ময়মনসিংহ (ঈশ্বরগঞ্জ) প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌরশহরের শিমরাইল (রহমতগঞ্জ) এলাকায় সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের সরকারি জমি দখল করে স্থায়ী দোকান নির্মাণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের তদন্ত ও নোটিশ জারির পরও নির্মাণকাজ বন্ধ না হয়ে প্রকাশ্যেই চলতে থাকায় সরকারি নির্দেশনার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সওজের মালিকানাধীন বলে দাবি করা জমির ওপর আব্দুর রাশিদ নামে এক ব্যক্তি দোকানঘর নির্মাণ করছেন। তাদের ভাষ্য, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং পৌর প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনও করা হয় এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া নির্মাণকাজ পরিচালনার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
তবে অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নোটিশের পরও নির্মাণকাজ বন্ধ হয়নি। বরং নির্মাণ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে প্রশাসনিক নজরদারি ও আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
চলাচলের পথ বন্ধ হওয়ার অভিযোগ
সরকারি জমি দখলের অভিযোগের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা মহি উদ্দিন কাজলের পরিবার দাবি করেছে, নির্মাণকাজের কারণে তাদের প্রায় চার দশক ধরে ব্যবহৃত চলাচলের পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত ওই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিনই তাদের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বাড়ি থেকে বের হওয়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন, এমনকি অসুস্থ রোগী নিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে।
মহি উদ্দিন কাজল বলেন, "সরকারি জায়গা দখল করে আমাদের পরিবারের একমাত্র চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি। তদন্তও হয়েছে, নোটিশও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়নি।"
প্রশাসনের পদক্ষেপ
অভিযোগের পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন জমা দেওয়া হয়। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অনুমোদন ছাড়া নির্মাণকাজ পরিচালনার বিষয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি সড়ক ও জনপদ বিভাগকেও অবহিত করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নির্মাণাধীন স্থাপনায় ইটের গাঁথুনি, ছাদ নির্মাণসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কাজ চলমান রয়েছে। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "প্রশাসনের নোটিশ জারির পরও যদি প্রকাশ্যে নির্মাণকাজ চলতে পারে, তাহলে সাধারণ মানুষের কাছে আইনের শাসনের বার্তা দুর্বল হয়ে পড়ে।"
অভিযুক্তের বক্তব্য
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আব্দুর রাশিদ। তিনি বলেন, "যে জায়গায় নির্মাণকাজ চলছে, সেটি আমার নিজস্ব মালিকানাধীন জমি। জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকায় প্রতিপক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ করছে।"
সওজের অবস্থান
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগের কিশোরগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মুহাম্মদ ফয়সাল বলেন, "আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের মাধ্যমে যদি প্রমাণিত হয় যে সওজের সরকারি জমি দখল করা হয়েছে, তাহলে প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তিনি আরও জানান, জমির সীমানা, মালিকানা ও রেকর্ড যাচাইয়ের পর প্রয়োজন হলে উচ্ছেদসহ অন্যান্য আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি জমি দখলের অভিযোগ এবং প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্যের ঘটনা নতুন নয়। তাই দ্রুত ভূমি রেকর্ড, সওজের সীমানা নির্ধারণ, খতিয়ান ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তাদের মতে, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, বন্ধ হয়ে যাওয়া চলাচলের পথ পুনরুদ্ধার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে আইনের শাসনের বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করা উচিত।
বর্তমানে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করবে অভিযোগের সত্যতা এবং পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনগত পদক্ষেপ।
ঠিকানা/এসআর
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সওজের মালিকানাধীন বলে দাবি করা জমির ওপর আব্দুর রাশিদ নামে এক ব্যক্তি দোকানঘর নির্মাণ করছেন। তাদের ভাষ্য, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং পৌর প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনও করা হয় এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া নির্মাণকাজ পরিচালনার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
তবে অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নোটিশের পরও নির্মাণকাজ বন্ধ হয়নি। বরং নির্মাণ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে প্রশাসনিক নজরদারি ও আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
চলাচলের পথ বন্ধ হওয়ার অভিযোগ
সরকারি জমি দখলের অভিযোগের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা মহি উদ্দিন কাজলের পরিবার দাবি করেছে, নির্মাণকাজের কারণে তাদের প্রায় চার দশক ধরে ব্যবহৃত চলাচলের পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত ওই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিনই তাদের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বাড়ি থেকে বের হওয়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন, এমনকি অসুস্থ রোগী নিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে।
মহি উদ্দিন কাজল বলেন, "সরকারি জায়গা দখল করে আমাদের পরিবারের একমাত্র চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি। তদন্তও হয়েছে, নোটিশও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়নি।"
প্রশাসনের পদক্ষেপ
অভিযোগের পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন জমা দেওয়া হয়। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অনুমোদন ছাড়া নির্মাণকাজ পরিচালনার বিষয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি সড়ক ও জনপদ বিভাগকেও অবহিত করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নির্মাণাধীন স্থাপনায় ইটের গাঁথুনি, ছাদ নির্মাণসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কাজ চলমান রয়েছে। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "প্রশাসনের নোটিশ জারির পরও যদি প্রকাশ্যে নির্মাণকাজ চলতে পারে, তাহলে সাধারণ মানুষের কাছে আইনের শাসনের বার্তা দুর্বল হয়ে পড়ে।"
অভিযুক্তের বক্তব্য
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আব্দুর রাশিদ। তিনি বলেন, "যে জায়গায় নির্মাণকাজ চলছে, সেটি আমার নিজস্ব মালিকানাধীন জমি। জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকায় প্রতিপক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ করছে।"
সওজের অবস্থান
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগের কিশোরগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মুহাম্মদ ফয়সাল বলেন, "আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের মাধ্যমে যদি প্রমাণিত হয় যে সওজের সরকারি জমি দখল করা হয়েছে, তাহলে প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তিনি আরও জানান, জমির সীমানা, মালিকানা ও রেকর্ড যাচাইয়ের পর প্রয়োজন হলে উচ্ছেদসহ অন্যান্য আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি জমি দখলের অভিযোগ এবং প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্যের ঘটনা নতুন নয়। তাই দ্রুত ভূমি রেকর্ড, সওজের সীমানা নির্ধারণ, খতিয়ান ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তাদের মতে, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, বন্ধ হয়ে যাওয়া চলাচলের পথ পুনরুদ্ধার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে আইনের শাসনের বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করা উচিত।
বর্তমানে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করবে অভিযোগের সত্যতা এবং পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনগত পদক্ষেপ।
ঠিকানা/এসআর