​নিউইয়র্কে বাণিজ্যমন্ত্রীর কূটনৈতিক তৎপরতা

বাংলাদেশের মসৃণ এলডিসি উত্তরণে সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করল ইইউ ও জি-৭৭

প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৪ , অনলাইন ভার্সন
বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং গ্রুপ অব ৭৭ অ্যান্ড চায়না (জি-৭৭) তাদের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত তিন বছরের অতিরিক্ত প্রস্তুতিকাল, চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগের প্রতি ইতিবাচক মনোভাবও প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক এই দুই গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

জাতিসংঘ সদরদপ্তরে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের প্রধান এবং জাতিসংঘে ইইউর রাষ্ট্রদূত স্টাভরোস ল্যামব্রিনিডিস এবং পৃথকভাবে গ্রুপ অব ৭৭ অ্যান্ড চায়নার চেয়ারম্যান ও জাতিসংঘে উরুগুয়ের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত লরা দুপুই লাসেরের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ আশ্বাস দেওয়া হয়।

বৈঠকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর এবং বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিবেশের পরিবর্তন, জ্বালানি সংকট, দেশের চলমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক রূপান্তর এবং কাঠামোগত সংস্কার কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত সময় অত্যন্ত প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, সরকার সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আর্থিক খাতের সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। প্রস্তাবিত অতিরিক্ত প্রস্তুতিকাল এসব সংস্কার কার্যক্রমকে আরও সুসংহত করবে, শিল্পখাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াবে এবং বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণকে টেকসই, মসৃণ ও অপরিবর্তনীয় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত স্টাভরোস ল্যামব্রিনিডিস বাংলাদেশের চলমান সংস্কার উদ্যোগ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং টেকসই উন্নয়নের প্রতি সরকারের অঙ্গীকারের প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরুকে অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এলডিসি-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অভিযাত্রায় ইইউর অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

তিনি আরও বলেন, এলডিসি উত্তরণ সফল করতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্ব, নীতিগত সমন্বয় এবং শিল্পখাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে, জি-৭৭ অ্যান্ড চায়নার চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূত লরা দুপুই লাসেরে বাংলাদেশের উপস্থাপিত যুক্তিগুলোকে শক্তিশালী, বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেন। তিনি সরকারের সংস্কার কর্মসূচির প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ শুধু দেশটির জন্য নয়, উন্নয়নশীল বিশ্বের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হতে পারে।

বাংলাদেশের প্রতি জি-৭৭-এর সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে তিনি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ কৌশল, সংস্কার পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি বিষয়ে একটি বিশেষ ব্রিফিং আয়োজনের প্রস্তাব দেন। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে এটিকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করে।

বৈঠক শেষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী সাংবাদিকদের জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে সফল, মসৃণ ও স্থিতিশীলভাবে উত্তরণে সহায়তা করতে ইইউ তাদের অব্যাহত সমর্থনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের ইতিবাচক অবস্থান বাংলাদেশের সংস্কার কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে এবং এলডিসি-পরবর্তী সময়ে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশ্লেষকদের মতে, নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এসব বৈঠক বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী কৌশল বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বৈশ্বিক উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।

ঠিকানা/এসআর
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]