবে না বিএনপি সরকার। এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। জনতার কাতারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রীদেরও আসতে হবে। তা না হলে একক ব্যক্তিকেন্দ্রিক সরকার আবারও মানুষ দেখতে পাবে ভবিষ্যতে, যা দেশের জনগণ আর দেখতে চায় না। এমনিতেই বাংলাদেশের রাজনীতির বড় দুটি দলই পরিবারকেন্দ্রিক। তাই তারেক রহমান যদি আগামীর বাংলাদেশকে নতুনভাবে সাজাতে চান, তাহলে দলে নেতৃত্ব তৈরি করার জন্য কাজ করতে হবে। সুযোগ দিতে হবে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের।

সারা বিশ্ব এখন জেন-জিদের চিন্তা-চেতনার সঙ্গে ভারসাম্য রাখতে বেশ বেগ পাচ্ছে। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি তার বাইরে নয়। বরং শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণে জেন-জিদের ভূমিকা ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ এখন। তবে এই জেন-জিদের ভাবনার বাংলাদেশকে তারা বিপথে পরিচালিত করেছে বলে আজ নতুন দল এনসিপি গঠন করে তারা জোট করেছে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির সঙ্গে। একজন শেখ হাসিনা মানে বাংলাদেশ নয়। তারা মনে করে, মুক্তিযুদ্ধ মানে আওয়ামী লীগ। এ ভুল ধারণাটা যে অমূলক, সেটা বোঝাতে হবে বিএনপি সরকারকে। তা না হলে আগামীর বাংলাদেশ ভুলে যাবে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ইতিহাসকে। বিএনপি বরাবরই ক্ষমতায় আসে দেশের সংকটময় পরিস্থিতিতে। তারেক রহমানের নিজের পরিকল্পনার প্রতিফলন কতটা কষ্টসাধ্য হবে, তা বোঝা যায় চলমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটসহ রাজনৈতিক বিরোধিতার নানা পরিস্থিতিতে। তিনি যেদিন নিজের স্বপ্ন আর পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছিলেন, তা বাস্তব রূপ দেওয়ার সুযোগ হয়েছে ইউনূস সরকারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এখন জুলাই সনদ কিংবা আওয়ামী লীগের বিচার—এসব নিয়ে ভাবে না। তারা চায় প্রাত্যহিক জীবনের নিশ্চয়তা আর মৌলিক অধিকার-চাহিদা পূরণ হোক। জনগণের মনের ভাবনাকে ধারণ করতে পারলে অর্ধেক স্বপ্ন পূরণ হয়ে যাবে বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি তারেক জিয়ার।

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার ৬-৭ মাস পার করেছে মাত্র। এর মধ্যে তারেক রহমান কতটা তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন, তা এখনো বিচার করার সময় আসেনি। তবে প্রধানমন্ত্রী নিজেকে যতটা সাবলীলভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছেন, ততটা মন্ত্রিপরিষদে পরিলক্ষিত হচ্ছে না। তারা প্রথাগতভাবেই কাজ করছেন। এখানে বিশেষভাবে লক্ষণীয় হলো মন্ত্রিপরিষদ ও উপদেষ্টাদের অবস্থান। বিএনপি সরকারের মন্ত্রিপরিষদ আরও বেশি শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন ছিল। আর উপদেষ্টারা মন্ত্রীদের ওপর প্রভাব খাটিয়ে থাকেন পদাধিকারের কারণে। যার প্রমাণ অতীত থেকে নেওয়া দরকার বিএনপি সরকারকে। কারণ লোকচক্ষুর অন্তরালে মন্ত্রী ও উপদেষ্টারা অনেক ক্ষেত্রেই দলীয় পরিচয়ে তদবির, বদলি, এলাকায় নানা বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে থাকেন। আসলে তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর পর কাছ থেকে দল ও দেশকে দেখছেন। সে কারণে সরকার পরিচালনায় তাকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে।

পাশাপাশি বহির্বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক কীভাবে রাখবেন, তার প্রমাণ হয়তো প্রকাশিত হবে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে তার ভাষণে। তিনি বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে দেশের জন্য সুফল বয়ে আনবেন বলে আশা করা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর বেশ আলোচিত হয়েছে। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইবরাহিম তারেক রহমানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রকাশ করেছেন ‘আমার বন্ধু মহা জাদু জানে’ এই গানের মাধ্যমে। মালয়েশিয়া সফরে তারেক রহমানের চিন্তাভাবনা অত্যন্ত সুচিন্তিত ছিল। তার রেশ ধরেই জাতিসংঘের অধিবেশনে তিনি বাংলাদেশকে নতুনভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন বলে আশা করা যায়।

রোহিঙ্গা সমস্যাকে আন্তর্জাতিকভাবে সমাধান করা তারেক রহমানের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ। কারণ রোহিঙ্গাদের সামাল দেওয়া বর্তমান বাংলাদেশের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে বৈরিতা কমিয়ে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নত করতে হবে। সারা বিশ্বে এখন ইরাক যুদ্ধের বিরূপ প্রতিক্রিয়া। এর মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সকল দেশের সঙ্গে ভারসাম্যমূলক সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। তা না হলে সরকারের পক্ষে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও বাণিজ্য বৃদ্ধি করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

বিশাল জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশের প্রশাসন থেকে শুরু করে শিক্ষা, বিচার, আইনশৃঙ্খলা, বেকার সমস্যা সীমাহীন পর্যায়ে চলে গিয়েছে। বিগত সরকারের সময় অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছিল কিন্তু মানব উন্নয়ন হয়নি বলে মানুষের মানবিকতা হারিয়ে গেছে। তাই তারেক রহমানের সরকারকে ইট-পাথরের ঝকঝকে দেশ তৈরি করার চেয়ে মানবসম্পদকে শতভাগ সফল করতে হবে। আর এ কাজটা করতে পারলেই তার ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ দৃশ্যত হবে নতুন বাংলাদেশে।
লেখক : কলামিস্ট

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz