চীন শিকারে বিএনপি-জামায়াত ★গোপালগঞ্জে মতুয়া 👉 পশ্চিমে মমতায় জয় বাংলা ★ আওয়ামী লীগে চোখ এনসিপির
আল্ট্রা ফ্যাসিস্টে হাইভোল্টেজ লুট
ঠিকানা রিপোর্ট
প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৩৪
•
অনলাইন সংস্করণ
ভারত, মার্কিনের সমান্তরালে ক্রমশ চীনও বাংলাদেশের রাজনীতিতে আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে। দেশটির ঢাকাস্থ কূটনীতিকেরা যারপরনাই ব্যস্ত বাংলাদেশ নিয়ে। সচরাচর যা চীনের বৈশিষ্ট্য নয়। পরিবর্তিত পারিপার্শ্বিকতা বুঝে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি ও সরকারের আমন্ত্রণে দেশটিতে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিদলের সফরের পর গেল ক্ষমতাসীন দল বিএনপির প্রতিনিধিদলও। যখন বাংলাদেশের আশপাশের দেশগুলোর রাজনীতি-কূটনীতিতেও হালকা, মাঝারি বিভিন্ন মাত্রার তোপ বইছে।
ইরান প্রশ্নে পাকিস্তান খেলছে লাউড অ্যান্ড হাই ভলিউমে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লা আমদানি নিয়ে তীব্র জনরোষের মুখে পদত্যাগ করেছেন শ্রীলঙ্কার জ্বালানিমন্ত্রী কুমারা জয়াকোডি। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের সচিব উদয়াঙ্গা হেমাপালাও পদত্যাগ করেছেন।
নেপাল সরকার নতুন বেতন কাঠামো চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার অধীনে সরকারি কর্মচারীরা এখন থেকে মাসে একবারের পরিবর্তে দুবার বেতন পাবেন। বর্তমান মাসিক বেতনকে সমান দুই অংশে ভাগ করে নির্ধারিত সময়ে দেওয়া হবে। পাকিস্তানের সাম্প্রতিক দাপটে মর্মযাতনায় ভুগছে ভারত। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘চিরশত্রু’ পাকিস্তানের এমন বিচরণ ভারতকে ভাবিয়ে তুলেছে। একমাত্র বাংলাদেশ ছাড়া আশপাশের কোনো দেশেই সাম্প্রতিক সময়ে সুবিধা করে উঠতে পারছে না দেশটি। অন্যদিকে ভারতকে অপ্রাসঙ্গিক রেখে গত কিছুদিনে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের ফটকাবাজিতে বিশাল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। এরা হাম, জ্বালানি, অকটেন, লোডশেডিং নিয়ে দেশকে নানা বয়ানে ব্যস্ত রাখছে। লুটপাটেও কম যাচ্ছে না। তাদের হাত সংসদেও চলে গেছে। সেখানে মাত্র ৪ হাজার টাকার ব্যাগের দাম ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪০০ টাকা। দামি ব্র্যান্ডের নাম লেখা থাকলেও দেওয়া হয়েছে নিম্নমানের ব্যাগ। লোগো লাগানো হয়েছে আলাদাভাবে। একইভাবে একটি ৩ হাজার টাকার কার্ড রিডারের দাম নেওয়া হয়েছে ২১ হাজার ৫০০ টাকা। আর ৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকার ডিজিটাল স্টিল এসএলআর ক্যামেরার বডির দাম নেওয়া হয়েছে ৭ লাখ ৯ হাজার ৫০০ টাকা। এ ধরনের চারটি ক্যামেরার বডি দেওয়া হয়েছে ২৮ লাখ ৩৮ হাজার টাকায়। সব মিলিয়ে ছবি তোলার জন্য যে সেট কেনা হয়েছে, তার জন্য সরকারের কাছ থেকে দাম নেওয়া হয়েছে ৫৮ লাখ ৪৪ হাজার ১৩০ টাকা। প্রকৃতপক্ষে এসব আইটেমের দাম সব মিলিয়ে ২০ লাখেরও কম। জাতীয় সংসদের অধিবেশনের সময় ছবি তোলার জন্য অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে এ কেনাকাটার কাজ শেষ করা হয়েছে। ৩০ দিনের মধ্যে ক্যামেরা ও সংশ্লিষ্ট আইটেম সরবরাহের নির্দেশনা থাকলেও মাত্র ১৯ দিনের মধ্যেই সরবরাহ করা হয়। বিএনপি সরকার গঠনের পর এটাই সংসদ সচিবালয়ের প্রথম কেনাকাটা। খুব ঝটপট সারা হয়েছে কাজটি। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে কেনার আদেশ দেওয়া হয় ২৫ মার্চ। আর সরবরাহ করা হয় ১৫ এপ্রিল। সব মিলিয়ে ক্যামেরা-সংশ্লিষ্ট ১২টি আইটেম কেনা হয়েছে। চারটি ক্যামেরা বডির পাশাপাশি চারটি ভিন্ন ধরনের ক্যামেরা লেন্স কেনা হয়েছে। ২৪-৭০ এমএম ফোকাল লেন্থের তিনটি লেন্স কেনা হয়েছে ৩৭ লাখ ৪১ হাজার টাকায়। প্রতিটির দাম নেওয়া হয়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৭০০ টাকা। জামায়াতে ইসলামী তার রাজনৈতিক মার্কেটিংয়ে এ ধরনের দুর্নীতিকে সামনে এনে সরকারকে ঘায়েলের চেষ্টায় মরিয়া। এনসিপি শক্তি বাড়াতে চায় ‘ভালো আওয়ামী লীগ, ভালো ছাত্রলীগ’ হায়ারের মাধ্যমে। এ ঘোষণা তারা দিয়েই রেখেছে। এ ফাঁকে বাংলাদেশের ‘জয় বাংলা’ সেøাগান হাইজ্যাকের মতো বদলি হয়ে গেছে পশ্চিম বাংলায়।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নির্বাচনী মিছিলে ‘জয় বাংলা’ সেøাগানে মুখরিত রাজপথ। কাকতালীয়ভাবে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের আগে গোপালগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেত্রী সুবর্ণা শিকদার ঠাকুর বিএনপির সংরক্ষিত আসনে এমপি। এর পেছনে অনেক ফের। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরে আসার পর অনেক ব্যস্ততার মধ্যেও গোপালগঞ্জের ওড়াকান্দি ইউনিয়নের ঠাকুরবাড়িতে ছুটে গিয়েছিলেন। ওড়াকান্দি মতুয়া সম্প্রদায়ের তীর্থস্থান বলে পরিচিত। আর সে সময়ের কয়েক দিন পরেই ছিল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন। ভারতের এই রাজ্যটি দখলে বিজেপি মরিয়া দীর্ঘদিন ধরে। পশ্চিমবঙ্গে মতুয়া সম্প্রদায়ের রয়েছে বিশাল ভোটব্যাংক। তাদের আস্থায় নিতেই তিনি ছুটে গিয়েছিলেন মতুয়া সম্প্রদায়ের তীর্থস্থানে। এবারও পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের আগে বিশেষ কানেকশন ও সমীকরণে সুবর্ণা ঠাকুরের বিএনপির এমপি হওয়া। একদিকে স্নায়ুযুদ্ধের তাপে-চাপে জ্বালানি তেলে কাহিল বাংলাদেশ, আরেকদিকে বিদ্যুতের লোডশেডিং। ডিজেলের ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত। এর ঢেউয়ে পুরো অর্থনীতিতে আঘাত পড়েছে। সরাসরি প্রভাব পড়েছে কৃষি উৎপাদনে, যা সামনে খাদ্য ঘাটতির বার্তা দিচ্ছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলা আরও অনিয়ন্ত্রিত হলে সুদূরপ্রসারী বিপদে পড়বে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধাক্কা খেতে শুরু করেছে। সার নিয়েও উদ্বেগজনক অবস্থা। মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ সার ও সারের কাঁচামাল আমদানি করে। বৈশ্বিক এই ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণে বাংলাদেশ বরাবরই নিরপেক্ষ অবস্থান এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দিলেও এবার পেরে উঠছে না আগের মতো। গুরুত্বপূর্ণ ও চমৎকার ভূ-কৌশলগত অবস্থান থাকার পরও বাংলাদেশ চলছে সমীকরণের বাইরে। মধ্যপ্রাচ্য ও বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের পরিবর্তনে চীন আড়ালে যেভাবে এগোচ্ছে, তা অনেকের ধারণার বাইরে। সেই সোর্স ধরার প্রতিযোগিতায় নেমেছে বিএনপি-জামায়াত।