প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪০
•
অনলাইন সংস্করণ
শিরোনামটি নতুন নয়, পুরোনো। পুরোনো বলতে বেশ পুরোনো। ঠিকানাতেই প্রকাশিত হয়েছিল, ২০১০ সালের ১২ নভেম্বর সংখ্যায়। ফোবানার অর্থ আমরা সবাই জানি। ‘ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশন ইন নর্থ আমেরিকা’। অতি পুরোনো সেই শিরোনামটি ব্যবহার করা হলো এ কারণে যে ফোবানা সেদিন যা ছিল, অর্থাৎ কতিপয় মানুষের নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব প্রদর্শনের উদগ্র বাসনা। সেবার ছিল ফোবানার রজতজয়ন্তী। সেবারও ছিল বিভক্ত। চার স্থানে চারটি। একটি হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে।
সেই হেডিংটি এবারও ব্যবহার করার কারণ, সেদিনের ফোবানা আজ আরও ১৬ বছর পরও গুণে-মানে বিভক্তিতে একই রকম আছে। লেখার শুরুতেই ২০১০ সালের লেখার কিছু অংশ উদ্ধৃত করতে যাচ্ছি এ কারণে যে তাহলে সেদিনের এবং আজকের ফোবানার মধ্যে যে একটুও পার্থক্য নেই, কিছু মুখের পরিবর্তন ব্যতীত, সেটি বুঝতে সুবিধা হবে। উদ্ধৃতি : ফোবানা নর্থ আমেরিকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে যেমন শ্রীহীন এবং অনাকর্ষণীয়, তাতে ফোবানা নিয়ে কিছু ভাবা, বলা বা লেখা নেহাত অর্থহীন, সময় ও শ্রমের অপচয় মনে করি। তাই এর আগে এ কলামে অনেক বিষয় নিয়ে মতামত ব্যক্ত করলেও ফোবানা নিয়ে কখনো কলম ধরার ইচ্ছা জাগেনি। কিন্তু রজতজয়ন্তীর বছরে রাজধানী ওয়াশিংটনে আমাদের সো-কলড আত্মপ্রচারিত নেতাগুচ্ছ যে তুলকালাম কাণ্ড ঘটিয়ে তাদের ‘নেতৃত্বের ক্যারিশমা বা মহিমা’ প্রকাশ করলেন এবং কমিউনিটি হিসেবে আমাদের যে ‘মর্যাদার’ আসনে সমাসীন করলেন, তাতে ফোবানা নিয়ে শেষ পর্যন্ত দু’কলম না লিখে পারা গেল না। পারা গেল না এ কারণে যে, এর পরও যদি ফোবানা এবং তার ‘মোড়লদের’ সম্পর্কে দু’কথা বলা না হয়, তবে অনেকের ধারণা হতে পারে, এ কমিউনিটি নিয়ে ঠিকানার কোনো ভাবনা-চিন্তাই নেই। অথচ এই ফোবানার পেছনে ঠিকানার অনেক অবদান আছে, যা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। না, ঠিকানার কমিউনিটি ভাবনা খুব ভালোই আছে। তবে সব সময় সব বিষয় নিয়ে হইচই, চিৎকার-চেঁচামেচি করে যখন-তখন প্রকাশ করতে হবে, ঠিকানা এমনটা মনে করে না।
এখন পাঠকেরা একটু মিলিয়ে নিন, কিছু চেহারার পরিবর্তন ছাড়া ‘গুণে-মানে’ আর কোনো পরিবর্তন আছে কি না। সেই সঙ্গে ফোবানার প্রতিষ্ঠাতারা প্রবাস কমিউনিটিকে ঐক্যবদ্ধ করে একদিকে প্রবাসীদের বিনোদন এবং মিলনমেলা হিসেবে সবাইকে নিয়ে সামনে অগ্রগতির পথে চালিত করার যে বাসনা ও নিষ্ঠা নিয়ে যে যাত্রা শুরু করেছিলেন, আমরা কি সে পথে একটুও অগ্রসর হতে পেরেছি। অথচ কী বিপুল সম্ভাবনা ছিল এত বড় একটি কমিউনিটির ঐক্যকে কাজে লাগানোর।
অথচ ফোবানার এই প্রায় চল্লিশোর্ধ্ব বছরে পৃথিবী এবং সেই সঙ্গে অন্যান্য কমিউনিটি কত এগিয়ে গেছে। আমাদের কমিউনিটিতে কত মেধাবী ছাত্র, মেধাবী পেশাজীবী, মেধাবী ব্যবসায়ী এবং মেধাবী নেতা আছেন। সেই সব মেধাকে আমরা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছি। আমরা ফোবানাকে অগ্রগতির সেই ধারায় নিয়ে যেতে পারিনি। আমরা ফোবানাকে সকলের ফোবানা করে তুলতে ব্যর্থ হয়েছি। আমরা প্রতিবছর একটি ফোবানার লক্ষ্যে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পেয়েছি। কিন্তু আমরা হেঁটেছি উল্টো পথে। কতিপয় মানুষের নেতৃত্বের খায়েশের তলায় বলি হয়েছে আমাদের সকল সম্ভাবনা।
একসময় দেখা যেত ভাঙনের পেছনে একদল আরেক দলকে দোষারোপ করত। এখন দোষারোপের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাজনীতি। এখন ভাঙন আরও প্রকট ও পোক্ত হয়েছে নেতৃত্ব এবং রাজনীতির কোন্দলে। কিন্তু সময় ও সম্ভাবনা কি একেবারেই শেষ হয়ে গেছে? এখনো সময় আছে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর। সবাইকে নিয়ে ফোবানাকে কাজে লাগানোর সময় আছে, যদি নেতৃত্বের মধ্যে সেই সদিচ্ছা থাকে। ফোবানাকে আমরা যদি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম না ভেবে প্রবাস কমিউনিটির কল্যাণ-ভাবনা নিয়ে কাজ করি, তবে ঘুরে দাঁড়ানোর সময় শেষ হয়ে যায়নি। ফোবানার নেতারা কি বিষয়টি নিয়ে একটু ভাববেন?