বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়েছে। ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকেই ‘বিজেপি সরকার’ নিয়েছে পদক্ষেপ। অত্যন্ত গোপনে ও সন্তর্পণে চলছে কার্যক্রম। ভারত অভিমুখে হিন্দুযাত্রা ঠেকাতেই ‘কাঁটাতার প্রকল্প’। মুখে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশি মুসলিম ঠেকাতে কাঁটাতার। কিন্তু গোপন তথ্যমতে হিন্দু ঠেকানোর আয়োজন। তিনটি চিন্তা থেকে ভারত সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
০১. ভারতের উপর ক্রমবর্ধমান চাপ কমানো; ০২. বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যার আশঙ্কাজনক হ্রাস ঠেকানো এবং ০৩. ভারতে বাঙালি হিন্দুদের প্রভাব-প্রতিপত্তি কমানো।
বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি হয় ১৯৭৪ সালে। মোট জনসংখ্যার ১৩.৫০% ছিল হিন্দু জনগোষ্ঠী। ২০১১-এর আদমশুমারিতে ৮.৫০ শতাংশ। দুই কোটি থেকে ১ কোটি ২৮ লাখ নিপতিত। ২০২২-এর আদমশুমারিতে হ্রাসকৃত জনসংখ্যা ৭.৯৫ শতাংশ।
হিন্দু জনসংখ্যা হ্রাসের কারণ দেখানো হয় দুটি। নির্যাতনে পলায়ন ও ধর্মান্তরিত করা। তবে ভারতের গবেষণা সেলের মতামত ভিন্ন। ক্ষুদ্র বাংলাদেশের থেকে বিশাল ভারতের আকর্ষণ। হিন্দুপ্রধান রাষ্ট্র হওয়ায় ভারতে অবস্থান নিরাপদ। এজন্য বাংলাদেশের অধিকাংশ হিন্দু ভারতমুখী। এই বিষয়ে গবেষকদের মতামত ভয়াবহ। তাদের আশঙ্কা, এই জনচাপ ভারতকে ডোবাবে।
জমিজমা বিক্রি করে অধিকাংশজন ভারতে ঢোকেন। গোপনীয়তার কারণে জমি বা সম্পদ বেচেন অর্ধেক মূল্যে। ফলে পাচারকৃত অর্থের পরিমাণ হয় যৎকিঞ্চিত। সামগ্রিক বিচারে স্থান্তরিত হিন্দুনা ভারতের জন্য সম্পদ নয়। গবেষতদেও মতে, উন্নয়ণকামী ভারতের জন্যে কারা ‘দায়’।
সনাতনীদের ভারতযাত্রা বন্ধে কাঁটাতার
মমতার প্রতি অমিত শাহর চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশের হিন্দু হ্রাস ঠেকাতে চলছে মহাতৎপরতা। এজন্য সীমান্তে কাঁটাতারের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। যাতে সাধারণ বা সনাতনী হিন্দুদের সহজ পারাপার বাঁধাগ্রস্ত হয়। পাসপোর্ট ছাড়া অবৈধপথের ভারতযাত্রা কার্যত স্থগিত। অনুপ্রবেশ ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ ঠেকানোর চরম ব্যবস্থা। অবৈধ অভিবাসন, চোরাচালান ও পাচার রোধই লক্ষ্য। নিরাপত্তা বেষ্টনীর কারণে হিন্দুদের ভারত পলায়ন কমছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্তপথ ৪ হাজার ৯৭ কিলোমিটার। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সঙ্গে ২ হাজার ২১৬ কিলোমিটার। ত্রিপুরার সঙ্গে ৮৬৫, মেঘালয় ৪৪৩ কিলোমিটার। মিজোরাম ৩১৮ এবং আসামের সঙ্গে ২৬৩ কিলোমিটার।
বিধানসভা নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির শুভেন্দু সরকার। প্রথম সভাতেই পুরো সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর সিদ্ধান্ত। ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্তরক্ষী ‘বিএসএফকে’ জমি হস্তান্তরের নির্দেশ।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার ছিল ১,৬৫৩ কিলোমিটার। পূর্ববর্তী তৃণমূল-মমতা সরকারের সময়কাল পর্যন্ত। ওই সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ফোন দেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে বলেন ভূমির ব্যবস্থা করতে। বাকি ৫৬৩ কিলোমিটার কাঁটাতার দিতে চান তিনি। কিন্তু মমতা ব্যানার্জি বিষয়টিতে আমল দেননি। ফলে মানুষের এপার-ওপার কার্যক্রম অনেকটা উদার ছিল। পশ্চিম ও পূর্ববাংলার মেলবন্ধনকে ঠেকাতে চাননি। কার্যত মানুষ ও গরু পাচার সহজতর ছিল। বাংলা ভাষাভাষী মানুষ গোপন আয়ের সুযোগ পেতো।
২০২৬-এর ৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বিজয় পায় বিজেপি। কাছাকাছি সময়ে আসাম রাজ্যেও বিজেপির বিজয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকেই শোনান নির্দেশনা। প্রথম কাজÑ সীমান্তে কাঁটাতার বেষ্টনী প্রতিষ্ঠা। বাংলাদেশ থেকে কাক-পক্ষীও যেনো ভারতে ঢুকতে না পারে।
বাংলাদেশে হিন্দুদের সুরক্ষা দিতে বিষেশ ব্যবস্থা
ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট-খুলনার পৃথক হিন্দু আগমন
ভারতে বাঙালি হিন্দু বাড়াতে চায় না কেন্দ্রীয় সরকার। ২৯২৪-এর ৫ আগস্টের পর ভিজিট ভিসা বন্ধ। ভারত-বাংলাদেশ তিনটি এক্সপ্রেস ও ট্রেনও বন্ধ। সংশ্লিষ্ট বন্দরগুলো কার্যত বন্ধই রয়েছে। সড়কপথে মালামাল পরিবহণ চালু থাকলেও তা সীমিত পর্যায়ে। অর্থাৎ ভারত অভিমুখে বাংলাদেশের চলাচল আর নেই। চিকিৎসা ভিসা থাকলেও অনেকটা সংরক্ষিত সংখ্যক।
৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর বৃহৎ সংখ্যক হিন্দু ভারতমুখী হয়। কিন্তু অধিকাংশই সুবিধা করতে পারেনি। ডুয়েল সিটিজেনশিপের অসংখ্যজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। ফেরতও পাঠানো হয়েছে অনেককে। বোঝানো হয়েছেÑ বাংলাদেশই ভালো। সেখানেই থাকো, বংশবৃদ্ধি করো। সংখ্যায় ও সামাজিকতায় শক্তিশালী হও।
বাংলাদেশে ভারতের প্রায় আটটি উপ-দূতাবাস। সোয়া কোটি হিন্দু সম্প্রদায়কে সাহারা দিচ্ছে। আঞ্চলিক কার্যক্রমে সহযোগিতা বৃদ্ধি করেছে। মাসিক ‘ভারত বিচিত্রা’ মুুখপত্রকে সম্প্রসারিত করা হয়েছে। গুলশানে ‘ইন্দিরা গান্ধী’ সংস্কৃতি কেন্দ্রে চলছে অনুষ্ঠানাদি।
ঢাকা-চট্টগ্রাম-খুলনা-সিলেটে ঘটেছে বিপ্লব। হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য প্রতিষ্ঠা পেয়েছে পৃথক বিল্ডিং। রাজধানী ঢাকার একাধিক বহুতল ভবন শুধু হিন্দুদের। পুরান ঢাকার একটি ভবনকে ‘মিনি ইন্ডিয়া’ ডাকা হয়। ১৬তলা ভবনটিতে লিফট নেই, তবে শুধুই হিন্দু। একজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী বলেন, শিলিগুড়ি থাকতাম। সুবিধা করতে না পেরে ফিরে এসেছি। ঢাকায় এসে আমরা ভালোই আছি। আমাদের হিন্দু কমিউনিটি আগের থেকে অনেক ঐক্যবদ্ধ। ভারতের কাঁটাতার আমাদের পৃথক করে দিয়েছে।