মানসিক প্রশান্তি ও মনোযোগ বাড়াতে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট থেকে দূরে থাকুন
ঠিকানা অনলাইন
প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৪৭
•
অনলাইন সংস্করণ
অতিরিক্ত স্মার্টফোন এবং সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ফলে মানুষের মনোযোগ কমে যাওয়া, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া এবং মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটা এখন বৈশ্বিক উদ্বেগের কারণ। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় আশার আলো দেখা গেছে।
গবেষকরা দাবি করছেন, ডিজিটাল আসক্তির এই ক্ষতিগুলো স্থায়ী নয়; বরং স্মার্টফোনের মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখলে মাত্র দুই সপ্তাহেই হারানো মানসিক স্বাস্থ্য এবং মনোযোগ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
পিএনএএস নেক্সাস জার্নালে প্রকাশিত একটি বড় গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ৪০০ জনের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর দুই সপ্তাহব্যাপী একটি পর্যবেক্ষণ চালানো হয়। অংশগ্রহণকারীরা ‘ফ্রিডম’ নামক একটি অ্যাপ ব্যবহার করে তাদের ফোনে ব্রাউজিং এবং সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ রেখেছিলেন, যদিও কল বা মেসেজ করার সুবিধা চালু ছিল।
এতে দেখা গেছে, তাদের প্রতিদিনের গড় স্ক্রিন টাইম পাঁচ ঘণ্টা থেকে কমে তিন ঘণ্টার নিচে নেমে আসে। গবেষণার শেষে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা এবং সামগ্রিক সুস্থতায় অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে। গবেষকদের মতে, এই উন্নতির মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যা প্রায় এক দশকের বয়সজনিত মানসিক অবনতিকে পেছনে ফেরানোর সমান।
গবেষণায় আরও একটি চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। ডিজিটাল জগৎ থেকে এই সাময়িক দূরত্ব হতাশা কমানোর ক্ষেত্রে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ওষুধের চেয়েও বেশি কার্যকর এবং কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপির সমতুল্য ফল দিয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের সম্পূর্ণ প্রযুক্তি ত্যাগ করতে হয়নি, তারা শুধু মোবাইল ইন্টারনেট থেকে দূরে থেকে এই সুফল পেয়েছেন।
গবেষকরা বলছেন, ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের চেয়ে স্মার্টফোনই মানুষের মনোযোগের মূল শত্রু। কারণ এটি সবসময় হাতের কাছে থাকে এবং খাওয়া, আড্ডা বা সিনেমা দেখার মতো ব্যক্তিগত মুহূর্তগুলোতেও বারংবার মনোযোগ বিঘ্নিত করে।
এই গবেষণার ফলাফল এমন এক সময়ে সামনে এল যখন প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার একটি জুরি বোর্ড মেটা ও ইউটিউবকে আসক্তিমূলক প্ল্যাটফর্ম ডিজাইনের জন্য দায়ী করে এক তরুণকে ৬ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
'দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট' এবং 'জামা নেটওয়ার্ক ওপেন' এর মতো প্রকাশনাগুলোও সমর্থন করেছে যে, মাত্র এক সপ্তাহ স্মার্টফোন ব্যবহার কমালেই উদ্বেগ, বিষণ্ণতা এবং অনিদ্রার মতো জটিলতাগুলো উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়। প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার কমানোর মতো ছোট পরিবর্তনও দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। মূলত ডিজিটাল ডিটক্সের মাধ্যমে এই আসক্তির চক্র ভেঙে বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার মান বাড়ানো সম্ভব।