মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন
জ্যামাইকায় ‘ভালো’ মেলা

একদিনের জন্য বাংলাদেশে রূপ নিল নিউইয়র্ক

একদিনের জন্য বাংলাদেশে রূপ নিল নিউইয়র্ক

নিউইয়র্ক : শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস। 

বিজ্ঞাপন
কুইন্সের জ্যামাইকার হিলসাইড অ্যাভিনিউ সংলগ্ন পার্ক যেন একদিনের জন্য পরিণত হয়েছিল বাংলাদেশের প্রাণবন্ত এক মেলায়। দেশীয় খাবারের ঘ্রাণ, বাংলা গানের সুর, শিশুদের হাসি-খেলা আর প্রবাসীদের মিলনমেলায় ভরে ওঠে পুরো আয়োজন। শুক্রবার ১৯জুন  নন-প্রফিট সংগঠন ‘ভালো’র উদ্যোগে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য মেলা প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষের অংশগ্রহণে পরিণত হয় এক বহুজাতিক উৎসবে।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে বাংলাদেশি, আমেরিকান, চাইনিজ, হিস্প্যানিকসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ অংশ নেন। আয়োজকদের মতে, প্রবাসে বসবাসরত বিভিন্ন কমিউনিটির মধ্যে সম্প্রীতি, সংযোগ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়কে আরও শক্তিশালী করাই ছিল এই মেলার মূল উদ্দেশ্য। মেলার উদ্বোধন করেন নিউইয়র্ক অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস এবং নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক অ্যাডভোকেট জুমানে উইলিয়ামসসহ স্থানীয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ। তাদের স্বাগত জানান ‘ভালো’ সংগঠনের প্রধান নির্বাহী শাহরিয়ার রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা প্রবাসে এ ধরনের বহুসাংস্কৃতিক আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং কমিউনিটির ঐক্য ও সম্প্রীতির প্রশংসা করেন।মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখেন অতিথিরা। স্টলগুলোতে সাজানো ছিল বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার, ফুচকা, বিরিয়ানি, ভর্তা, নানা ধরনের মিষ্টি ও পানীয়। আমের জুসসহ দেশীয় পানীয় ছিল দর্শনার্থীদের বিশেষ আকর্ষণ। পাশাপাশি দেশীয় পোশাক, হস্তশিল্প, প্রসাধনী এবং গৃহসজ্জার সামগ্রীর শতাধিক স্টল নিয়ে তৈরি হয় একটি পূর্ণাঙ্গ বাজার পরিবেশ।

নিউইয়র্ক : ভালো মেলার মঞ্চে অতিথি ও আয়োজকরা।
 
অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি নিউইয়র্কবাসীর সামনে তুলে ধরতে ভালো সংগঠন যে কাজ করছে তা সবার কাছে প্রশংসার দাবিদার। বাংলাদেশের সংস্কৃতি অনেক বেশি সমৃদ্ধ। এ ধরণের মেলায় না আসলে সেটা জানা যেতো না। এসময় সিটির সবাইকে আইন মেনে চলার পরামর্শ দেন। নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক অ্যাডভোকেট জুমানে উইলিয়ামস বলেন, এখানে মেলায় এসে অনেক আনন্দিত । বাংলাদেশ কমিউনিটি তাদের কাজের মাধ্যমে নিউইয়কে এগিয়ে যাচ্ছে। তারা অনেক ক্ষেত্রে ভালো কাজ করছে যা অন্যান্য কমিউনিটির জন্য অনুসরণীয়। ‘ভালো’ সংগঠন বাংলাদেশ কমিউনিটিকে সামনে এগিয়ে নিতে কাজ করছে, এজন্য তাদের  প্রশংসা করেন জুমানে উইলিয়ামস।

নিউইয়র্ক : শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন পাবলিক অ্যাডভোকেট জুমানে উইলিয়ামস।
 
‘ভালো’ সংগঠনের ডিরেক্টর অব পাবলিক রিলেশনস শাহরিয়ার নবী বলেন, ‘ভালো’ নন প্রফিট সংগঠন। কমিউনিটির জন্য কিছু করার তাগিদ থেকেই এমন মেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা চাই সবার একটি মিলনমেলার তৈরি হোক, পাশাপাশি উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়িরা তাদের ব্যবসার একটা ক্ষেত্র তৈরি করার সুযোগ হোক। নিউইয়র্কবাসীকে ভালো আয়োজিত মেলার মাধ্যমে আনন্দময় সময় দিতে চাই। এ মেলায় ৭০ বেশি উদ্যোক্ত, ব্যবসায়ি অংশ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।  
অনেক দর্শনার্থী জানান, প্রবাসে বসে এমন আয়োজন তাদেরকে দেশের মেলার কথা মনে করিয়ে দেয়। কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরে দেখেন স্টল, কেউ আবার স্বাদ নেন প্রিয় দেশীয় খাবারের। জ্যামাইকার সামিনা আমিন বলেন, এখানে এসে মনে হচ্ছে যেন বাংলাদেশেই আছি। খাবার থেকে শুরু করে পরিবেশ—সবই দারুণ লাগছে। আমরা প্রতিবছর এমন মেলা চাই, এতে আমাদের নতুন প্রজন্মও নিজের সংস্কৃতি জানতে পারে।
শিশুদের জন্য মেলায় ছিল নানা ধরনের রাইড, খেলাধুলা এবং বিনোদনের ব্যবস্থা।  স্লাইড এবং বিভিন্ন গেমে শিশুদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। অন্যদিকে বড়দের জন্য আয়োজন করা হয় ফুচকা খাওয়ার প্রতিযোগিতা এবং র‍্যাফেল ড্র, যা পুরো মেলাকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

নিউইয়র্ক : বক্তব্য রাখছেন নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি স্পিকার ড. নানতাশা উইলিয়ামস। 
 
আয়োজন ঘিরে বিভিন্ন সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ। তাদের মধ্যে ছিলেন সাপ্তাহিক ঠিকানার সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এম এম শাহীন, নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি স্পিকার ড. নানতাশা উইলিয়ামস, কাউন্সিলম্যান শেখর কৃষ্ণান, মেয়রের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা মীর বাশার, কংগ্রেস প্রার্থী চাক পার্ক, ইলহাম একাডেমির কর্ণধার মাওলানা মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, কুইন্স বরো প্রেসিডেন্টের অফিসের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাদেক, জ্যামাইকা ফ্রেন্ডস সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ফখরুল ইসলাম দেলোয়ারসহ আরও অনেকে। তারা এ ধরনের উদ্যোগকে প্রবাসী কমিউনিটির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন। সাপ্তাহিক ঠিকানার সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এম এম শাহীন বলেন, ভালো সংগঠনের গুন যে কতভালো তা বলে শেষ করা যাবে না। প্রধান নির্বাহী শাহরিয়ার রহমান কমিউনিটির কল্যাণে ও বাংলাদেশর জন্য অনেক কাজ করলেও তিনি প্রকাশ করতে চান না। করোনা থেকে শুরু করে অনেক ইতিবাচক কাজের জন্য সংগঠনটির সাফল্য কামনা করি। ঠিকানা টিভি, ডিজিটাল ও  পত্রিকার মাধ্যমে সব ধরণের সহযোগিতা করতে ‘ভালো’র পাশে থাকা অঙ্গিকার করেন এম এম শাহীন।

নিউইয়র্ক : ‘ভালো মেলা’য় কন্যাসন্তানসহ ঠিকানার ভাইস প্রেসিডেন্ট মুশরাত শাহীন।
 
মেয়র জোহরান মামদানির প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা মীর বাশার ‘ভালো’ এটি শুধু একটি সাংস্কৃতিক মেলা নয়, বরং মানুষের মধ্যে সম্পর্ক, সম্প্রীতি এবং মানবিক বন্ধন তৈরি করার একটি সামাজিক উদ্যোগ। প্রবাসে বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষ একসঙ্গে কাজ ও আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারলে সমাজ আরও শক্তিশালী হয় বলে মনে করেন তিনি।

নিউইয়র্ক : ‘ভালো মেলা’য় চটপটি খাওয়া প্রতিযোগিতার একটি দৃশ্য।
 
কাউন্সিলম্যান শেখর কৃষ্ণান বলেন, ভালো শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগ তৈরির একটি প্ল্যাটফর্ম। আমরা চাই প্রবাসে সবাই মিলেমিশে সংস্কৃতি, আনন্দ এবং সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে যাক।
মেলার আরেকটি বড় আকর্ষণ ছিল ফুটবল উন্মাদনা। বিশ্বকাপ উপলক্ষে বড় পর্দায় সরাসরি ম্যাচ দেখার ব্যবস্থা করা হয়, যা দর্শনার্থীদের মধ্যে বাড়তি উত্তেজনা তৈরি করে। খেলা দেখতে দেখতে দর্শকরা একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন।
দিনভর মেলার সাংস্কৃতিক পর্বে ছিল সংগীত পরিবেশনা। জনপ্রিয় শিল্পীদের পাশাপাশি বিউটি দাস ও রাজীব রহমানের ব্যান্ডের প্রাণবন্ত সংগীতে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। বাংলা গান, দেশীয় সুর এবং প্রবাস জীবনের আবেগ যেন এক সুরে গেঁথে দেয় উপস্থিত দর্শকদের।

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz