​অক্টোবর নয়, আগস্টেই যোগদানের দাবিতে শাহবাগে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষকরা

প্রকাশ : ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৩:২৮ , অনলাইন ভার্সন
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীর যোগদান নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সরকার যোগদানের তারিখ ২৯ অক্টোবর থেকে এগিয়ে ১ অক্টোবর নির্ধারণ করলেও আন্দোলনকারীরা বলছেন, এটি তাদের প্রত্যাশা পূরণ করেনি। আগস্টের মধ্যেই যোগদান ও পদায়নের দাবিতে তারা রাজধানীর শাহবাগে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন।

আজ ২ আগস্ট (রবিবার) সকাল থেকে জাতীয় জাদুঘরের সামনে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে জড়ো হন। ‘দ্রুত যোগদান চাই’, ‘আগস্টেই পদায়ন চাই’—এমন নানা স্লোগানে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, চূড়ান্ত ফল প্রকাশের প্রায় ১৭৫ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো তারা নিয়োগপত্র হাতে পাননি। এতে চাকরি, পরিবার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা—সবকিছুই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।

এর আগে শনিবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি ভার্চ্যুয়াল সভা শেষে সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছিলেন, তদন্ত ও বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে নিয়োগে বিলম্ব হয়েছে। তিনি তখন বলেছিলেন, আগামী ২৯ অক্টোবর চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের যোগদান করানো হবে।

তবে রবিবার সকালে মন্ত্রণালয় নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫’-এ চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীরা আগামী ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করবেন। পরে তাদের বিদ্যালয়ে পদায়ন সম্পন্ন করা হবে এবং পরবর্তী সময়ে পেশাগত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

বিদ্যালয়-২ শাখার উপসচিব রাজীব কুমার সরকারের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের আগেই সংশ্লিষ্টদের নিয়োগপত্র পাঠানো হবে।

নতুন তারিখ ঘোষণার পরও আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেননি সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্মের নেতা দেবব্রত সরকার বলেন, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরে তারা বেকার অবস্থায় রয়েছেন। অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করা তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর। তাই আগস্ট মাসের মধ্যেই যোগদান ও পদায়নের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দিতে হবে।

তিনি বলেন, "মন্ত্রণালয় যদি দ্রুত এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে কর্মসূচি প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। অন্যথায় দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।"

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বিভিন্ন জেলার প্রার্থীরা জানান, নিয়োগের লিখিত, মৌখিকসহ সব ধাপ সফলভাবে শেষ করার পরও দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেকেই অন্য চাকরির সুযোগ ছেড়ে দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ পরিবার-পরিজনের আর্থিক চাপের মুখে পড়েছেন।

তাদের ভাষ্য, দ্রুত বিদ্যালয়ে যোগদানের সুযোগ পেলে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের জীবনের দীর্ঘ অনিশ্চয়তারও অবসান হবে।

চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত (এমসিকিউ) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। পরে ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে সহকারী শিক্ষক পদে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়।

তবে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও যোগদান সম্পন্ন না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে। সরকারের নতুন ঘোষণার পরও তারা আগস্টের মধ্যেই নিয়োগ কার্যকর করার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

ঠিকানা/এসআর
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]