অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি নোয়াখালী সোসাইটির সভাপতির
ঠিকানা রিপোর্ট
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৬, ১৪:৩০
•
অনলাইন সংস্করণ
নিউইয়র্ক : জানাজা শেষে মোনাজাত আদায়।
আপেল মাহমুদ : নিউইয়র্কের আপস্টেটে বাংলাদেশিদের উদ্যোগে গড়ে ওঠা বৃহৎ মুসলিম কবরস্থান ‘বাংলাদেশ সেমিট্রি’তে প্রথম মরদেহ দাফনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে কবর দেয়ার কার্যক্রম। গত ২০ জুন স্কটটাউনে এ কার্যক্রম শুরু হয়। প্রায় ১২৬ একর জমির ওপর নির্মিত এই প্রকল্পকে প্রবাসী বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির জন্য একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন উদ্যোক্তারা। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কবরস্থান নিয়ে চলা সমালোচনা ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারির ঘোষণা দিয়েছে বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটি।
নিউইয়র্কে মুসলিমদের জন্য দাফনের বিষয়টি দিন দিন ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে উঠছে। সিটির অভ্যন্তরে কবরস্থানের জমির সংকট, উচ্চমূল্য এবং সীমিত সুযোগের কারণে অধিকাংশ মুসলিম মরদেহ বর্তমানে লং আইল্যান্ড, নিউ জার্সি কিংবা পেনসিলভানিয়ার বিভিন্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়। ফলে অনেক পরিবারকে প্রিয়জনের দাফনের জন্য দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম এবং অতিরিক্ত আর্থিক ব্যয়ের মুখোমুখি হতে হয়।
এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটি কয়েক বছর আগে আপস্টেট নিউইয়র্কের স্কটটাউনে একটি বৃহৎ মুসলিম কবরস্থান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়। দীর্ঘ পরিকল্পনা, জমি ক্রয় এবং অবকাঠামো উন্নয়নের পর এখন প্রকল্পটি বাস্তব রূপ নিতে শুরু করেছে।
সোসাইটির নেতারা জানান, মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী জুলাই মাস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কবর দেয়ার কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে সম্প্রতি সংগঠনের এক উপদেষ্টার মৃত্যু হলে তার মরদেহ গত ২০ জুন বাংলাদেশ সেমিট্রিতে দাফন করা হয়। এর মধ্য দিয়েই প্রকল্পটির কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে।
উপস্থিত ব্যক্তিরা বলেন, নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি মুসলমানদের জন্য নিজস্ব একটি বৃহৎ কবরস্থানের দীর্ঘদিনের চাহিদা ছিল। বাংলাদেশ সেমিট্রি সেই চাহিদা পূরণের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের তথ্যানুযায়ী, প্রায় এক লাখেরও বেশি কবরের পরিকল্পনা নিয়ে নির্মিত হচ্ছে এই কবরস্থান। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ২০ হাজার কবরের জায়গা বরাদ্দ ও বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে দ্বিতীয় পর্যায়ে আরো ৪২ হাজার কবরের প্লট বিক্রির কার্যক্রম চলছে।
উদ্যোক্তারা বলছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দাফনের বিষয়টি মাথায় রেখেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক এএসএম মাইন উদ্দিন পিন্টু বলেন, শুধু কবরের জায়গা বিক্রি নয়, আধুনিক ব্যবস্থাপনাসহ একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামিক দাফন ব্যবস্থার অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। কবর খনন, দাফন এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে।
অন্যদিকে সংগঠনের সভাপতি জাহিদ মিন্টু ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে জানান, কবরস্থানের ভেতরে ফিউনারেল হোম নির্মাণ, জানাজার ব্যবস্থা, পার্কিং সুবিধা এবং দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, এটি শুধু একটি কবরস্থান নয়; বরং প্রবাসী বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির জন্য একটি স্থায়ী ধর্মীয় ও সামাজিক সম্পদ।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশ সেমিট্রি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের সমালোচনা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে জাহিদ মিন্টু বলেন, ‘নোয়াখালীবাসীর ভদ্রতা দেখেছেন, নম্রতা দেখেছেন, কিন্তু হুংকার দেখেননি।’
তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, এই অপপ্রচারকারীদের নোয়াখালী সোসাইটিসহ সমগ্র নোয়াখালীবাসী প্রতিহত করবে।
জাহিদ মিন্টু আরো বলেন, ব্যক্তি জাহেদ মিন্টুর সাথে কারো কোনো ব্যক্তিগত সমস্যা থাকলে সেই সমস্যা যেনো বাংলাদেশ সেমিট্রির সাথে মেশানো না হয়।
তিনি বলেন, আজকের এই কবরের মাটি আমি বা আপনি যে কারো হতে পারতো।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবাই এই অপপ্রচার থেকে বিরত থাকবেন।
তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশিদের আবেগের প্রজেক্ট, এবং অতীতে যা কিছু হয়েছে, তা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন।
কবরস্থানে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তির কাছ থেকে কবর ক্রয়ের জন্য চেক গ্রহণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রবাসে বাংলাদেশিদের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামোর প্রয়োজনীয়তাও বেড়েছে। বাংলাদেশ সেমিট্রি সেই চাহিদা পূরণে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই এই প্রকল্পকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও স্থায়ী দাফনব্যবস্থা হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
তাদের মতে, প্রবাস জীবনে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাংলাদেশিরা নিজেদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় ধরে রাখতে যে সচেষ্ট, বাংলাদেশ সেমিট্রি তারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
বাংলাদেশ সেমিট্রিতে উপদেষ্টার দাফন অনুষ্ঠানে মরহুমের পরিবারের সদস্য ও বৃহত্তর নোয়াখালীর প্রবাসীদের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও কমিউনিটি সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এতে অংশ নেন বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, সিনিয়র সহ-সভাপতি দেওয়ান মহিউদ্দিন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাছের, ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য নাঈম টুটুল, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এম আজিজ, সন্দীপ সোসাইটির প্রেসিডেন্ট ফিরোজ আহমেদ প্রমুখ।