মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

দক্ষিণ আফ্রিকাকে কাঁদিয়ে শেষ ষোলোতে কানাডা

দক্ষিণ আফ্রিকাকে কাঁদিয়ে শেষ ষোলোতে কানাডা

দক্ষিণ আফ্রিকার জালে বল জড়িয়ে উল্লাসে মেতে ওঠে কানাডা। ছবি : ফিফা

বিজ্ঞাপন
বেশ কয়েকবার দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণে হানা দিল কানাডা। তবে গোলবারের নিচে যেনো চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামস। আফ্রিকাকে অন্তত পাঁচবার রক্ষা করেছেন তিনি। নির্ধারিত ৯০ মিনিট কানাডাকে আটকে রাখতে পারলেও যোগ করা সময়ে আর পারলেন না উইলিয়ামস। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে গোল করে ইতিহাস গড়ে প্রথম দল হিসেবে এবারের বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিল কানাডা।

২৮ জুন (রবিবার) বাংলাদেশ সময় রাদ ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যালেঞ্জে স স্টেডিয়ামে শেষ ৩২- এর প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল কানাডা আর দক্ষিণ আফ্রিকা। জমজমাট লড়াই শেষে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ গোলে হারিয়েছে কানাডা। এবারের বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক কানাডার হয়ে ইতিহাস গড়া গোলটি করেন অধিনায়ক স্টিফেন ইউস্তাকিও।

১৯৮৬ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেললেও সেবার একটি ম্যাচও জিততে পারেনি উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডা। চার দশক পর ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্ব পেরিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নতুন ইতিহাস লিখল কানাডা।

শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় কানাডা। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণভাগ তাদের একের পর এক আক্রমণ প্রতিহত করে। প্রথমার্ধের সেরা সুযোগটি আসে মোইস বোম্বিতোর হেড থেকে। তার শক্তিশালী প্রচেষ্টা প্রায় জালে জড়িয়েই যাচ্ছিল, কিন্তু গোললাইন থেকে অবিশ্বাস্যভাবে ক্লিয়ার করে নিশ্চিত গোল বাঁচান অব্রে মোডিবা।

এর কিছুক্ষণ পর পেনাল্টির জোরালো আবেদন জানায় কানাডা। বক্সের ভেতরে রিচি লারেয়াকে খুলিশো মুদাউ ফাউল করেছেন বলে দাবি ওঠে। তবে রেফারি সেটিকে ফাউল মনে করেননি এবং খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। ফলে গোলশূন্য অবস্থাতেই বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার অব্যাহত রাখে কানাডা। অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকা রক্ষণ সামলে পাল্টা আক্রমণে সুযোগ খুঁজতে থাকে। নির্ধারিত সময় শেষ হলেও কোনো দলই গোলের দেখা পাচ্ছিল না। ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু যোগ করা সময়ে সব হিসাব-নিকাশ বদলে যায়।

যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আসে ম্যাচের ফলাফল নির্ধারক মুহূর্ত। দক্ষিণ আফ্রিকার ডিফেন্ডাররা হেড করে বল বিপদমুক্ত করতে চাইলেও সেটি গিয়ে পড়ে বক্সের ঠিক বাইরে অপেক্ষায় থাকা স্টিফেন ইউস্তাকিওর সামনে। এক মুহূর্ত দেরি না করে হাফ-ভলিতে জোরালো শটে দূরের কোণায় বল জালে জড়িয়ে দেন কানাডার এই মিডফিল্ডার। দুর্দান্ত সেই ফিনিশিংয়েই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।

শেষ পর্যন্ত ইউস্তাকিওর সেই একটিমাত্র গোলই গড়ে দেয় ম্যাচের ভাগ্য। ১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপে অভিষেকের পর এবারই প্রথম নকআউট পর্বে জয় পেল কানাডা। ঘরের মাঠে ঐতিহাসিক এই জয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ষোলোতে উঠে গেছে তারা। এখন কানাডার প্রতিপক্ষ হবে নেদারল্যান্ডস ও মরক্কোর মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দল।

ঠিকানা/এসআর

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz