শূন্য হচ্ছে মির্জা ফখরুলের তিন পদ, বিএনপিতে জল্পনা তুঙ্গে
নূরুল ইসলাম
প্রকাশ : ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ০২:২২
•
অনলাইন সংস্করণ
ছবি সংগৃহীত
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হলে একসঙ্গে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য হয়ে যাবে। পদ তিনটি হলো বিএনপির মহাসচিব, সরকারের মন্ত্রী এবং জাতীয় সংসদের সদস্যপদ। ফলে এসব পদে কে দায়িত্ব পাবেন, তা নিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরে এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। জাতীয় সংসদে বুধবার চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবারই দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। বিএনপি ইতোমধ্যে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে।
আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেদিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১৬ আগস্ট এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট। এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকায় দলীয় সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ দলের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষেই ভোট দিতে বাধ্য থাকবেন।
জাতীয় সংসদে বর্তমানে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের ২৫০ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াত-এনসিপি জোটের সদস্যসংখ্যা ৯০ এবং স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দলের সদস্য রয়েছেন ৯ জন। একটি আসন বর্তমানে শূন্য রয়েছে। বিরোধী জোট ইতোমধ্যে এলডিপির সভাপতি, সাবেক মন্ত্রী ও মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে বিএনপির মহাসচিব পদ। দলীয় গঠনতন্ত্রে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের বিধান না থাকলেও অতীতে বিশেষ পরিস্থিতিতে চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০১১ সালে তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০১৬ সালে দলের কাউন্সিলে তিনি পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচিত হন। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আপাতত একজনকে দায়িত্ব দিতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে আলোচনা রয়েছে।
মহাসচিব পদের সম্ভাব্য দায়িত্বশীলদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের চেয়ারম্যান।
ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়েও নতুন মন্ত্রী নিয়োগ দিতে হবে। সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম মূল্যায়নের পর মন্ত্রিসভায় রদবদলের সম্ভাবনার ইঙ্গিত আগেই দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৭ আগস্ট সরকারের ১৮০ দিন পূর্ণ হবে। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন—দুই বিষয়ই একই সময়ে আলোচনায় চলে এসেছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এ সুযোগে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন হতে পারে।
অন্যদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনও শূন্য হবে এবং সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন তার বড় মেয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও গবেষক ড. শামারুহ মির্জা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাবার পক্ষে মাঠে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। পাশাপাশি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মির্জা ফয়সল আমীনের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। তিনি মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয়। ফলে উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পরিবারের কোন সদস্যের হাতে যাবে, সেটিও এখন কৌতূহলের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে নিবিড় আলোচনা চলছে। বৃহস্পতিবারের স্থায়ী কমিটির বৈঠকেই রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। এরপর নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলের নাম চূড়ান্ত হলে শুধু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনই নয়, বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো, মন্ত্রিসভা এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ভবিষ্যৎ প্রতিনিধিত্বসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে।