শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ :
• ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৮ অঙ্গরাজ্যের মামলা • নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার থেকে সরে এলেন ট্রাম্প • কুমিল্লা সীমান্ত থেকে দুই পুলিশ সদস্যকে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ • হেনস্তার আগে দূতাবাস ড. ইউনূসকে নিরাপত্তা দেয়নি কেন? • কোকেন সেবনের পর লন্ডনের রাস্তায় অচেতন আমিরাতের রাজবধূ • ঢাকা দূষিত শহরের তালিকায় প্রথম বা দ্বিতীয়, এটি দেশের জন্য লজ্জার : প্রধানমন্ত্রী • দেশে ফের বাড়ল ডলারের দাম • ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ৪ • মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ • নেত্রকোনায় প্রকাশ্যে সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

বিএনপি সরকারের প্রথম দুই মাস: অর্জন ও ঘাটতি

বিএনপি সরকারের প্রথম দুই মাস: অর্জন ও ঘাটতি

বিজ্ঞাপন
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম দুই মাস পূর্ণ করেছে। এই সময়টি সরকারের শাসন-অগ্রাধিকার, নীতিনির্ধারণী দিকনির্দেশনা এবং প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গির একটি প্রাথমিক চিত্র তুলে ধরে। যদিও সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ খাতে সংস্কারের ইঙ্গিত দিয়েছে, তবুও সামগ্রিক পারফরম্যান্স এখন পর্যন্ত ‘মিশ্র’—প্রাথমিক গতিশীলতা থাকলেও কাঠামোগত ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এখনো বড় বাধা হয়ে রয়েছে।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সরকার সক্রিয় অবস্থান প্রদর্শন করেছে। রাজস্ব আয় বাড়ানো এবং কর ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ চলছে। একইসঙ্গে ব্যাংকিং খাতে তদারকি জোরদারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর নজরদারির ঘোষণা দিয়েছে। এসব পদক্ষেপ অর্থনীতিতে কিছুটা আস্থার সঞ্চার করেছে, যদিও দীর্ঘমেয়াদে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর।

আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়িয়েছে সরকার। ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ স্প্রিং মিটিং চলাকালে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল আইএমএফ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছে। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকগুলো গঠনমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় এবং রাজস্ব সংস্কার, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বেশ কিছু বিষয়ে ঐকমত্য হলেও, বাকি বিষয়গুলোতে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

তবে এসব কূটনৈতিক ও নীতিগত উদ্যোগ সত্ত্বেও অর্থনৈতিক চাপ এখনো প্রকট। মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে, আর সরকার এখনো দ্রব্যমূল্য পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। বাজারে অস্থিরতা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ এবং জ্বালানি আমদানির উচ্চ ব্যয়—এসব কারণে জনজীবনে তাৎক্ষণিক স্বস্তি দিতে সরকার সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েছে। ফলে জনবান্ধব নীতির ঘোষণা থাকলেও এর প্রভাব এখনো দৃশ্যমান নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত সংস্কারে সরকারের অবস্থান কাগজে-কলমে দৃঢ় হলেও বাস্তবায়নের গতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা—যেমন উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে শাসন সংকট—দূর করতে কার্যকর ও ধারাবাহিক প্রয়োগ জরুরি। আগামী মাসগুলোতে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ দেওয়ার সক্ষমতাই হবে সরকারের বড় পরীক্ষা।

প্রশাসনিক ক্ষেত্রে সরকার গুরুত্বপূর্ণ পদে একাধিক বদলি ও নতুন নিয়োগ দিয়েছে, যা প্রশাসনকে সরকারের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ঘনঘন এই পরিবর্তন প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা ব্যাহত করতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে। দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার কঠোর অবস্থানের কথা বললেও মাঠপর্যায়ে এর দৃশ্যমান প্রভাব এখনো সীমিত।

রাজনৈতিক অঙ্গনে সরকার তুলনামূলক সংযত অবস্থান নিয়েছে। বিরোধী শক্তির সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাত এড়িয়ে সংসদীয় কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা স্বল্পমেয়াদে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক। তবে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপ এবং রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তোলা জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নীতিগত উদ্যোগের ক্ষেত্রে সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক সহায়তা কার্ড এবং খাল খনন প্রকল্পসহ বেশ কিছু কর্মসূচি চালু বা ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও খেলাধুলা খাতে উন্নয়নের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আইন-শৃঙ্খলা জোরদার এবং দুর্নীতি দমনে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। তবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে এখনো বড় ধরনের দৃশ্যমান অগ্রগতি পাওয়া যায়নি।

মোদ্দাকথা, বিএনপি সরকারের প্রথম দুই মাস ছিল সক্রিয়তা ও নীতিগত বার্তা দেওয়ার সময়কাল, তবে বাস্তব ফলাফল এখনো সীমিত। কিছু ক্ষেত্রে সংস্কারের দিকনির্দেশনা ইতিবাচক হলেও, সরকারের প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জনগণের জীবনে বাস্তব স্বস্তি ফিরিয়ে আনার সক্ষমতার ওপর।

নিউজটি শেয়ার করুন


সর্বশেষ আপডেট

© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz