মন্ত্রী পর্যায়ে ১৩, বিডার সঙ্গে ৩ ও বিএনপি-সিপিসির মধ্যে ১টি সমঝোতা
ঠিকানা অনলাইন
প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৬, ১৬:৫৩
•
অনলাইন সংস্করণ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তিন দিনের রাষ্ট্রীয় চীন সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে মোট ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি দুই দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে, তিনটি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং একটি বিএনপি ও চীনের ক্ষমতাসীন চাইনিজ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) বেইজিংয়ের তিয়াওইউথাই স্টেট গেস্টহাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-চীনের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সম্মতিতে মোট ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর মধ্যে ১৩টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের উপস্থিতিতে দুই দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে।
মাহ্দী আমিন জানান, আরও তিনটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও চীনের বিভিন্ন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এবং শিল্প-উদ্যোক্তাদের মধ্যে। এসব সমঝোতার লক্ষ্য বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা।
তিনি বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা হয়েছে রাজনৈতিক দল পর্যায়ে। বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনাকারী দল বিএনপি এবং চীনের ক্ষমতাসীন চাইনিজ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) মধ্যে এই সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দলের মধ্যে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়, রাজনৈতিক সংলাপ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক অর্থনীতি, বাণিজ্য ও অবকাঠামোর গণ্ডি ছাড়িয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং কৌশলগত সহযোগিতার নতুন মাত্রায় উন্নীত হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, স্বাক্ষরিত সমঝোতাগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শিল্প সহযোগিতা, অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সহযোগিতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং দ্বিপক্ষীয় প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা সংক্রান্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সফরের শেষ দিন শুক্রবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একান্ত ও প্রতিনিধিদল পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডোর, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর উন্নয়ন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা সংলাপের জন্য ‘টু প্লাস টু’ কাঠামো এবং বাংলাদেশের সম্ভাব্য ব্রিকস সদস্যপদসহ বিভিন্ন কৌশলগত বিষয়ে আলোচনা হয়।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই তারেক রহমানের প্রথম রাষ্ট্রীয় বিদেশ সফর। গত ২১ জুন তিনি মালয়েশিয়া সফর করেন। সেখানে দ্বিপক্ষীয় কর্মসূচি শেষে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে অংশ নিতে চীনের দালিয়ানে যান। পরে ২৫ জুন বেইজিংয়ে পৌঁছে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। সফর শেষে শুক্রবার বিকেলে তিনি ঢাকার উদ্দেশে চীন ত্যাগ করেন।