মার্কিন চুক্তিতে বিএনপির তাগিদ থাকতে পারে : আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া
ঠিকানা অনলাইন
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৯
•
অনলাইন সংস্করণ
ছবি ঠিকানা
জাতীয় নির্বাচনের তিন দিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারকে হয়তো বিএনপি তাগিদ দিয়েছিল। কারণ তারা সরকারে আসার পর এখন অনেকটা গায়ে পড়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আরও বেশি সম্পর্ক দেখাতে চাইছে। এমনকি বাণিজ্য চুক্তিতে যিনি ভূমিকা রেখেছেন সেই সময়ের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানকে তারা অনেকটা পদোন্নতি দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করে। এসব কথা বলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন টকশোতে তিনি আরও বলেন, ‘মূলত লন্ডন বৈঠকের পর অন্তর্বর্তী সরকার ও বিএনপির মধ্যে একধরনের সমঝোতা হয়ে যায়। দুটি পক্ষের সমন্বয়কের ভূমিকায় যেন ছিলেন ড. খলিল। এরপর ক্রমাগত দুই পক্ষের মধ্যে সম্পর্ক বাড়তে থাকে। লন্ডন বৈঠকের পর আমরা দেখেছি তারা যৌথ বিবৃতি দেয়। সরকার একটি রাজনৈতিক দলকে নিয়ে কীভাবে যৌথ বিবৃতি দেয়, নিজে সরকারের উপদেষ্টা হয়েও তখন এই প্রশ্ন তুলেছিলাম। এর যথাযথ কোনো উত্তর অবশ্য পাইনি।’
২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার এই টকশোতে একক অতিথি হিসেবে ছিলেন চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। নিউইয়র্ক সময় বেলা ১২টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা) যা সরাসরি সম্প্রচারিত হয় ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন ইউটিউব চ্যানেলে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের সরকার ও রাজনীতির নানা ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
গোয়েন্দা সংস্থার হস্তক্ষেপের কারণে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেননি, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন তিনি। এ ক্ষেত্রে তার প্রতি সামরিক বাহিনী থেকে এমন আচরণ কেন করা হলো? এমন প্রশ্নে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া দাবি করেন, ‘চব্বিশের ৫ আগস্ট সকালে যখন খবর পেলাম সামরিক শাসন জারি হতে পারে, তখন সেটা ঠেকাতে সক্রিয় হই। আবার অন্তর্বর্তী সরকারে থাকার সময়ই বলেছিলাম, সেনাপ্রধান ওয়াকার সাহেব ড. ইউনূসকে প্রথমে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে মানতে চাননি, পরে বুকে পাথরচাপা দিয়ে মেনে নিয়েছিলেন। সেটা বলারও পেছনে কোনো উদ্দেশ্য ছিল। এসব কথা বলার কারণে মূলত কিছু সেনা কর্মকর্তা আমার প্রতি বিরূপ ছিলেন।’
এদিকে মাস কয়েক আগে এনসিপি থেকে জানানো হয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হবেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, আর উত্তরে প্রার্থী হবেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। সম্প্রতি তাতে আবার পরিবর্তন এসেছে। দক্ষিণে মেয়র প্রার্থী হতে চলেছেন নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী। ঢাকা উত্তরে নির্বাচন করবেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এর মাধ্যমে আদীবের প্রতি অন্যায্য আচরণ করা হলো কি না, জানতে চাইলে ঠিকানা টিভিকে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘বিভিন্ন জরিপের মাধ্যমে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে প্রার্থী নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। আর আদীব পলিসিগতভাবে অনেক দক্ষ, তাকে দলের আরও বড় কাজে যুক্ত করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপি এককভাবে লড়বে। এটাকে গুরুত্ব দিয়ে দলের সবাই ব্যাপকভাবে কাজ করবে। এভাবে এনসিপি দল হিসেবে এগিয়ে যাবে, বড় দল হয়ে উঠবে- আশা করছেন তিনি।