সেনজেন ইস্যুতে ইতালি-স্পেন তীব্র উত্তেজনা

প্রকাশ : ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৪৪ , অনলাইন ভার্সন
অভিবাসন সংকটকে কেন্দ্র করে ইউরোপের দুই দেশ স্পেন ও ইতালির মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও তীব্র হয়েছে। মরক্কো থেকে স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ভূখণ্ড সেউটায় বিপুল সংখ্যক অভিবাসীর প্রবেশের ঘটনাকে ঘিরেই দুই দেশের মধ্যে এই বিরোধের সূত্রপাত।

পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন সরকার গত ৩১ জুলাই এক মাসের জন্য স্পেনের সঙ্গে সেনজেন চুক্তির আওতায় অবাধ চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করে। এ সিদ্ধান্তের ফলে সমুদ্র ও আকাশপথে প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি স্থল সীমান্তেও অতিরিক্ত নজরদারি ও তল্লাশি জোরদার করা হয়।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) স্পেন সরকার ইতালির এই সিদ্ধান্তকে অন্যায্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতির পরিপন্থী এবং স্প্যানিশ নাগরিকদের প্রতি বৈষম্যমূলক বলে আখ্যা দেয়। মাদ্রিদ ইতালিকে দ্রুত এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, স্প্যানিশ নাগরিকদেরও অন্যান্য ইইউ সদস্য দেশের নাগরিকদের মতো সমানভাবে বিবেচনা করা উচিত।

স্পেন আরও সতর্ক করে জানিয়েছে, আগামী ৯ আগস্টের মধ্যে যদি ইতালি সীমান্তে আরোপিত অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহার না করে, তাহলে স্প্যানিশ নাগরিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় তারা পরিস্থিতি অনুযায়ী পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে। যদিও সম্ভাব্য সেই পদক্ষেপের ধরন সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি দাবি করেছেন, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার লক্ষ্যেই এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেউটার ঘটনার পর তিনি কয়েকজন ইউরোপীয় নেতার সঙ্গে আলোচনায় স্পেনকে সাময়িকভাবে সেনজেন অঞ্চলের বাইরে রাখার প্রস্তাবও তুলেছিলেন। তবে বিদ্যমান আইনি কাঠামোয় এমন সিদ্ধান্ত কার্যকর করার সুযোগ নেই।

স্পেন সরকারের বক্তব্য, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বা নির্বাচনী স্বার্থে ইউরোপীয় অংশীদারদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় বিরোধ সৃষ্টি করা উচিত নয়। তারা আশা প্রকাশ করেছে, শেষ পর্যন্ত পারস্পরিক সহযোগিতা, বাস্তবতা এবং ইউরোপীয় ঐক্যের মনোভাবই প্রাধান্য পাবে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সেউটায় পৌঁছানো প্রায় ৭২ হাজার অভিবাসীর মধ্যে প্রায় ৭০ হাজার ইতোমধ্যে মরক্কোতে ফিরে গেছেন। স্পেনের হিসাবে এ ঘটনায় ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে মরক্কোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তাদের সীমান্ত এলাকায় ১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে পানিতে ডুবে।

এদিকে সেউটায় অবস্থানরত অভিবাসীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুও রয়েছে। তারা বর্তমানে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, নিরাপদ আশ্রয় ও স্যানিটেশন সুবিধার ঘাটতিসহ কঠিন মানবিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

ঠিকানা/এনআই
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]