মানুষ পৃথিবীর সেরা। কথাটি চিরন্তন। কেননা মানুষের জন্যই পৃথিবীর সবকিছু নিবেদিত। কিন্তু সব মানুষ কি পৃথিবী ও প্রকৃতির সৌন্দর্যের কথা মনে রাখে? এককথায় বলতে গেলে না, সবাই সেটা করে না। কিছু মানুষই সেই গৌরবের কথা ভুলে গিয়ে অন্য মানুষের প্রতি অসৌজন্য প্রদর্শন করে। পাশবিক অত্যাচার ও নির্দয় আচরণ করে। মানুষকে তার নাগরিক অধিকার এবং মনুষ্যত্ববোধের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে। অথচ মানুষের উচিত তার আত্মমর্যাদা ও সম্মানকে রক্ষা করা। কিন্তু মানুষের মর্যাদা ও সম্মান রক্ষা হবে কিসে? এর জন্য প্রয়োজন মানবপ্রেম ও ভালোবাসা। মানুষের প্রতি উদার হওয়া এবং অকৃত্রিমভাবে তাদের ভালোবাসা।
মহান আল্লাহর চিরন্তন আহ্বানই হলো : ‘মানুষ এবং মানুষকে ভালোবাসার মাধ্যমেই জীবনকে সার্থক করো।’
পৃথিবীতে বেশির ভাগ মানুষের প্রতি নির্মম ও পাশবিক আচরণের যেসব চিত্র দেখা যায়, তাতে গা শিউরে ওঠে এবং এতে বিমর্ষ না হয়ে উপায় নেই। নিজ স্বার্থ ও ক্ষমতার মোহে মানুষের প্রতি নির্যাতন-নিপীড়ন ও নৃশংসতার যে করুণ চিত্র পৃথিবীতে বিরাজমান, তা থেকে পরিত্রাণের উপায় কী?
এ জন্য মানুষকে তার সঠিক দায়িত্ববোধের প্রতি সচেতনতা, সহনশীলতা প্রদর্শন এবং মানুষের প্রতি নির্মোহ ভালোবাসাই পৃথিবীর পরিবেশকে সুন্দর ও শান্তিময় করে তুলতে পারে।
আমাদের চারপাশে অসংখ্য দুঃখী মানুষ আছে। সেই সব সহায়-সম্বলহীন মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। বিশ্বনবী (সা.) এর অমর বাণী হচ্ছে : ‘দুঃখী মানুষ ও ক্ষুর্ধাতের অন্নদান এবং তাদের প্রতি সদয় থাকা হচ্ছে সর্বোত্তম কাজ।’
মানুষের প্রতি ভালোবাসা, অপার মহানুভবতা প্রকাশ এবং মানবসেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়েই তিনি পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষে পরিণত হয়েছিলেন।
ভারতবর্ষের খ্যাতিমান দানবীর হাজী মুহম্মদ মহসিনের মানবিক কর্মকাণ্ডের অবদান অবিস্মরণীয় হয়ে আছে।
তিনি সাধারণ মানুষের মাঝে লীন হয়ে গিয়ে পরিণত হয়েছিলেন অসাধারণ এক মহামানবে। মানবতার মা তেরেসা মানবসেবার মধ্য দিয়েই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে পৃথিবীতে খ্যাতিমান হয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, ‘To able to love the poor and know the poor we must be poor ourselves.’ (গরিবদের ভালোবাসতে হলে এবং তাদের জানতে হলে অবশ্যই আমাদের নিজেদের গরিব হতে হবে)। মানবিকতার দিক থেকে মাদার তেরেসা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
মানুষের মর্যাদাবোধ প্রতিষ্ঠিত হয় অপরের সম্মান রক্ষার মধ্য দিয়ে। আমাদের সমাজে আজ অবক্ষয় এবং অন্যের প্রতি অবিচার ও অসম্মান প্রদর্শন করার বিষয়টি অত্যন্ত প্রকট আকার ধারণ করেছে! নিজের ব্যক্তিগত অহংকার ও অহংবোধকে বর্জন করে গরিব মানুষ তথা সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যেতে হবে। ধন-সম্পদের প্রতি মোহময়তার চেয়ে এখানে মানুষের মর্যাদাই মুখ্য এবং সবার উপরে। মানুষকে ভালোবাসার মধ্য দিয়েই সমাজের উত্তম কাজের পরিপূর্ণতা আসে। উত্তম কাজের প্রতিদান হলো স্রষ্টার নিকট থেকে সর্বোত্তম পুরস্কার। অতএব, দেশের প্রতি, মাটি ও মানুষের প্রতি মমত্ববোধ ও ভালোবাসার মাধ্যমে সঠিক এবং সর্বোত্তম প্রতিদানের সন্ধান করতে হবে।
বাংলা সাহিত্যের কবি কামিনী রায়ের একটি বিখ্যাত উক্তি সর্বদাই আমাদের পাথেয় হয়ে আছে। তিনি বলেছেন :
‘আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে আসে নাই কেহ অবনী পরে
সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।’
এসব বিখ্যাত উক্তির প্রতিপাদ্যই হচ্ছে মানুষ। প্রকৃতির সাহায্যের ওপর ভর করেই মানুষ সবকিছুকে প্রেম-প্রীতি ও ভালোবাসা দিয়ে জয় করে নেয়। প্রকৃতির সাহায্যের ওপরই মানুষ বাঁচে; তেমনি একে অপরের সহযোগিতা ও সাহচার্য ছাড়া মানুষের বেঁচে থাকার উপায় নেই। এটি মানুষের অন্যতম নৈতিক দায়িত্ব। মনুষ্যত্ববোধের শ্রেয়তর গুণাবলির কারণেই মানুষকে সেরা বলা হয়েছে। মনুষ্যত্ববোধ না থাকলে মানুষের কোনো মূল্য থাকে না। আর মনুষ্যত্বের অন্যতম শর্তই হচ্ছে মানুষের ভালোবাসা।
আল্লাহর বিধান এবং বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শই মানুষের সাফল্যের প্রধান উৎস। মহানবী (সা.)-এর মানবিকতার সর্বোত্তম আদর্শকে সামনে রেখে অনেকেই সর্বজনীনতার সাফল্য অর্জনের লক্ষ্যে এগিয়ে গেছেন। এ জন্যই রুমি সর্বজনীন মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছেন। রুমির চিরন্তন ও বিখ্যাত উক্তি :
‘আমি না খ্রিষ্টান, না ইহুদি, না মুসলমান;
আমি প্রেমের সন্তান—প্রেমই আমার ধর্ম, প্রেমই আমার পরিচয়।’
আর এই অকৃত্রিম প্রেমের সন্ধান তিনি পেয়েছিলেন আল্লাহর বাণী এবং রাসুলের (সা.) কর্মজীবন থেকে। প্রবল আত্মবিশ্বাস ও চূড়ান্ত আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে তিনি (রুমি) সর্বজনীন মানবতার কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিলেন। সর্বজনীনতার প্রসঙ্গে রুমি বলেন :
‘আমি মসজিদে যাই, মন্দিরে যাই, গির্জায় যাই—
যেখানে প্রেম আছে, সেখানেই আমার প্রার্থনা।
ধর্ম, জাত, নাম—সব ভুলে যাই
আমি শুধু প্রেমেরই মানুষ।’
স্রষ্টার প্রেমের পাশাপাশি মানুষের অন্তরের অন্তস্তল থেকে উঠে আসা প্রেম ও ভালোবাসার কথা বলতে গিয়ে রুমি তাঁর কবিতার কণ্ঠে লাইলি-মজনুর প্রেমের দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন। লাইলির রূপ-সৌন্দর্যের প্রেমে আত্মহারা হয়ে কায়েস মজনু (পাগলপারা) নামের উপাধিতে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম প্রেমিকের চরিত্রে ভূষিত হয়েছেন। মাওলানা রুমি তাঁর কবিতায় উল্লেখ করেন :
একদিন বাদশাহ লাইলিকে প্রশ্ন করেন, তুমি তো সাধারণ সুন্দরীদের মতোই...
উত্তরে লাইলি বলে—চুপ থাকুন, বাদশাহ। কেননা আপনি মজনু নন। মজনু না হয়ে আমার প্রেমের রহস্য বুঝবেন কী করে? আপনার যদি হতো মজনুর চোখ, সেই চোখের তারায় দেখতে পেতেন আমার রূপের লাবণ্য, যা আপনাকে করত মোহিত।
প্রেম প্রসঙ্গে রুমির সম্মানিত শিক্ষক শামস তাবরিজী বলেন, ‘যে প্রেমের সন্ধান করে, সেই ব্যক্তি বদলে যায়। প্রেমের সন্ধান করতে করতেই একজন মানব পরিণত হয়। যে মুহূর্ত থেকে কেউ প্রেমের সন্ধানে বের হয়, এটা তার ভেতরে এবং বাইরে পরিবর্তন ঘটায়।’
ভালোবাসতে হবে হৃদয়ের অনুপুঙ্খ প্রেম দিয়ে। জীবনের সবকিছুর মধ্যে ভালোবাসার ছোঁয়া থাকতে হবে। তাহলেই তো জীবনের সার্থকতা। অনুভবের পল অনুপল থেকে শুরু করে প্রেমই হলো জীবনকে সুন্দর ও সার্থক করার প্রকৃত উপায়। সবকিছুর ঊর্ধ্বে ভালোবাসাকে গুরুত্ব প্রদান করতে হবে।
প্রেম ও ভালোবাসা প্রসঙ্গে আধুনিক ইংরেজ কবি জন ওয়াইন বলেছেন, ‘এন্ড হোয়ার ইউ লাভ ইউ ক্যান্ট ব্রেক ওয়ে।’
মানুষের জীবনের মূল ভিত্তি হলো মানবতা। যার মধ্যে মানবতাবোধ নেই, সে প্রকৃত মানুষ নয়। চণ্ডীদাসের চিরন্তন বাণী হলো :
‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।’
মানুষের সর্বসত্ত্ব বোধের মাধ্যমেই প্রেম-ভালোবাসার মর্মসমূহের গুরুত্ব দিতে হয়। মানবিকতা তথা মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের ভিত্তি হচ্ছে একে অপরের প্রতি ভালোবাসা। পৃথিবীর যেখানেই থাকি না কেন, ভালোবাসার জোরেই আমরা বেঁচে আছি। এটা প্রকৃতির দাবি, মানবতার দাবি। মানুষকে সেই দাবি রক্ষা করতে হবে।
মানবসমাজের কল্যাণে ব্রত হওয়া এবং মানুষের সেবার মাধ্যমে পুণ্যবান হতে হবে। পৃথিবীতে মানবসেবার এমন দৃষ্টান্ত অনেক আছে। ভারতবর্ষের কথাই ধরা যাক। অনেক অনাচার ছিল, মানববিধ্বংসী কর্মকাণ্ড ছিল। কুসংস্কার ছিল। স্বৈরতন্ত্রী কায়দায় অপশাসনও ছিল। তার প্রতিকারেও ছিল অনেক কার্যক্রম। কুসংস্কারের বিরুদ্ধে মানুষকে সোচ্চার হতে হয়েছে এবং লড়াই করতে হয়েছে।
মানুষের কল্যাণের জন্য মানবতার স্বার্থে নিবেদিতপ্রাণ অনেক লোকও ছিল। যারা ভারতবর্ষের গণমানুষের কল্যাণে অনেক অবদান রেখেছেন। অনেক কবি-সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিবিদ সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছিলেন মানুষের জন্য। শাসনকর্তা থেকে শুরু করে অনেক মানবতাবাদী বিশিষ্টজনদের কথা উল্লেখ করা যায়।
প্রবাসে আমরা বাংলাদেশের অনেক মানুষজন রয়েছি। পৃথিবীর সর্বত্রই আমাদের বাঙালি জনসমাজের বসবাস। বহির্বিশ্বের প্রান্তে প্রান্তে বাংলাদেশের মানুষ কষ্ট-ক্লেশ আর কঠোর পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করছেন। জীবনবোধের উচ্ছ্বাসেই তারা নিজেদের পরিবার, সমাজ ও দেশের কল্যাণকর উন্নয়নে যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এটা গৌরবের বিষয় যে, তাদের প্রেরিত অর্থেই বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত্তি সুপ্রতিষ্ঠিত ও শক্তিশালী হয়েছে। আমাদের ঐক্যবোধ ও সম্প্রীতির মাধ্যমে সেই গৌরব ও মর্যাদাকে ধরে রাখতে হবে। বিদেশ-বিভুঁইয়ে প্রত্যেকে নিজেদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব-বিবাদের পরিবর্তে সাম্য-মৈত্রীর সুদৃঢ় বন্ধনকে অটুট রাখার পথে থাকতে হবে। এ জন্য সমাজবদ্ধ জীবনের বিকল্প নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সকল প্রান্তের মানুষের বসবাস। প্রত্যেকেরই রয়েছে অঞ্চলভিত্তিক সংগঠন। আরও আছে ধর্মীয় ও মানবতাধর্মী সামাজিক সংগঠন।
মানবসভ্যতার ইতিহাসে ধর্ম দর্শন, সমাজবিজ্ঞান এবং মনস্তত্ত্বের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। নিচে মানুষ ও ধর্মের মধ্যকার বহুমাত্রিক
সম্পর্ক সহজভাবে বিশ্লেষণ করা হলো :
মানুষের স্বভাব কিংবা প্রকৃতি মানুষকে যে লক্ষ্যবস্তুর দিকে ধাবিত হওয়ার প্রেরণা দেয়, সেটিই তার ধর্ম। যেমন অগ্নির ধর্ম দাহিকা শক্তি (উত্তাপ দেওয়া), তেমনি মানুষের ধর্ম হলো ‘মনুষ্যত্ব’ বা মানবিক গুণাবলি ধারণ করা। মনুষ্যত্ববোধের কারণেই সে যেকোনো অন্যায় করতে দ্বিধাবোধ করে। মানুষ তার আত্মিক শক্তি ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য লাভের চেষ্টা করে।
পৃথিবীতে মানুষের বিবর্তনের ইতিহাস যেমন আছে, তেমনি নানা মত ও বিশ্বাসের মাধ্যমে অনেকে তার ধর্ম (জবষরমরড়হ) ঠিক করে নেয়। প্রতিটি ধর্মের একটা নির্দিষ্ট সীমা আছে, যার মধ্য দিয়ে সে তার স্রষ্টা, পরকাল, নৈতিক নির্দেশিকা সম্পর্কে অবগত হয়। একইভাবে ধর্মচর্চার পাশাপাশি কিছু নির্দিষ্ট বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠান পালনকে বোঝায়, যা মানুষকে জীবনের পরমতম লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে এবং তার অর্থ খুঁজে বের করার জন্য সাহায্য করে।
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনে বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব, আচার-অনুষ্ঠান মানুষের ভেতরে ঐক্য, সামাজিক সংহতি সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি, সৌভ্রাতৃত্ব পারস্পরিক সহযোগিতার পথকে প্রসারিত করে। ধর্ম মানব সংস্কৃতিরই অংশ। ধর্মের শিক্ষা হচ্ছে মানুষকে শুদ্ধ ও সঠিক জীবনের পথ দেখানো। যে পথে অন্ধকার নেই, আছে সত্যিকার আলোর সন্ধান। কুসংস্কারের পরিবর্তে আছে মানবতার উন্নয়ন ও কল্যাণের জন্য প্রস্তুত করে তোলার ব্যবস্থা। অর্থাৎ সব ধমের্র মূল হচ্ছে মানুষ ও মানবতা। ধর্ম মানুষকে পরিশীলিত ও পরিমার্জিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়।
ধর্ম মানে কোনো অন্ধ কুসংস্কারের মধ্যে হাবুডুবু খাওয়া নয়। উগ্রচণ্ডী নীতির আঁধারে নিমজ্জিত হয়ে মানবতার কল্যাণ ও উন্নয়নের পথ দেখায়। কোনো ধর্মই মানুষকে ধ্বংসের নির্দেশনা দেয় না। বরং ধর্ম হচ্ছে মানুষকে রক্ষা করার হাতিয়ার। কিন্তু অতীব দুর্ভাগ্যের বিষয়, ধর্মের নাম দিয়ে উগ্রপন্থী জঙ্গীবাদী গোষ্ঠী মানুষ হত্যা করে। ধর্মীয় উন্মাদনা কিংবা যেকোনো ধরনের মানববিধ্বংসী কর্মকাণ্ড কোনো ধর্মই সমর্থন করে না, তেমনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার মোহে উগ্রপন্থী শোষকশ্রেণি সাধারণ মানুষের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালায়। মানুষের প্রতি অত্যাচার, নিপীড়ন ও নির্যাতন করে। আমাদের মনে রাখা দরকার, কোনো ধ্বংস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি আসতে পারে না। শান্তি ও স্বস্তিকর জীবনের জন্য চাই মানুষের প্রতি মমত্ববোধ ও ভালোবাসা। ভালোবাসাই মানুষের সমাজকে নির্মল ও সুখময় করে দিতে পারে।
প্রবাসজীবনে বাংলাদেশের মানুষজন বিভিন্ন ধর্মের স্ব স্ব অবস্থান থেকেই মানবতার জন্য কাজ করতে পারেন। এটা আমাদের জন্য গৌরব ও আনন্দের বিষয়। কিন্তু দুঃখের বিষয়, বর্তমানে এই মানুষের সমাজে হিংসা-বিদ্বেষ ও হানাহানিই বেশি প্রকট। মানুষের মধ্যে হিংস্রতা ছড়িয়ে গেছে। যার ফলে মানব বিধ্বংস সর্বত্র পরিলক্ষিত হয়। এর মাধ্যমে আমরা আমাদের সকলের হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখের সাথি হতে পারি।
এখানে দু-চারটি ধর্মের উদ্ধৃতি দেওয়া যায়। যেমন ইসলাম ধর্মের মূল বাণী হচ্ছে, ‘যিনি বিশ্বমানবের কল্যাণ সাধন করেন, তিনিই শ্রেষ্ঠ মানুষ।’ অর্থাৎ মানবতা এবং মানুষের প্রতি সম্মান দেখানো। বাইবেলের বাণী হচ্ছে, ‘মানুষের প্রতি বিনয়ী হও, ঈশ্বরের সঙ্গে পরিচিত হও, শান্তি পাবে।’ শ্রীগীতার বাণী হচ্ছে, ‘ভালো কাজ করো। মানবতার স্বার্থে নিজেকে নিয়োজিত করো, ইহকাল ও পরকাল কোথাও তোমার বিনাশ হবে না।’ আর ত্রিপিটকের বাণী হচ্ছে, ‘যে পুণ্যকর্ম করে, ইহলোক ও পরলোক উভয় লোকেই সে আনন্দ লাভ করে।’ অর্থাৎ পৃথিবীর সবকিছুর মূলেই মানবতার কল্যাণ সাধন।
মানবকল্যাণ ও মানুষের স্বার্থেই মনের মাধুর্য দিয়ে একে অপরকে প্রেম-প্রীতির ছোঁয়ায় মানুষকে ভালোবাসতে হবে। পৃথিবীর সকল প্রাণী ও প্রকৃতির সৌন্দর্যবোধকে ভালোবাসতে হবে। তাহলেই ইহলোক ও পরলোকে শান্তি আসবে।
লেখক : কবি ও প্রাবন্ধিক।