​বাফেলোতে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরকে সংবর্ধনা

‘ক্ষমতার অপব্যবহার নয়, জনগণের আস্থা অর্জনই পুলিশের লক্ষ্য’

প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬, ২৩:০১ , অনলাইন ভার্সন
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো শহরে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরকে সংবর্ধনা দিয়েছে ওয়েস্টার্ন নিউইয়র্ক বাংলাদেশি সোসাইটি। গত ১৪ জুন টোনাওয়ান্ডার ডেলহি প্যালেস অব বাফেলোতে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে তাকে এ সংবর্ধনা জানানো হয়।
ওয়েস্টার্ন নিউইয়র্ক বাংলাদেশি সোসাইটির সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিবের সভাপতিত্বে এবং বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা শেখ ওয়াহিদুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন কানাডাপ্রবাসী প্রিন্সিপাল মুকুল, বিএনপি নেতা ভিপি জসিম, সিরাজুদ্দৌলা বাবুল, মেসবাহ, শাহীন, রহিমসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
বক্তারা বাংলাদেশ পুলিশের আধুনিকায়ন, জনবান্ধব সেবা নিশ্চিতকরণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন। তারা দেশের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পুলিশের অবদানের কথাও তুলে ধরেন।
সংবর্ধনার জবাবে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির প্রবাসী বাংলাদেশিদের আন্তরিক অভ্যর্থনা ও সম্মানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছি। আপনারা জানেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। প্রতি এক হাজার মানুষের জন্য গড়ে মাত্র একজন পুলিশ সদস্য রয়েছে।
১৯৭১ সালের পর থেকে বাংলাদেশের মানুষ যে স্বপ্ন লালন করে আসছে, তার সবকিছু আমরা এখনো বাস্তবায়ন করতে পারিনি। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে বৈষম্য দূর করার আন্দোলনে আমাদের প্রায় ১,৫০০ তরুণ প্রাণ শহীদ হয়েছে। পুলিশ সদস্যদেরও জীবন দিতে হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেছেন।

নিউইয়র্ক: অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক কনসুলেটের কন্সাল জেনারেল মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।

তারা যে স্বপ্ন দেখেছেন- অন্যায় ও অবিচারমুক্ত, নিরাপদ এবং ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার- সেই চেতনা ধারণ করে আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে। এটাই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
আমরা সবসময় বলি, ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা। সেই ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। যারা একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু দেশীয় ও বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র বারবার আমাদের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে, যাতে বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে।

নিউইয়র্ক: অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির।

দুঃখজনক হলেও সত্য, এসব ষড়যন্ত্রে আমাদের নিজেদের কিছু মানুষও জড়িত। তবে তাদের সংখ্যা খুবই সীমিত।
বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ২ লাখ ১৮ হাজার পুলিশ সদস্য কর্মরত আছেন। কিন্তু দীর্ঘ ১৭ বছরের দলীয়করণ, দুর্বল নেতৃত্ব এবং বিভিন্ন ভুল সিদ্ধান্তের কারণে পুলিশ বাহিনীর ভেতরে কিছু নেতিবাচক প্রবণতা তৈরি হয়েছে। একজন পুলিশ সদস্যকে যদি ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়, তাহলে তার মধ্যে ক্ষমতার অপব্যবহারের মানসিকতা তৈরি হতে পারে। এই প্রবণতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।
অনেক সময় বলা হয়, আমরা রাজনৈতিক বিষয়ে কথা বলতে পারি না। কিন্তু একজন নাগরিক হিসেবে দেশের স্বার্থে কথা বলার অধিকার আমারও আছে। আমি যদি ব্যক্তিগত স্বার্থে কোনো কথা বলি বা দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার করি, তাহলে সেটি অবশ্যই অপরাধ এবং তার বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু দেশের জনগণের স্বার্থে, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের স্বার্থে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে কথা বলা আমার নাগরিক অধিকার।
তাই ভয় পেলে চলবে না। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর আমরা দেখেছি, পুলিশ বাহিনীর মধ্যে এক ধরনের সংকট ও ভীতি কাজ করছিল। অনেক সদস্য দায়িত্ব পালনে অনীহা প্রকাশ করছিলেন। আমি নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন ইউনিটে গিয়েছি, এমনকি যেসব ইউনিটে আগে কখনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যাননি, সেখানেও একাধিকবার গিয়েছি।

নিউইয়র্ক :অনুষ্ঠান মঞ্চে অতিথি ও আয়োজকদের একাংশ।

আমি তাদের বলেছি, তোমাদের হাতে আইনসম্মত অস্ত্র আছে, প্রশিক্ষণ আছে, দক্ষতা আছে। তাহলে তোমরা জনগণকে ভয় পাবে কেন? তোমাদের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা।
মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে তোমরা এই দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছ। কিন্তু আমাদের মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে। আমরা যেন কোনো অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে চাকরিতে না আসি। রাতারাতি অন্যায়-অবিচারের মাধ্যমে সম্পদের মালিক হওয়ার মানসিকতা শুধু পুলিশ বাহিনীতেই নয়, সমাজের বিভিন্ন স্তরেই বিদ্যমান। এই প্রবণতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।”
তিনি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, “প্রবাসীরা বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। দেশের অর্থনীতি, সংস্কৃতি এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে তাদের অবদান অনস্বীকার্য।”
তিনি আরো বলেন, ‘সম্প্রতি মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন। সরকারি সফর হওয়া সত্ত্বেও তিনি সরকারের কোনো সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ না করে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ব্যয়ে সফর সম্পন্ন করেছেন, যা অনেকের জন্য অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত।’
অনুষ্ঠানে ওয়েস্টার্ন নিউইয়র্ক বাংলাদেশি সোসাইটির নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী এবং বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি উপস্থিত ছিলেন।
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]