বিশ্ববাসী খুব স্বস্তির সঙ্গে অপেক্ষা করছিল, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের বুঝি সত্যি সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। মানুষের স্বস্তি দেখলেই অনুধাবন করা যায়, মানুষ যুদ্ধের বিরোধী। তারা যুদ্ধ চায় না, শান্তি চায়। ইতিহাসের পাঠ থেকে এবং নিজেদের জীবদ্দশায়ও বোঝা যায়, যুদ্ধ কতটা ভয়াবহ এবং সভ্যতা ও শান্তি ধ্বংসের জন্য যুদ্ধ কতটা নির্মম। যুদ্ধ প্রাণহানি এবং ধ্বংস ব্যতীত মানবকল্যাণের পক্ষে কোনো অবদানই রাখতে পারে না। প্রথম যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের দাগ অনেকটা মিলিয়ে গেলেও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ক্ষত এখনো ইতিহাসের পাতায়, সিনেমায়, গল্পে জ্বলজ্বল করে। এমন অনেক মানুষ এখনো জীবিত আছেন, যাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা আছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের। মানুষ এখনো হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে প্রথম আণবিক বোমা ফেলায় মানব ইতিহাসে যে বিপর্যয় ঘটে, তার স্মৃতি মনে করে শিউরে ওঠে। না, তার পরও যুদ্ধ থামল না। যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরানে আক্রমণ শুরু করেছে। মানুষ আবার মরছে। এ আক্রমণ আরও তীব্র। ইরানও জবাব দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরু হয়েছে প্রায় সাড়ে চার মাস আগে। প্রথম দফায় যুদ্ধের সূচনা করে ইসরায়েল। শান্তি আলোচনা চলাকালেই ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলায় ইরানের তৎকালীন প্রধান ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, তার পরিবারের শিশু নাতিসহ আরও প্রায় চারজন নিহত হন। এতে ইরান শোকে মুহ্যমান না হয়ে উল্টো আঘাত হানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনাসহ ইসরায়েলের ওপর। যুদ্ধের যা চরিত্র, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধেও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। দুই পক্ষই ব্যাপক প্রাণহানি এবং ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হয়। যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় পাকিস্তান ও তুরস্ক দুই পক্ষকে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতার ভূমিকায় এগিয়ে আসে। আলাপ-আলোচনা অগ্রসর হচ্ছিল। একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল, উভয় পক্ষ শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করবে।
কী কারণে যে সেই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো না, তা পরিষ্কার হতে না হতেই আবার যুদ্ধরত যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান একে অপরকে দোষারোপ করে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু করে দিল। যুদ্ধ তাই ‘শেষ হইয়াও হইল না শেষ’। প্রবাদে বলে, দুর্জনের ছলনার কোনো অভাব হয় না। দোষারোপ পাল্টাপাল্টি। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় দুটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় তাতে আঘাত হানে ইরান। তাতেই আক্রমণের অজুহাত পেয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। ব্যস, কোনো বিলম্ব না করে সেই অজুহাতকে কাজে লাগিয়ে পূর্বের চেয়ে বহুগুণ শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর বিমান আক্রমণসহ একযোগে ড্রোন ও মিসাইল হামলা শুরু করে দেয় এবং সে হামলা চলছেই। ইরানও পাল্টা প্রতিশোধ নিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যত সামরিক স্থাপনা আছে, তাতে হামলা করে চলেছে।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ইমাম খামেনি, যিনি যুদ্ধের সূচনাতেই নিহত হয়েছিলেন, তার দাফন এরই মধ্যে তার জন্মশহরে সম্পন্ন হয়েছে। তার মরদেহ ইরানের যে শহরেই গেছে, সেখানেই লাখ লাখ শোকার্ত মানুষ সমবেত হয়েছে। এসব শোকার্ত মানুষ তাদের ধর্মীয় নেতার হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণের শপথ গ্রহণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ এই হামলায় শত শত মানুষ নিহত হচ্ছে। যুদ্ধ যখন তখন তো মানুষের মৃত্যুই স্বাভাবিক। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই হামলা আরও কিছুদিন চলবে। তার কথার অর্থ দাঁড়ায়, যুদ্ধ বন্ধ করার ক্ষেত্রেও একটি পরিকল্পনা রয়েছে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেই তিনি যুদ্ধের ময়দান ছাড়বেন।
যুদ্ধবিশারদেরা মনে করেন, দুনিয়া দেখছে হয়তো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ করছে; কিন্তু এর পেছনে অন্য অনেক শক্তিরই এ পক্ষে-ও পক্ষে মদদ আছে। সে কারণেই ভয় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ সত্যি থামবে, নাকি আরেকটি বিশ্বযুদ্ধের দিকে ধাবিত হবে? যদি সে আশঙ্কাই সত্য হয়, তবে মানবসভ্যতা এমন এক ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড়াবে যে সেই যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণের জন্য কেউ বেঁচে থাকবেন কি না, তা নিয়ে পরমাণুবিজ্ঞানীদের বিরাট সংশয় রয়েছে। সেদিন হয়তো এমন কেউ টিকে থাকবেন কি না, যিনি তার উত্তর প্রজন্মকে বলতে পারবেন, ‘এ দেশে একটি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হয়েছিল, যে যুদ্ধে কে জিতেছিল আর কে হেরেছিল।’ আসলে সে যুদ্ধে হয়তো কেউ জিতবে না, হেরে যাবে সভ্যতা, মানবতা, প্রেম, স্নেহ, মায়া, মমতা, ভালোবাসা। হেরে যাবে সেই মানবজাতি, যারা মানবসভ্যতা, মানবজীবন রক্ষা করতে পারেনি, কেবল নিজেদের ধ্বংসের ‘শিল্পই’ গড়ে তুলেছিল।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরু হয়েছে প্রায় সাড়ে চার মাস আগে। প্রথম দফায় যুদ্ধের সূচনা করে ইসরায়েল। শান্তি আলোচনা চলাকালেই ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলায় ইরানের তৎকালীন প্রধান ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, তার পরিবারের শিশু নাতিসহ আরও প্রায় চারজন নিহত হন। এতে ইরান শোকে মুহ্যমান না হয়ে উল্টো আঘাত হানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনাসহ ইসরায়েলের ওপর। যুদ্ধের যা চরিত্র, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধেও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। দুই পক্ষই ব্যাপক প্রাণহানি এবং ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হয়। যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় পাকিস্তান ও তুরস্ক দুই পক্ষকে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতার ভূমিকায় এগিয়ে আসে। আলাপ-আলোচনা অগ্রসর হচ্ছিল। একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল, উভয় পক্ষ শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করবে।
কী কারণে যে সেই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো না, তা পরিষ্কার হতে না হতেই আবার যুদ্ধরত যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান একে অপরকে দোষারোপ করে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু করে দিল। যুদ্ধ তাই ‘শেষ হইয়াও হইল না শেষ’। প্রবাদে বলে, দুর্জনের ছলনার কোনো অভাব হয় না। দোষারোপ পাল্টাপাল্টি। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় দুটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় তাতে আঘাত হানে ইরান। তাতেই আক্রমণের অজুহাত পেয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। ব্যস, কোনো বিলম্ব না করে সেই অজুহাতকে কাজে লাগিয়ে পূর্বের চেয়ে বহুগুণ শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর বিমান আক্রমণসহ একযোগে ড্রোন ও মিসাইল হামলা শুরু করে দেয় এবং সে হামলা চলছেই। ইরানও পাল্টা প্রতিশোধ নিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যত সামরিক স্থাপনা আছে, তাতে হামলা করে চলেছে।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ইমাম খামেনি, যিনি যুদ্ধের সূচনাতেই নিহত হয়েছিলেন, তার দাফন এরই মধ্যে তার জন্মশহরে সম্পন্ন হয়েছে। তার মরদেহ ইরানের যে শহরেই গেছে, সেখানেই লাখ লাখ শোকার্ত মানুষ সমবেত হয়েছে। এসব শোকার্ত মানুষ তাদের ধর্মীয় নেতার হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণের শপথ গ্রহণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ এই হামলায় শত শত মানুষ নিহত হচ্ছে। যুদ্ধ যখন তখন তো মানুষের মৃত্যুই স্বাভাবিক। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই হামলা আরও কিছুদিন চলবে। তার কথার অর্থ দাঁড়ায়, যুদ্ধ বন্ধ করার ক্ষেত্রেও একটি পরিকল্পনা রয়েছে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেই তিনি যুদ্ধের ময়দান ছাড়বেন।
যুদ্ধবিশারদেরা মনে করেন, দুনিয়া দেখছে হয়তো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ করছে; কিন্তু এর পেছনে অন্য অনেক শক্তিরই এ পক্ষে-ও পক্ষে মদদ আছে। সে কারণেই ভয় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ সত্যি থামবে, নাকি আরেকটি বিশ্বযুদ্ধের দিকে ধাবিত হবে? যদি সে আশঙ্কাই সত্য হয়, তবে মানবসভ্যতা এমন এক ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড়াবে যে সেই যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণের জন্য কেউ বেঁচে থাকবেন কি না, তা নিয়ে পরমাণুবিজ্ঞানীদের বিরাট সংশয় রয়েছে। সেদিন হয়তো এমন কেউ টিকে থাকবেন কি না, যিনি তার উত্তর প্রজন্মকে বলতে পারবেন, ‘এ দেশে একটি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হয়েছিল, যে যুদ্ধে কে জিতেছিল আর কে হেরেছিল।’ আসলে সে যুদ্ধে হয়তো কেউ জিতবে না, হেরে যাবে সভ্যতা, মানবতা, প্রেম, স্নেহ, মায়া, মমতা, ভালোবাসা। হেরে যাবে সেই মানবজাতি, যারা মানবসভ্যতা, মানবজীবন রক্ষা করতে পারেনি, কেবল নিজেদের ধ্বংসের ‘শিল্পই’ গড়ে তুলেছিল।