পরাধীন জাতির ভাগ্যাকাশে নজরুলের আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো: প্রধানমন্ত্রী
ঠিকানা অনলাইন
প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২৬, ১৫:৪৮
•
অনলাইন সংস্করণ
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, পরাধীন, পর্যুদস্ত ও পরাভূত জাতির ভাগ্যাকাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের আবির্ভাব ছিল এক আলোকবর্তিকার মতো।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষ থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারাদেশে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’ উদযাপন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণ না করলেও তার হৃদয়জুড়ে ছিল বাংলাদেশ। একইভাবে বাংলাদেশের মানুষও তাকে হৃদয়ের গভীর থেকে ভালোবাসে।
তিনি জানান, ১৯১৪ সালে কিশোর বয়সে নজরুল প্রথমবারের মতো ময়মনসিংহের ত্রিশালে আসেন। কবির স্মৃতিবিজড়িত সেই ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ ঘোষণার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি সরকার ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
তারেক রহমান বলেন, বিদ্রোহ, প্রেম, বিরহ, তারুণ্য ও ঐতিহ্যের কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় সাহিত্য-সংস্কৃতির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম। পরাধীনতা, জুলুম, নির্যাতন, শোষণ, বৈষম্য, কুসংস্কার ও সব ধরনের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে তার কলম ছিল শাণিত অস্ত্র।
তিনি বলেন, বিপ্লব-বিদ্রোহ, রণসংগীত, ইসলামী সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ, ভজন-কীর্তন, শ্যামাসংগীত, প্রেম-প্রকৃতি কিংবা মানবিক চেতনা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই নজরুল আমাদের শুদ্ধ প্রকাশের প্রতীক হয়ে আছেন।
মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার ক্ষেত্রেও নজরুলকে অন্যতম প্রধান দিশারি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের জীবন, স্বপ্ন, সংগ্রাম, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য তার সৃষ্টিকর্মে মহিমান্বিত হয়ে উঠেছে। অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর প্রেরণাও আমরা তার কাছ থেকেই পাই। ফলে তার প্রাসঙ্গিকতা কখনোই ফুরিয়ে যাওয়ার নয়।
তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে নজরুলের কবিতা ও গান ছিল অনুপ্রেরণার এক শক্তিশালী উৎস। দেশের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামেও তার সৃষ্টিশীলতা প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের ভাষা হয়ে উঠেছে। শুধু অতীত নয়, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবনেও নজরুল সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
এ কারণে জাতীয় কবির জীবন ও কর্মকে সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে আরও গভীরভাবে পৌঁছে দিতে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, প্রতিটি জাতি ও সমাজে এমন কিছু ক্ষণজন্মা মানুষ জন্ম নেন, যারা সমাজ, রাষ্ট্র, সাহিত্য-সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও মনোজগতে গভীর প্রভাব বিস্তার করেন। কাজী নজরুল ইসলাম তেমনই একজন অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, যার প্রভাব আমাদের জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে অনুভূত হয়।
তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে নতুন প্রজন্মের সামনে যেমন জ্ঞানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে, তেমনি মূল্যবোধের সংকটও তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বাস্তবতায় নজরুলের নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক চেতনায় ভরপুর কবিতা ও ছড়াগুলো তরুণদের জন্য পথপ্রদর্শক হতে পারে।
তিনি নজরুলের বিখ্যাত পঙক্তি উদ্ধৃত করে বলেন—
“আমি হব সকাল বেলার পাখি
সবার আগে কুসুম বাগে
উঠব আমি ডাকি।”
এছাড়া তিনি আরও বলেন—
“থাকব নাকো বদ্ধ ঘরে
দেখব এবার জগৎটাকে
কেমন করে ঘুরছে মানুষ
যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কবি নজরুলকে নিয়ে আলোচনা কেবল মন্ত্রণালয় বা সরকারি দপ্তরের চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। তার সাহিত্য, দর্শন ও জীবনবোধকে পৌঁছে দিতে হবে দেশের প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে।