​নিউইয়র্কে জমজমাট সংগীত সন্ধ্যা: তপুর গানে মুগ্ধ প্রবাসীরা

প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৬, ১২:২৩ , অনলাইন ভার্সন
বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক রাশেদ উদ্দিন তপু তাঁর মায়াবী কণ্ঠ, হৃদয়ছোঁয়া সুর আর একের পর এক জনপ্রিয় গান দিয়ে মাতিয়ে তুললেন নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশিদের। গত ২৬ জুলাই রোববার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের উডসাইডে কুইন্স প্যালেসে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য সংগীত সন্ধ্যায় তিনি পরিবেশন করেন তাঁর ক্যারিয়ারের বহু জনপ্রিয় গান। ‘আজ শুধু প্রেমের কথা হবে’ শিরোনামের এই সঙ্গীতসন্ধ্যার আয়োজক ছিল প্রিমাভেরা নিউইয়র্ক। 
অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগেই কুইন্স প্যালেসে ভিড় জমাতে থাকেন তপুর ভক্তরা। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে প্রবাসীরা উপস্থিত হন প্রিয় শিল্পীকে সরাসরি দেখার এবং তাঁর গান উপভোগ করার প্রত্যাশায়। পুরো মিলনায়তন ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। তপু মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই করতালি, উচ্ছ্বাস আর মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইটে মুখর হয়ে ওঠে পুরো হল। 
বাংলাদেশের ব্যান্ড ও আধুনিক গানের জগতে তপু একটি সুপরিচিত নাম। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি শ্রোতাদের উপহার দিয়ে চলেছেন অসংখ্য জনপ্রিয় গান। কণ্ঠশিল্পী হিসেবে যেমন তিনি নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন, তেমনি সুরকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবেও অর্জন করেছেন ব্যাপক জনপ্রিয়তা। আধুনিক বাংলা গানে রোমান্টিক সুর, মেলোডি এবং সমসাময়িক সংগীতায়োজনের অনন্য সমন্বয় ঘটিয়ে তিনি তৈরি করেছেন নিজস্ব একটি ধারা। তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে সব বয়সী শ্রোতার কাছেই তাঁর গান সমানভাবে সমাদৃত। 
নিউইয়র্কের এই অনুষ্ঠানে তপু পরিবেশন করেন তাঁর বহুল জনপ্রিয় গান ‘সোনার মেয়ে’, ‘এক পায়ে নূপুর’, বন্ধু’, ‘মেয়ে তুমি’সহ আরো বেশ কয়েকটি শ্রোতাপ্রিয় গান। প্রতিটি গানেই দর্শকদের ছিল স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। অনেকেই নিজেদের আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে গান উপভোগ করেন, আবার কেউ কেউ শিল্পীর সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে গেয়ে পুরো পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলেন। 
গানের ফাঁকে ফাঁকে দর্শকদের সঙ্গে আন্তরিক আলাপচারিতায় মেতে ওঠেন তপু। তিনি বলেন, পৃথিবীর যেখানেই বাংলা ভাষাভাষী মানুষ আছেন, সেখানেই বাংলা গান বেঁচে আছে। নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এমন ভালোবাসা ও আন্তরিকতা তাঁকে বারবার অনুপ্রাণিত করে।
প্রায় পুরো অনুষ্ঠানজুড়েই দর্শকদের অনুরোধে একের পর এক গান পরিবেশন করেন এই জনপ্রিয় শিল্পী। তাঁর কণ্ঠে পরিচিত সুরগুলো যেন অনেককে ফিরিয়ে নিয়ে যায় দেশের স্মৃতিতে। দর্শকদের উচ্ছ্বাস, করতালি আর ভালোবাসায় বারবার সাড়া দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকদের অনেকেই বলেন, দীর্ঘদিন পর প্রিয় শিল্পীকে সরাসরি শুনতে পেরে তারা সত্যিই 
আবেগাপ্লুত। কেউ কেউ বলেন, তপুর গান তাদের তারুণ্যের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়েছে, আবার নতুন প্রজন্মও তাঁর গানের সঙ্গে সমানভাবে কণ্ঠ মিলিয়েছে। সব মিলিয়ে এটি ছিল প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক অনন্য সাংস্কৃতিক মিলনমেলা।
অনুষ্ঠানটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছিল মনোরম আলোকসজ্জা, আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম এবং সুপরিকল্পিত মঞ্চসজ্জা। পুরো আয়োজনজুড়েই ছিল উৎসবের আবহ। আয়োজক প্রতিষ্ঠান প্রিমাভেরা জানায়, প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি ও সংগীতকে আরও বিস্তৃত পরিসরে তুলে ধরার লক্ষ্যেই তাদের এই উদ্যোগ।
দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই সংগীত সন্ধ্যা শেষ হয় দর্শকদের দাঁড়িয়ে অভিবাদন, দীর্ঘ করতালি এবং শিল্পীর সঙ্গে স্মৃতি ধরে রাখার জন্য অসংখ্য ছবি তোলার মধ্য দিয়ে। তপুর প্রাণবন্ত পরিবেশনা এবং প্রবাসী দর্শকদের অকৃত্রিম ভালোবাসায় নিউইয়র্কের এই সন্ধ্যা হয়ে ওঠে বাংলা সংগীতের এক স্মরণীয় উৎসব।
অনুষ্ঠানে আয়োজক প্রতিষ্ঠান প্রিমাভেরা’র কর্ণধার ও টিভি ব্যক্তিত্ব শামীম শাহেদ বলেন, প্রবাসী বাঙালিদের যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করতে এবং শুদ্ধ বাংলা গানকে প্রবাসে বাঁচিয়ে রাখতেই আমাদের এই চমৎকার প্রয়াস। দর্শকদের এমন অভূতপূর্ব সাড়া আমাদের আগামীতে আরও বড় বড় আয়োজন করার অনুপ্রেরণা জোগাবে। 
প্রবাসের মাটিতে এমন গোছানো ও নিখুঁত একটি সঙ্গীতসন্ধ্যা উপহার দেওয়ার জন্য শ্রোতারা আয়োজক ও শিল্পী তপুকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। 
তপুর পরিবেশনার আগে শামীম শাহেদের উপস্থাপনায় তিনজন অগ্রজ সাংবাদিক তাদের সহধর্মিণীদের নিয়ে মঞ্চে আসেন। প্রবীণ সাংবাদিক মনজুর আহমেদ, তাঁর স্ত্রী অভিনেত্রী রেখা আহমেদ, সাংবাদিক ও কলামিস্ট হাসান ফেরদৌস, তাঁর স্ত্রী সংস্কৃতিকর্মী রানু ফেরদৌস, সাপ্তাহিক প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সম্পাদক ইব্রাহিম চৌধুরী খোকন এবং তাঁর স্ত্রী কমাজকর্মী নাসিমা সুলতানা ফ্লোরা যখন মঞ্চে উঠে প্রেমের সংজ্ঞা খোঁজার চেষ্টা করছিলেন, পুরো মিলনায়তনে তখন পিন-পতন নিস্তব্ধতা নেমে আসে। কিন্তু তারা যে কতটা রসিক তার প্রমাণ মেলে, যখন তাদের কথায় ধীরে ধীরে হাসির রোল শুরু হয়। সেই হাসি গড়ায় জনপ্রিয় সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীন হয়ে কৌতুক শিল্পী নাভিদ মাহবুব পর্যন্ত।  
জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও বাচিকশিল্পী বন্যা মির্জা মঞ্চে আসেন প্রেমের কবিতা নিয়ে। তার সাথে গিটারে ছিলেন সেতু। দুজনই  বেশ প্রশংসা কুঁড়ান। শিল্পী রাশেদ উদ্দিন তপুর দুটো গান গেয়ে শোনার নিউইয়র্কের জনপ্রিয় শিল্পী টিনা রাসেল ও চন্দ্রা রায়। এর পরপরই পাঁচ মিনিটের একটা ডকুমেন্টারিতে তপুর গোটা জীবনটাকে ধরার চেষ্টা করেন অনুষ্ঠানের আয়োজক।  
অনুষ্ঠানের স্পন্সরদের ধন্যবাদ জানান শামীম শাহেদ। অনুষ্ঠানটি আয়োজনে সহযোগিতা করেছে- গোল্ডেন এজ হোম কেয়ার, অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী, প্রো-হেলথ হোম কেয়ার, অ্যাটর্নি রুমা জান্নাতুল, প্রেমস কালেকশন্স, গুড শেফার্ড হোম কেয়ার, ড্রিম কটেজ রিয়েলটি, কেপ্টর হোম হেলথ কেয়ার সার্ভিস, খলিল বিরিয়ানি, ভাট্টা ল অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস, ফটোসাংবাদিক নিহার সিদ্দিকী এবং কুইন্স প্যালেস। 
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রে ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশনের অন্যতম পরিচালক এবং ডেমোক্রেটিক পার্টির কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট লিডার অ্যাট লার্জ অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরীসহ অনেকেই। 
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]