বকুল খান, স্পেন : ইউরোপসহ গোটা বিশ্বে যখন অভিবাসনের দুয়ার ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে, ঠিক সেই সময়ে এক আশাব্যঞ্জক সংবাদ দিল স্পেন। তপ্ত রোদে যেন এক পশলা বৃষ্টির মতো—সরকার জরুরি প্রক্রিয়ায় একটি বিশেষ নিয়মিতকরণ উদ্যোগ অনুমোদনের পথে এগোচ্ছে, যার আওতায় পাঁচ লক্ষেরও বেশি অভিবাসী বৈধ হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
তবে এই নিয়মিতকরণ প্রক্রিয়া ঢালাওভাবে নয়; এর জন্য নির্দিষ্ট শর্ত ও সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। যাঁরা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫-এর আগে স্পেনে প্রবেশ করেছেন, যাঁদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এবং যাঁরা অন্তত পাঁচ মাস স্পেনে অবস্থান করেছেন, তাঁরা প্রয়োজনীয় প্রমাণসহ এই প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে পারবেন। আবেদন গ্রহণ করা হবে এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত।
যাঁরা ৩১ ডিসেম্বরের পরে স্পেনে অবস্থান করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রচলিত দুই বছরের নিয়ম অনুযায়ী কাগজপত্র জমা দিতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বহিষ্কার বা ফেরত পাঠানোর আদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। আবেদন অনুমোদিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কাজ করার অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য মৌলিক অধিকার ভোগ করতে পারবেন।
এই উদ্যোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—কাগজপত্র জমা দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যেই কাজ করার অনুমতি পাওয়া যাবে, যা আগে কখনো ছিল না। রাজনৈতিক দল পোদেমোস এ প্রসঙ্গে বলেছে, “ভয়ের জবাব অধিকার দিয়েই দিতে হয়।”
এই উদ্যোগ হাজারো মানুষের জীবনে বাস্তব ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেসের নেতৃত্বাধীন সরকার পাঁচ লক্ষেরও বেশি অনিয়মিত অভিবাসীকে বৈধ করার লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে পৌঁছেছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, একটি রয়্যাল ডিক্রি জারি হওয়ার কথা রয়েছে। গত দুই দশকের মধ্যে এটিই স্পেনে অভিবাসীদের নিয়মিতকরণের সবচেয়ে বড় উদ্যোগ।
উল্লেখ্য, এর আগে স্পেন সরকার ২০০১ ও ২০০৫ সালে সাধারণ ক্ষমার মাধ্যমে অভিবাসীদের বৈধতা দিয়েছিল। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে যাঁদের ‘অদৃশ্য’ হিসেবে দেখা হতো—অর্থাৎ কাগজপত্রহীন অবস্থায় যাঁরা শ্রম দিয়ে অর্থনীতিকে সচল রেখেছেন—তাঁরাই বাস্তবে দেশের উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। কৃষি, নির্মাণ, পরিচর্যা এবং হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন শ্রমনির্ভর খাতে অভিবাসীদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ বলে সরকার স্বীকার করেছে।
কড়াকড়ির এই সময়ে বৈধতার এমন ঘোষণা অভিবাসন বিতর্কে এক নতুন মাত্রা যোগ করল—যেখানে ‘নিরাপত্তা’র পরিবর্তে ‘অবদান’-কে নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসার বার্তা দিল মাদ্রিদ।