জাপানে ‘নজিরবিহীন’ ভারি বৃষ্টিতে ৫ জনের মৃত্যু, আটকা হাজারো মানুষ

প্রকাশ : ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯:০৩ , অনলাইন ভার্সন
জাপানের পূর্বাঞ্চলে ‘নজিরবিহীন’ ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এই দুর্যোগের কারণে নারিতা বিমানবন্দরে রাতভর হাজার হাজার যাত্রী আটকা পড়েছেন এবং সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বলে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

জাপান আবহাওয়া সংস্থার (জেএমএ) ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩০ সেন্টিমিটারের (প্রায় ১২ ইঞ্চি) বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পূর্বাঞ্চলীয় চিবা শহরে গত ৬০ বছরের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বৃষ্টিবহুল আগস্ট মাস হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দিনের শেষ ভাগে এই তীব্র বৃষ্টিপাতের ফলে ভূমিধসের আশঙ্কা ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়। স্থানীয় আবহাওয়াবিদরা চিবা অঞ্চলের জন্য প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা জারি করেন।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এই ধরনের চরম আবহাওয়া এখন আরও ঘন ঘন, দীর্ঘস্থায়ী এবং তীব্র রূপ নিচ্ছে।

এএফপি-র একজন সাংবাদিক দেখেছেন, চিবা অঞ্চলের নিচু সড়কগুলোতে ডজনখানিক গাড়ি পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে নারিতা বিমানবন্দরে পুরো টার্মিনাল জুড়ে যাত্রীরা ঘুমিয়ে ছিলেন। সেখানে স্লিপিং ব্যাগের স্তূপ জমে যায় এবং চেক-ইনের জন্য দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়।

শুক্রবার বিকেলে চিবাতে অনুষ্ঠিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক সভায় একজন কর্মকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

প্রাদেশিক প্রশাসন এরআগে জানিয়েছিল, নিহতদের মধ্যে ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি রয়েছেন যাকে একটি ডুবে যাওয়া রাস্তায় ভাসমান অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং ৬৬ বছর বয়সী এক নারী রয়েছেন যিনি তার ডুবে যাওয়া গাড়ির ভেতর আটকা পড়ে মারা যান। অন্যান্য নিহতদের মধ্যে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তি রয়েছেন যিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েছিলেন, এবং অন্য এক ব্যক্তির বয়স ও পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা যায়নি।

তবে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা আট হতে পারে।

স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যালয় জানিয়েছে, চিবা শহরের আশপাশ জুড়ে প্রায় ২৬ হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে।

ইচিকাওয়া, কাশিওয়া এবং সাকুরার মতো শহরগুলোতে ৮০টিরও বেশি বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া আরও প্রায় ৯০টি বাড়ির মেঝের নিচে পানি ঢুকে পড়েছে।

জাপান আবহাওয়া সংস্থার এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘এটি একটি নজিরবিহীন মাত্রার ভারি বৃষ্টিপাতের ঘটনার রূপ নিচ্ছে।’

চিবা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যালয় জানিয়েছে, টোকিওকে সেবা দেওয়া দুটি প্রধান বিমানবন্দরের একটি নারিতা বিমানবন্দরে প্রায় ছয় হাজার মানুষ রাতভর আটকে ছিলেন। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত সেখান থেকে যাতায়াতকারী অধিকাংশ ট্রেনও বাতিল করা হয়েছিল। 
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীরা জানান, বিমানবন্দর কর্মীরা বিনামূল্যে পানি, খাবার এবং স্লিপিং ব্যাগ বিতরণ করেছেন।

অন্যদিকে, ট্রেন সেবা স্থগিত থাকায় চিবা স্টেশনেও শত শত মানুষ আটকা পড়েন বলে এএফপির সাংবাদিক নিশ্চিত করেছেন।

এনএইচকে জানিয়েছে, কাশিওয়া শহরে চাকার ওপর পর্যন্ত পানিতে ডুবে যাওয়া গাড়ির ছবি দেখা গেছে এবং শত শত মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে রাত কাটিয়েছেন।

আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত থাকা ৫ মাত্রার সতর্কতা কমিয়ে ৪ মাত্রায় নামিয়ে আনা হয়েছে।

ঠিকানা/এসআর
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]