আগস্ট মাসটি এলে
বুকের পাঁজরে শুরু হয় ধুকধুকানি
সার্কাসের রোগা হরিণের মতো
তখন ঝিমুতে থাকি
মাঝরাতের ঘুমন্ত প্রহরে কে যেন হাত বোলায়;
‘খোকন সোনা বলি শোন
থাকবে না আর দুঃখ কোনো
মানুষ যদি হতে পারো’...
তৃপ্তির নিঃশ্বাসে অবাক হয়ে দেখি
আমার মায়ের একঝলক হাসি...
স্মৃতি-স্মরণে ‘সোনার তরী’তে ভাসে;
‘সেই যে আমার নানা রঙের দিনগুলি’...
আগস্ট মাসটি এলে, -নীলিমায় ঝরে শোকের ছায়া
তর্জনীতে বেজে ওঠে সেই কণ্ঠস্বর
‘এবারের সংগ্রাম/ স্বাধীনতার সংগ্রাম’
মাদলকণ্ঠে ঝংকৃত হয়-মুক্তির গান
স্বাধীনতার গান
বিদ্রোহের অগ্নিশিখায় বেজে ওঠে,
‘বলো বীর, চির উন্নত মম শির’
আগস্ট মাসটি এলে
চতুর্দিকে নেকড়ে আর ইঁদুরের সখ্য বেড়ে যায়
অথচ ঘোর অন্ধকারে কেঁদে ওঠে বাংলাদেশ!
বিষণ্নতার নীলাভ ব্যথায় কত কান্না, কত হাহাকারে
কাঁটাতারে ঝুলে থাকে ফেলানীর লাশ!
আগস্ট মাসটি এলে
নীলিমায় উড়ে ‘আসাদের শার্ট’,
বেদনার কৃষ্ণচূড়োয় লুটোপুটি খায়
সেই সব ‘বর্ণমালা, -আমার দুঃখিনী বর্ণমালা’...
রজনীর অন্ধকারে গ্রাস হই আমি
যেখানে
ফিলিস্তিনি শিশুরা ফুল হয়ে
জেগে ওঠে মরু সাহারায়...
হন্তারকের মিসাইল বোমায়
স্তন্যপায়ী মৃত শিশু থুবড়ে পড়ে
নাফ নদীর ঘোলা জলে
আমি তাকাতে পারি না, যখন-
রাক্ষুসে বোমা, ক্রসফায়ারে আক্রান্ত স্বদেশ
দিগন্তজুড়ে ফোরাতের শোণিতধারা!
আমি কি তখন ঠিক থাকতে পারি?
জন্মভূমির কোলে সেই সব হত্যালীলা দেখে দেখে,
তবু আমি বর্ণমালার বীজ বুনি
আমি হারিয়ে যাই
শ্রাবণে মেঘের দিনে, -নুহাশ পল্লির সবুজ ছায়ায়
আবার কখনো
রোদেলা দুপুরে মহাসড়কের বুক চিরে
‘উত্তরাধিকার’সূত্রে ছুটে যাই চেনা গ্রামে
হৃদয়সেতারে বেজে ওঠে বেদনার সুর
‘দীর্ঘ সরু, পিচ্ছিল রাস্তায়
কত ধাপ ভাঙতে হবে...’
আবছা আঁধারে কানে কানে বলে যায়,
‘আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও’
আগস্ট মাসটি এলে-
শরতের লালচে আভায় রক্তাভ মেঘ
বত্রিশ থেকে ছড়িয়ে পড়ে সারা বাংলায়
কত শোক, কত কান্নার অহরাত্রে,
আমি ছুটে যাই মায়ের কাছে
আগস্ট মাসটি এলে-
উত্তাল তরঙ্গে জেগে ওঠে জনতা
স্লোগানে মুখরিত রক্তাক্ত রাজপথ
তারুণ্যের জাগরণে ‘আওয়াজ উডা বাংলাদেশ’...
ছাত্রজনতার রক্তাক্ত মিছিলে লাশের বহর দেখে
নিঃসঙ্গতার আঁধারে
আমি কাঁদতেও পারি না!
এই তো জীবন :
অশ্রুত বাংলার ভেজা বাতাসে
সবকিছু সহজ, -সবকিছুই কঠিন!
যেখানে চিরকুটে লেখা শোক ও বেদনার কথা
রুদ্ধশ্বাসের অশ্রুডানায়
এখনো
সেই মাটি, সেই জনপদের
অনেক কিছুই চেনা চেনা লাগে...
(কবিতাটিতে যাঁদের কবিতা ও গানের উদ্ধৃতি আনা হয়েছে-তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি)।
বুকের পাঁজরে শুরু হয় ধুকধুকানি
সার্কাসের রোগা হরিণের মতো
তখন ঝিমুতে থাকি
মাঝরাতের ঘুমন্ত প্রহরে কে যেন হাত বোলায়;
‘খোকন সোনা বলি শোন
থাকবে না আর দুঃখ কোনো
মানুষ যদি হতে পারো’...
তৃপ্তির নিঃশ্বাসে অবাক হয়ে দেখি
আমার মায়ের একঝলক হাসি...
স্মৃতি-স্মরণে ‘সোনার তরী’তে ভাসে;
‘সেই যে আমার নানা রঙের দিনগুলি’...
আগস্ট মাসটি এলে, -নীলিমায় ঝরে শোকের ছায়া
তর্জনীতে বেজে ওঠে সেই কণ্ঠস্বর
‘এবারের সংগ্রাম/ স্বাধীনতার সংগ্রাম’
মাদলকণ্ঠে ঝংকৃত হয়-মুক্তির গান
স্বাধীনতার গান
বিদ্রোহের অগ্নিশিখায় বেজে ওঠে,
‘বলো বীর, চির উন্নত মম শির’
আগস্ট মাসটি এলে
চতুর্দিকে নেকড়ে আর ইঁদুরের সখ্য বেড়ে যায়
অথচ ঘোর অন্ধকারে কেঁদে ওঠে বাংলাদেশ!
বিষণ্নতার নীলাভ ব্যথায় কত কান্না, কত হাহাকারে
কাঁটাতারে ঝুলে থাকে ফেলানীর লাশ!
আগস্ট মাসটি এলে
নীলিমায় উড়ে ‘আসাদের শার্ট’,
বেদনার কৃষ্ণচূড়োয় লুটোপুটি খায়
সেই সব ‘বর্ণমালা, -আমার দুঃখিনী বর্ণমালা’...
রজনীর অন্ধকারে গ্রাস হই আমি
যেখানে
ফিলিস্তিনি শিশুরা ফুল হয়ে
জেগে ওঠে মরু সাহারায়...
হন্তারকের মিসাইল বোমায়
স্তন্যপায়ী মৃত শিশু থুবড়ে পড়ে
নাফ নদীর ঘোলা জলে
আমি তাকাতে পারি না, যখন-
রাক্ষুসে বোমা, ক্রসফায়ারে আক্রান্ত স্বদেশ
দিগন্তজুড়ে ফোরাতের শোণিতধারা!
আমি কি তখন ঠিক থাকতে পারি?
জন্মভূমির কোলে সেই সব হত্যালীলা দেখে দেখে,
তবু আমি বর্ণমালার বীজ বুনি
আমি হারিয়ে যাই
শ্রাবণে মেঘের দিনে, -নুহাশ পল্লির সবুজ ছায়ায়
আবার কখনো
রোদেলা দুপুরে মহাসড়কের বুক চিরে
‘উত্তরাধিকার’সূত্রে ছুটে যাই চেনা গ্রামে
হৃদয়সেতারে বেজে ওঠে বেদনার সুর
‘দীর্ঘ সরু, পিচ্ছিল রাস্তায়
কত ধাপ ভাঙতে হবে...’
আবছা আঁধারে কানে কানে বলে যায়,
‘আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও’
আগস্ট মাসটি এলে-
শরতের লালচে আভায় রক্তাভ মেঘ
বত্রিশ থেকে ছড়িয়ে পড়ে সারা বাংলায়
কত শোক, কত কান্নার অহরাত্রে,
আমি ছুটে যাই মায়ের কাছে
আগস্ট মাসটি এলে-
উত্তাল তরঙ্গে জেগে ওঠে জনতা
স্লোগানে মুখরিত রক্তাক্ত রাজপথ
তারুণ্যের জাগরণে ‘আওয়াজ উডা বাংলাদেশ’...
ছাত্রজনতার রক্তাক্ত মিছিলে লাশের বহর দেখে
নিঃসঙ্গতার আঁধারে
আমি কাঁদতেও পারি না!
এই তো জীবন :
অশ্রুত বাংলার ভেজা বাতাসে
সবকিছু সহজ, -সবকিছুই কঠিন!
যেখানে চিরকুটে লেখা শোক ও বেদনার কথা
রুদ্ধশ্বাসের অশ্রুডানায়
এখনো
সেই মাটি, সেই জনপদের
অনেক কিছুই চেনা চেনা লাগে...
(কবিতাটিতে যাঁদের কবিতা ও গানের উদ্ধৃতি আনা হয়েছে-তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি)।