ডিসেম্বরে দেশে ফিরতে চান যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহস্রাধিক নেতা-কর্মী

প্রকাশ : ২১ অগাস্ট ২০২৬, ১১:০৯ , অনলাইন ভার্সন
জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৃথক কর্মসূচি পালন করেছেন আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। জ্যাকসন হাইটসে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মশাল হাতে শপথ নেওয়ার পাশাপাশি আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দলের নেতারা। তারা দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় এক হাজার নেতাকর্মী ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সভায় সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল নেতাকর্মীদের বাংলাদেশে ফেরার বিষয়টি। দলটির নেতারা দাবি করেন, আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন এবং তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীও বাংলাদেশে যাবেন।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত এই আলোচনা সভা শুরু হয় জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও বিশেষ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে উপস্থিত নেতাকর্মীদের হাতে মশাল তুলে দেওয়া হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তাদের শপথবাক্য পাঠ করান।
এ সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস ও বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা। আলোচনা সভায় অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন দলটির সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া দলের সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, সাবেক উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও এতে বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেছিলেন; আগামী ডিসেম্বরে তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন এবং পৃথিবীর যে যেখানে আছেন, সবাই তার সঙ্গে দেশে যাবেন। আরেক নেতা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, তারা সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন ও নিপীড়ন দেখতে চান না এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আবারও দেশ পরিচালনার প্রত্যাশা করেন। তবে ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সময়সূচি বা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার তথ্য অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কাঠামো বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ে। ২০২৫ সালের মে মাসে সরকার আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। পরে ২০২৬ সালে সংসদে পাস হওয়া আইনের মাধ্যমে সেই নিষেধাজ্ঞাকে আরও দৃঢ় আইনি ভিত্তি দেওয়া হয়। 
এই বাস্তবতায় প্রবাসে থাকা আওয়ামী লীগের সংগঠনগুলো দলের রাজনৈতিক উপস্থিতি ধরে রাখার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। ফলে নিউইয়র্কের অনুষ্ঠানে মশাল হাতে শপথ, সিনিয়র নেতাদের উপস্থিতি এবং বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর দেশে ফেরার ঘোষণা—সবকিছু মিলিয়ে এটিকে আওয়ামী লীগের পুনর্গঠন ও পুনঃসক্রিয় হওয়ার রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
বিশেষ করে “ডিসেম্বর” সময়টির গুরুত্ব রয়েছে। শেখ হাসিনা নিজেই ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার কথা বলেছেন। নিউইয়র্কে একই সময়কে সামনে রেখে প্রায় এক হাজার নেতাকর্মীর দেশে ফেরার কথা উচ্চারিত হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে- এটি কি বিচ্ছিন্নভাবে প্রবাসী নেতাকর্মীদের সিদ্ধান্ত, নাকি বৃহত্তর কোনো রাজনৈতিক কৌশলের অংশ?
এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এমন কোনো আনুষ্ঠানিক রোডম্যাপ প্রকাশ করা হয়নি, যেখান থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে সমন্বিতভাবে দেশে ফেরার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ফলে নিউইয়র্কের নেতাদের বক্তব্যকে আপাতত রাজনৈতিক ঘোষণা বা সাংগঠনিক অভিপ্রায় হিসেবেই দেখা যুক্তিসঙ্গত।
বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বর্তমানে আইনি বিধিনিষেধের মধ্যে রয়েছে এবং দলটির বহু নেতা বিভিন্ন মামলা ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও গুরুতর মামলা ও সাজা রয়েছে এবং বাংলাদেশ সরকার ভারত সরকারের কাছে তার প্রত্যর্পণ চেয়েছে। 
তাই প্রবাস থেকে বিপুলসংখ্যক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর একই সময়ে দেশে ফেরা ঘটলে সেটি নিছক ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তন থাকবে না; তাৎক্ষণিকভাবেই তা বড় রাজনৈতিক ঘটনায় পরিণত হতে পারে।
সরকার কীভাবে এমন প্রত্যাবর্তনের প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখাবে, দেশে ফিরে নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন কি না এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে তার কী প্রভাব পড়বে- এসব প্রশ্ন তখন সামনে আসবে।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের জন্য এর রাজনৈতিক মূল্যও স্পষ্ট। দীর্ঘ সময় ধরে দলটি রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় বা বিচ্ছিন্ন, এমন ধারণার বিপরীতে প্রবাসী নেতাকর্মীদের সংগঠিত প্রত্যাবর্তন তাদের সমর্থকদের কাছে ‘মাঠে ফেরার’ বার্তা দিতে পারে।
নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে ১৫ আগস্টের অনুষ্ঠানটির সবচেয়ে আলোচিত বিষয় শেষ পর্যন্ত শোকসভা নয়, বরং ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা।
শেখ হাসিনার নিজের দেশে ফেরার ঘোষণা, আওয়ামী লীগের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞা এবং এখন প্রবাস থেকে প্রায় এক হাজার নেতাকর্মীর একই সময় দেশে ফেরার কথা—এই তিনটি বিষয় এক জায়গায় মিললে ডিসেম্বর বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা বা নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের সময় হয়ে উঠতে পারে।
তবে ঘোষণা এবং বাস্তবায়নের মধ্যে ব্যবধানও কম নয়। এক হাজার নেতাকর্মী সত্যিই দেশে ফিরবেন কি না, ফিরলেও তারা সংগঠিতভাবে ফিরবেন নাকি ব্যক্তিগতভাবে—এসবের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।
তারপরও নিউইয়র্কের আয়োজন থেকে একটি রাজনৈতিক বার্তা পরিষ্কার: দেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের জায়গা এখন যতই সংকুচিত হোক, প্রবাসে দলটি নিজেদের সাংগঠনিক উপস্থিতি দৃশ্যমান রাখতে চাইছে এবং সমর্থকদের সামনে দেশে ফেরার প্রত্যাশাকেও সামনে আনছে।
আগামী কয়েক মাসে সেই প্রত্যাশা বাস্তব রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পরিণত হয় কি না, নজর থাকবে সেদিকেই।
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]