বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

পবিত্র আশুরা আজ

পবিত্র আশুরা আজ

এআই জেনারেটেড ছবি।

বিজ্ঞাপন
যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, শ্রদ্ধা ও মর্যাদার মধ্য দিয়ে আজ শুক্রবার (১০ মহররম ১৪৪৮ হিজরি) সারা দেশে পালিত হচ্ছে পবিত্র আশুরা। ইসলামের ইতিহাসে দিনটি একদিকে যেমন আল্লাহর অনুগ্রহ ও মুক্তির স্মারক, অন্যদিকে তেমনি কারবালার হৃদয়বিদারক শাহাদাতের বেদনাময় স্মৃতিবাহী। এ উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে পবিত্র আশুরার তাৎপর্য তুলে ধরে দেশবাসীকে সত্য, ন্যায়, সহনশীলতা, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

'আশুরা' শব্দটি আরবি 'আশারা' (দশ) থেকে এসেছে। মহররম মাসের দশম দিন হওয়ায় দিনটিকে আশুরা বলা হয়। ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী, এ দিন আল্লাহ তাআলা হজরত মুসা (আ.) ও বনি ইসরাঈলকে ফেরাউনের জুলুম থেকে মুক্তি দেন। সেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশে হজরত মুসা (আ.) রোজা রাখতেন। পরবর্তীতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় এসে ইহুদিদের আশুরার রোজা পালন করতে দেখে এর কারণ জানতে চান। তারা মুক্তির সেই ঘটনার কথা জানালে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, "মুসা (আ.)-এর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমরাই অধিক হকদার।" এরপর তিনি নিজেও আশুরার রোজা রাখেন এবং সাহাবিদেরও রোজা রাখার নির্দেশ দেন (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২০০৪)।

হাদিসে আশুরার রোজার বিশেষ ফজিলতের কথাও উল্লেখ রয়েছে। সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, আশুরার রোজা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হওয়ার আশা করা যায়। এছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) ইহুদিদের অনুসৃত রীতির সঙ্গে পার্থক্য রাখতে ৯ ও ১০ মহররম অথবা ১০ ও ১১ মহররম—দুই দিন রোজা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। সে অনুযায়ী অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলমান ৯ ও ১০ মহররম অথবা ১০ ও ১১ মহররম নফল রোজা পালন করে থাকেন।

তবে ইসলামী ইতিহাসে আশুরার আরেকটি গভীর তাৎপর্য রয়েছে। ৬১ হিজরির ১০ মহররম ইরাকের কারবালা প্রান্তরে মহানবী (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (রা.), তাঁর পরিবারের সদস্য এবং অল্পসংখ্যক সঙ্গী ইয়াজিদের বাহিনীর হাতে শাহাদাতবরণ করেন। সত্য, ন্যায় ও ইসলামের আদর্শ রক্ষার জন্য তাদের আত্মত্যাগ মুসলিম বিশ্বের ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে শিয়া সম্প্রদায় দিনটিকে শোক দিবস হিসেবে পালন করে।

আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার বাণীতে বলেন, পবিত্র আশুরার শাশ্বত শিক্ষা মানুষকে অন্যায়, অবিচার, জুলুম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে উদ্বুদ্ধ করে। তিনি ব্যক্তিজীবন, সমাজ ও রাষ্ট্রে ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে বলেন, ইসলামে বিভেদ, বিদ্বেষ, হানাহানি কিংবা সামাজিক বৈরিতার কোনো স্থান নেই। তিনি বলেন, পবিত্র আশুরার শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করতে হবে। একই সঙ্গে ন্যায়ভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

দিনটি উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদে কোরআনখানি, মিলাদ মাহফিল, ওয়াজ, বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনও আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে।

এদিকে কারবালার শোকাবহ ঘটনার স্মরণে রাজধানীর হোসেনি দালানকে কেন্দ্র করে শিয়া সম্প্রদায় তাজিয়া মিছিল, মজলিস ও বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচি পালন করছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন হাজারো মানুষ।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তাজিয়া মিছিলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ, গোয়েন্দা সদস্য ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। মিছিল চলাকালে ধারালো অস্ত্র, লাঠি, বল্লম বা ঝুঁকিপূর্ণ সামগ্রী বহন না করার নির্দেশনাও দিয়েছে ডিএমপি। পাশাপাশি সকলকে ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, আশুরার প্রকৃত শিক্ষা হলো আল্লাহর প্রতি আনুগত্য, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থাকা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং মানবকল্যাণে আত্মত্যাগের আদর্শ ধারণ করা। তাই আনন্দ, কৃতজ্ঞতা ও শোক—এই তিন ঐতিহাসিক তাৎপর্যের সমন্বয়ে মুসলিম উম্মাহর কাছে পবিত্র আশুরা একটি গভীর আত্মজাগরণ ও আত্মশুদ্ধির দিন হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

ঠিকানা/এসআর

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz