ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশন শুরু হয়েছে। দু-একজন সংসদ সদস্যের আলোচনা ও যুক্তিতে উত্তাপ আছে। এখন পর্যন্ত যা দেখা যাচ্ছে, তাতে উত্তাপ থাকলেও সীমা অতিক্রম করেননি কেউই। বিরোধী দল জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারি দলের গড়িমসি দেখে রাজপথে নামার হুমকি দিচ্ছে। গত ৩১ মার্চ এনসিপির নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং সরকারি বেঞ্চের আন্দালিব রহমান পার্থর মধ্যে যুক্তির প্রাণবন্ত বিস্তার সংসদের ভেতরের এবং বাইরের সবাই ভালোই উপভোগ করেছেন। দুজনের কথাতেই যুক্তি থাকলেও তা মাত্রা ছাড়িয়ে উত্তাপ সৃষ্টি করেনি। আমরা আশা করব, সংসদের এই প্রাণবন্ত বিতর্ক যেন রাজপথে ছড়িয়ে না পড়ে।
সরকার পক্ষ এবং বিরোধী পক্ষ সবার মনেই এই ধারণা কাজ করছে, গত প্রায় ১৯ বছর দেশে সঠিকভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ায় সংসদ অকার্যকর ছিল। সেখানে দেশ ও দেশের কল্যাণে কথা ও কাজ কোনোটাই হয়নি। উন্নয়ন কিছুটা দৃশ্যমান হলেও জনকল্যাণে না হয়েছে কোনো আইন, না হয়েছে কোনো কাজ। সবটাই হয়েছে একতরফা। একটি নির্দিষ্ট দল ও তার নেতাদের গুণগানই ছিল ২০০৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে চারটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের নেট প্রাপ্তি। আর ছিল নেতার মনোরঞ্জন করে দেশের সম্পদ লুটপাটের মহোৎসব। লুটপাটের প্রধান খাত ছিল বিভিন্ন ব্যাংক ফোকলা করে কর ফাঁকি দিয়ে লাখ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা।
জাতির একটি পুরো প্রজন্মকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। শাসকগোষ্ঠী যখন চরম উন্মত্ততায় মেতে ওঠে-যারা জনগণের নামে রাজনীতি করে, তারা সেই জনগণের কথা এবং তাদের শক্তি ও সামর্থ্যরে কথা ভুলে যায়-তখন তাদের পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে। কেউ ঠেকাতে পারে না। তা-ই হয়েছে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের। ‘তারাই সব, তাদের উপরে আর কেউ নেই’-এমনটাই ছিল তাদের কথাবার্তা ও আচার-আচরণে। কিন্তু জনগণ রুখে দাঁড়ালে দাম্ভিকতার পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে। সেই ঐতিহাসিক সত্য আবারও প্রমাণিত হলো। ২০২৪-এর আগস্টে কিসের আন্দোলন কীভাবে কোন দিকে মোড় নিয়ে দাম্ভিক একটি দলকে হটিয়ে দিল। অনেকে যেন বুঝতে পারার আগেই সবকিছু ঘটে গেল।
২০২৪-এর আগস্টে জনতা জীবন ও রক্ত দিয়ে, অন্ধত্ব ও পঙ্গুত্ববরণ করে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে শাসনব্যবস্থায় যে পরিবর্তন আনল, সে পরিবর্তন মানুষকে নতুন করে স্বপ্ন দেখাল নতুন দিনের। নতুন বন্দোবস্তের। মানুষকে নতুন ভবিষ্যতের আলো দেখাল। তরুণ-সংগ্রামী নেতাদের ওপর গভীর আস্থা রাখল। বিশ্বাস করল, তরুণেরা নিজেরা যারা এত দিন বঞ্চিত ও লাঞ্ছিত হয়েছে, এবার তারাই মানুষের ভাগ্যবদলের দায়িত্ব তুলে নিয়েছে স্বেচ্ছায়। এবার নিশ্চয় মানুষ প্রতারিত হবে না। মিথ্যার ছলনে তাদের ঘুমপাড়ানি মাসি-পিসি গান শুনিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেওয়া হবে না। যারা যৌবন নিয়ে যুদ্ধজয় করে ফিরে এসেছে, তাদের হাতেই শাসনভার। শিক্ষিত, প্রাজ্ঞ, পণ্ডিত সবাই। তারা মানুষকে প্রতারণার কলাকৌশলই হয়তো জানে না।
কিন্তু একটি জাতির ললাটে যখন দুর্ভাগ্য নেমে আসে, তখন সে দুর্ভোগ সহজে যায় না। মানুষের সব সৎ স্বপ্ন, প্রত্যাশা ধুলায় মিশিয়ে দিয়ে এই ‘পণ্ডিত গোষ্ঠী’ এবং অভ্যুত্থানের নায়কেরা, তরুণ যুব-নেতারা মানুষের সব স্বপ্ন হরণ করে নিল। রাষ্ট্রক্ষমতা হরণ করে নিল। রাষ্ট্রক্ষমতার মজা বুঝে নিয়ে তা লুটতে যেন প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ল। এবারও পূর্বের মতো নানা হয়রানি, জেল-জুলুম, নিপীড়নের মধ্যে পড়ে জনগণ চরম প্রতারিত বোধ করতে শুরু করল। মানুষ অতীতের সঙ্গে বর্তমানের তুলনা করতে শুরু করল এবং জনগণ ভালো বোধ করতে পারল না।
অবশেষে অনেক চড়াই-উতরাই পার হয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন দিতে হলো। নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংসদ এসেছে, এসেছে নতুন সরকার। যারা এত দিন ভোটদানের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছিল, তারা প্রাণখুলে ভোট দিল। এবার তাদের প্রত্যাশা, নিজেদের ভোটে নির্বাচিত নিজেদের সরকার, নিজেদের বিরোধী দল। তাদের নিজেদের এই সংসদ, নিজেদের সরকার এবং বিরোধী দল নিশ্চয় এবার তাদের হতাশ করবে না। ষোলো আনা স্বপ্ন পূরণ না হলেও পূরণের পথে তারা আন্তরিক হবেন। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তারা চলবেন। জনগণকে দূরে ঠেলে দেবেন না।
শেষ কথা, আমরা যেন অতীতকে ভুলে না যাই। ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন দিয়ে, সম্ভ্রম হারিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ এনেছে; যারা জীবন দিয়ে ১৯৯০-এর অভ্যুত্থানে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াই করেছে এবং ২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের লড়াইয়ে যারা আত্মাহুতি দিলেন, তাদের কাউকেই যেন আমরা ভুলে না যাই। যার যতটুকু প্রাপ্য তাকে ততটুকু শ্রদ্ধা, সম্মান, মর্যাদা দিয়েই আমরা যেন সবাই মিলে জাতিকে এগিয়ে নিই। দেশের মানুষকে তাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন, প্রত্যাশা পূরণে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে যেন বাসযোগ্য ভবিষ্যৎ নির্মাণের পথ দেখাতে পারি। এ জন্য সবচেয়ে জরুরি একটি কার্যকর সংসদ আর জবাবদিহিমূলক সরকার এবং যথাযথ আইনের শাসন।
সরকার পক্ষ এবং বিরোধী পক্ষ সবার মনেই এই ধারণা কাজ করছে, গত প্রায় ১৯ বছর দেশে সঠিকভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ায় সংসদ অকার্যকর ছিল। সেখানে দেশ ও দেশের কল্যাণে কথা ও কাজ কোনোটাই হয়নি। উন্নয়ন কিছুটা দৃশ্যমান হলেও জনকল্যাণে না হয়েছে কোনো আইন, না হয়েছে কোনো কাজ। সবটাই হয়েছে একতরফা। একটি নির্দিষ্ট দল ও তার নেতাদের গুণগানই ছিল ২০০৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে চারটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের নেট প্রাপ্তি। আর ছিল নেতার মনোরঞ্জন করে দেশের সম্পদ লুটপাটের মহোৎসব। লুটপাটের প্রধান খাত ছিল বিভিন্ন ব্যাংক ফোকলা করে কর ফাঁকি দিয়ে লাখ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা।
জাতির একটি পুরো প্রজন্মকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। শাসকগোষ্ঠী যখন চরম উন্মত্ততায় মেতে ওঠে-যারা জনগণের নামে রাজনীতি করে, তারা সেই জনগণের কথা এবং তাদের শক্তি ও সামর্থ্যরে কথা ভুলে যায়-তখন তাদের পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে। কেউ ঠেকাতে পারে না। তা-ই হয়েছে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের। ‘তারাই সব, তাদের উপরে আর কেউ নেই’-এমনটাই ছিল তাদের কথাবার্তা ও আচার-আচরণে। কিন্তু জনগণ রুখে দাঁড়ালে দাম্ভিকতার পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে। সেই ঐতিহাসিক সত্য আবারও প্রমাণিত হলো। ২০২৪-এর আগস্টে কিসের আন্দোলন কীভাবে কোন দিকে মোড় নিয়ে দাম্ভিক একটি দলকে হটিয়ে দিল। অনেকে যেন বুঝতে পারার আগেই সবকিছু ঘটে গেল।
২০২৪-এর আগস্টে জনতা জীবন ও রক্ত দিয়ে, অন্ধত্ব ও পঙ্গুত্ববরণ করে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে শাসনব্যবস্থায় যে পরিবর্তন আনল, সে পরিবর্তন মানুষকে নতুন করে স্বপ্ন দেখাল নতুন দিনের। নতুন বন্দোবস্তের। মানুষকে নতুন ভবিষ্যতের আলো দেখাল। তরুণ-সংগ্রামী নেতাদের ওপর গভীর আস্থা রাখল। বিশ্বাস করল, তরুণেরা নিজেরা যারা এত দিন বঞ্চিত ও লাঞ্ছিত হয়েছে, এবার তারাই মানুষের ভাগ্যবদলের দায়িত্ব তুলে নিয়েছে স্বেচ্ছায়। এবার নিশ্চয় মানুষ প্রতারিত হবে না। মিথ্যার ছলনে তাদের ঘুমপাড়ানি মাসি-পিসি গান শুনিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেওয়া হবে না। যারা যৌবন নিয়ে যুদ্ধজয় করে ফিরে এসেছে, তাদের হাতেই শাসনভার। শিক্ষিত, প্রাজ্ঞ, পণ্ডিত সবাই। তারা মানুষকে প্রতারণার কলাকৌশলই হয়তো জানে না।
কিন্তু একটি জাতির ললাটে যখন দুর্ভাগ্য নেমে আসে, তখন সে দুর্ভোগ সহজে যায় না। মানুষের সব সৎ স্বপ্ন, প্রত্যাশা ধুলায় মিশিয়ে দিয়ে এই ‘পণ্ডিত গোষ্ঠী’ এবং অভ্যুত্থানের নায়কেরা, তরুণ যুব-নেতারা মানুষের সব স্বপ্ন হরণ করে নিল। রাষ্ট্রক্ষমতা হরণ করে নিল। রাষ্ট্রক্ষমতার মজা বুঝে নিয়ে তা লুটতে যেন প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ল। এবারও পূর্বের মতো নানা হয়রানি, জেল-জুলুম, নিপীড়নের মধ্যে পড়ে জনগণ চরম প্রতারিত বোধ করতে শুরু করল। মানুষ অতীতের সঙ্গে বর্তমানের তুলনা করতে শুরু করল এবং জনগণ ভালো বোধ করতে পারল না।
অবশেষে অনেক চড়াই-উতরাই পার হয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন দিতে হলো। নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংসদ এসেছে, এসেছে নতুন সরকার। যারা এত দিন ভোটদানের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছিল, তারা প্রাণখুলে ভোট দিল। এবার তাদের প্রত্যাশা, নিজেদের ভোটে নির্বাচিত নিজেদের সরকার, নিজেদের বিরোধী দল। তাদের নিজেদের এই সংসদ, নিজেদের সরকার এবং বিরোধী দল নিশ্চয় এবার তাদের হতাশ করবে না। ষোলো আনা স্বপ্ন পূরণ না হলেও পূরণের পথে তারা আন্তরিক হবেন। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তারা চলবেন। জনগণকে দূরে ঠেলে দেবেন না।
শেষ কথা, আমরা যেন অতীতকে ভুলে না যাই। ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন দিয়ে, সম্ভ্রম হারিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ এনেছে; যারা জীবন দিয়ে ১৯৯০-এর অভ্যুত্থানে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াই করেছে এবং ২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের লড়াইয়ে যারা আত্মাহুতি দিলেন, তাদের কাউকেই যেন আমরা ভুলে না যাই। যার যতটুকু প্রাপ্য তাকে ততটুকু শ্রদ্ধা, সম্মান, মর্যাদা দিয়েই আমরা যেন সবাই মিলে জাতিকে এগিয়ে নিই। দেশের মানুষকে তাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন, প্রত্যাশা পূরণে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে যেন বাসযোগ্য ভবিষ্যৎ নির্মাণের পথ দেখাতে পারি। এ জন্য সবচেয়ে জরুরি একটি কার্যকর সংসদ আর জবাবদিহিমূলক সরকার এবং যথাযথ আইনের শাসন।