শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

ঈশ্বরগঞ্জে অস্তিত্ব সংকটে কাঁচামাটিয়া, পুনরুদ্ধারে শুরু হলো অভিযান

ঈশ্বরগঞ্জে অস্তিত্ব সংকটে কাঁচামাটিয়া, পুনরুদ্ধারে শুরু হলো অভিযান

ঈশ্বরগঞ্জের কাঁচামাটিয়া নদী পুনরুদ্ধারে কচুরিপানা অপসারণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করছেন সংসদ সদস্য প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু। ছবি: ঠিকানা।

বিজ্ঞাপন
রেজাউল করিম বিপ্লব  (ময়মনসিংহ) : দীর্ঘদিন ধরে কচুরিপানার দখল, অবৈধ দখলদারিত্ব ও দূষণে অস্তিত্ব সংকটে পড়া ঈশ্বরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী কাঁচামাটিয়া নদী পুনরুদ্ধারে অবশেষে উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে আজ ১২ জুন (শুক্রবার) আনুষ্ঠানিকভাবে নদী থেকে কচুরিপানা অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি নদীর হারানো প্রবাহ ও পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার প্রথম পদক্ষেপ। 

স্থানীয়রা বলেন, একসময় ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার অর্থনীতি, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনজীবনের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র ছিল কাঁচামাটিয়া নদী। নদীপথে ধান, পাট, মাছসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং হাট-বাজার গড়ে ওঠার পেছনে নদীটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনের দখল, দূষণ, অব্যবস্থাপনা ও নাব্যতা সংকটের কারণে নদীটি এখন অস্তিত্বের সংকটে। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে কচুরিপানা জমে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবেশ সচেতন নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের দাবির পর অবশেষে কাঁচামাটিয়া নদী পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে শুক্রবার বিকেলে পৌর শহরের ইসলামপুর রোডসংলগ্ন এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে নদী থেকে কচুরিপানা অপসারণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাউদ্দিন বিশ্বাস, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম মনি, যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুর রাজ্জাক ভূঁইয়া হীরা, শাহজাহান জয়পুরী, শরিফ আবেদীন জায়েদী, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব মো. নূরে আলম জিকুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।

ইউএনও সানজিদা রহমান বলেন, কাঁচামাটিয়া নদী শুধু একটি জলধারা নয়, এটি ঈশ্বরগঞ্জের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জনজীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দীর্ঘদিন ধরে নদীটি রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয়রা। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই প্রশাসনের উদ্যোগে কচুরিপানা অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, নদী রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও দায়িত্ব রয়েছে। নদীতে বর্জ্য ফেলা ও অবৈধ দখল বন্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু বলেন, কাঁচামাটিয়া নদী ঈশ্বরগঞ্জের ঐতিহ্য ও পরিচয়ের অংশ। নদীটির হারানো সৌন্দর্য ও প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। প্রাথমিকভাবে কচুরিপানা অপসারণের মাধ্যমে নদী পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হলেও ভবিষ্যতে বৃহৎ প্রকল্পের আওতায় খনন কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা গেলে পরিবেশের উন্নয়নের পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স্থানীয় প্রবীণরা জানান, কয়েক দশক আগেও কাঁচামাটিয়া নদীতে সারা বছর নৌকা চলাচল করত। আশপাশের গ্রামের কৃষকরা নদীপথে পণ্য পরিবহন করতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নদী ভরাট হয়ে যায় এবং বিভিন্ন স্থানে অবৈধ দখল ও ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। বর্তমানে অনেক অংশে নদীর অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

পরিবেশকর্মী ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কেবল কচুরিপানা অপসারণ করলেই নদী রক্ষা সম্ভব হবে না। নদীর তীর দখলমুক্ত করা, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত খনন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তারা কাঁচামাটিয়া নদীকে স্থায়ীভাবে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থানীয়দের আশা, প্রশাসনের এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে এবং দ্রুত খনন কার্যক্রম শুরু করা গেলে একসময়কার প্রাণচঞ্চল কাঁচামাটিয়া নদী আবারও ফিরে পাবে তার হারানো রূপ ও ঐতিহ্য।

ঠিকানা/এসআর
 

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz