সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ :
• মোহাম্মদপুরে ট্রাক চালক হোসেন হত্যা: হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিচার শুরু • সরকার অনুমতি দিলে ‘ক্রসফায়ার’ করবে পুলিশ: আইজিপি • বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর • বাংলাদেশে বিনিয়োগে অত্যন্ত আগ্রহী জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো: তারো আসো • ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন আওয়ামীপন্থি দুই আইনজীবী • বাংলাদেশে ৬৩৫ কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগের উদ্যোগ জাপানের • ফ্রান্সে ফের বিক্ষোভের ডাক, চাপে ম্যাক্রোঁ • ব্যঙ্গাত্মক কমেডি থেকে সরে আসছেন সাচা ব্যারন কোহেন • ঢাকায় আসছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেতা বিলাল আব্বাস খান • ৯৯৯ টাকা দেনমোহরে সুজাত শিমুলের বিয়ে সম্পন্ন

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

ব্যঙ্গাত্মক কমেডি থেকে সরে আসছেন সাচা ব্যারন কোহেন

‘আলি জি: হু ইজ আই?’ হতে যাচ্ছে এ ধরনের কমেডিতে তাঁর শেষ সিনেমা
ব্যঙ্গাত্মক কমেডি থেকে সরে আসছেন সাচা ব্যারন কোহেন

বিজ্ঞাপন
‘বোরাট’ ও ‘দ্য ডিক্টেটর’-এর মতো সিনেমায় ব্যতিক্রমী অভিনয়ের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া ব্রিটিশ অভিনেতা সাচা ব্যারন কোহেন ব্যঙ্গাত্মক কমেডির পরিচিত ঘরানা থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘আলি জি: হু ইজ আই?’ হতে যাচ্ছে এ ধরনের সিনেমায় তাঁর শেষ কাজ। তবে সব ধরনের কমেডি থেকে বিদায় নিচ্ছেন না তিনি। বরং বিতর্কিত ও ঝুঁকিপূর্ণ চরিত্রের মাধ্যমে সমাজের অসংগতি তুলে ধরার যে ধারায় তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন, সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে চান এই অভিনেতা।

গত ২৩ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ‘আলি জি: হু ইজ আই?’। ৫৫ বছর বয়সী কোহেন সম্প্রতি দ্য হলিউড রিপোর্টার-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি এইমাত্র যে সিনেমাটি করেছি, সেটিই আমার জীবনের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং সিনেমা। কিন্তু এ ধরনের কাজ আর করব না।’

ফক্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগেও এ ধরনের ব্যঙ্গাত্মক কমেডি থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন কোহেন। তবে নতুন সিনেমাটি নির্মাণের পেছনে কাজ করেছে সমসাময়িক সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে তাঁর উদ্বেগ। তাঁর মতে, রাজনৈতিক মতাদর্শের দুই প্রান্তে উগ্রতার বিস্তার এবং নৈতিকতার দোহাই দিয়ে সহিংসতাকে বৈধতা দেওয়ার প্রবণতা ব্যঙ্গাত্মক কমেডির মাধ্যমে তুলে ধরা সম্ভব।

বর্তমান বিশ্বে তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা, সামাজিক বিভাজন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন কোহেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে ষড়যন্ত্রতত্ত্ব এবং মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টিও তাঁকে ভাবিয়ে তুলছে। তাঁর মতে, গণতন্ত্র ও সহনশীল সমাজ টিকিয়ে রাখতে সত্য সম্পর্কে মানুষের মধ্যে একটি অভিন্ন ধারণা থাকা জরুরি। বাস্তবতা সম্পর্কে মানুষের উপলব্ধি যখন পরস্পরবিরোধী হয়ে পড়ে, তখন সামাজিক সংহতি ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।

কোহেনের অভিনয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, হাস্যরসের আড়ালে সামাজিক ও রাজনৈতিক অসংগতি তুলে ধরা। তাঁর তৈরি চরিত্রগুলো প্রায়ই প্রচলিত সামাজিক রীতিনীতি, ক্ষমতাবানদের আচরণ এবং মানুষের ভণ্ডামিকে বিদ্রূপ করে। কখনো ছদ্মবেশে, কখনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি করে মানুষের প্রতিক্রিয়া ধারণের মাধ্যমে তিনি দর্শকের সামনে তুলে ধরেছেন সমাজের নানা অসংগতি।

১৯৯৮ সালে টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রথম পরিচিতি পাওয়া আলি জি চরিত্রটি তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম জনপ্রিয় সৃষ্টি। বহু বছর পর আবারও এই চরিত্রে ফিরেছেন তিনি। আলি জি মূলত এমন একটি চরিত্র, যার কথাবার্তা ও আচরণের মধ্যে দিয়ে অজ্ঞতা, আত্মম্ভরিতা এবং সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে ভুল ধারণাকে ব্যঙ্গ করা হয়। তবে চরিত্রটি নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি। সমালোচকদের একাংশের অভিযোগ, এর উপস্থাপনায় বর্ণ ও সংস্কৃতিসংক্রান্ত কিছু নেতিবাচক ধারণা প্রতিফলিত হয়েছে।

এ ধরনের সমালোচনার জবাবে কোহেন বরাবরই তাঁর ব্যঙ্গাত্মক অভিনয়ের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেছেন। দ্য গার্ডিয়ান-কে দেওয়া সাক্ষাৎকার এবং টাইম সাময়িকীতে প্রকাশিত লেখায় তিনি যুক্তি দিয়েছেন, তাঁর চরিত্রগুলোর লক্ষ্য কুসংস্কার, পক্ষপাত ও অজ্ঞতাকে প্রকাশ করা। তবে তাঁর কাজের উদ্দেশ্য এবং দর্শকের কাছে তার ব্যাখ্যা সব সময় এক হয় না—এ বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেছেন।

কোহেনের অভিনয়জীবনে বিতর্ক যেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, তেমনি তাঁর আন্তর্জাতিক পরিচিতি তৈরিতেও সহায়তা করেছে। ‘বোরাট’ সিনেমায় কাজাখ সাংবাদিকের ছদ্মবেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতাকে বিদ্রূপ করা এবং ‘দ্য ডিক্টেটর’-এ স্বৈরশাসকদের আচরণকে হাস্যরসের মাধ্যমে তুলে ধরার কারণে তিনি আলোচিত হয়েছেন। তাঁর অভিনয়ের ধরন প্রচলিত কমেডির সীমানা ছাড়িয়ে রাজনৈতিক ব্যঙ্গ ও সামাজিক সমালোচনার ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলেছে।

নতুন সিনেমাটির মধ্য দিয়ে পরিচালকের ভূমিকাতেও অভিষেক হয়েছে কোহেনের। ভ্যারাইটি-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিনেমাটি আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতেও মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে অভিনয় ও ব্যঙ্গাত্মক কমেডির মাধ্যমে সমাজের অসংগতি তুলে ধরেছেন কোহেন। তাঁর চরিত্রগুলো কখনো দর্শককে হাসিয়েছে, কখনো অস্বস্তিতে ফেলেছে, আবার কখনো বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে তাঁর কাজের কেন্দ্রে ছিল মানুষের আচরণ ও সামাজিক বাস্তবতাকে অপ্রচলিত দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরার চেষ্টা।

এবার সেই পরিচিত ঘরানা থেকে সরে এসে নতুন ধরনের কাজে মনোযোগ দিতে চান তিনি। ব্যঙ্গাত্মক চরিত্রনির্ভর কমেডি থেকে তাঁর এই সরে দাঁড়ানো অভিনয়জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। তবে সমাজ, রাজনীতি ও মানুষের আচরণ নিয়ে তাঁর পর্যবেক্ষণ ভবিষ্যতে কোন ধরনের কাজের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পাবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

ঠিকানা/এসআর

নিউজটি শেয়ার করুন


সর্বশেষ আপডেট

 
© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz