​জীবনযুদ্ধে হেরে যাচ্ছেন শিক্ষকরা

প্রকাশ : ১৮ জুন ২০২৬, ১৩:২৫ , অনলাইন ভার্সন
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষকতা একসময় ছিল সম্মানজনক ও স্থিতিশীল পেশার প্রতীক। সমাজ গঠনের কারিগর হিসেবে শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় দেশটির হাজার হাজার শিক্ষক এখন নিজেদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতেই হিমশিম খাচ্ছেন। অনেকেই একাধিক চাকরি করতে বাধ্য হচ্ছেন, কেউ ঋণ নিচ্ছেন বাজার করার জন্য, আবার কেউ চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে আর্থিক সংকটে পড়ছেন।
শিক্ষকদের এই ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক দুরবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক সংগঠনগুলোর নেতা, শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকেরা। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যতের জন্য এটি একটি বড় সতর্কসংকেত।
নিউ মেক্সিকোর স্কুল কাউন্সেলর রেবেকা মিকেলসনের জীবনকাহিনি সেই বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি। তিনি বর্তমানে তিনটি চাকরি করেন। তবুও বাসাভাড়া, খাদ্য খরচ এবং স্বাস্থ্যবিমার মতো মৌলিক ব্যয় মেটাতে তাকে সংগ্রাম করতে হয়। উচ্চশিক্ষা গ্রহণ, ঋণ পরিশোধ এবং পূর্ণসময়ের জনসেবামূলক চাকরি করার পরও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারার বিষয়টিকে তিনি ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়, বরং একটি গভীর কাঠামোগত সমস্যার ফল বলে মনে করেন।
রেবেকার অভিজ্ঞতা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, মার্কিন শিক্ষক সংগঠন আমেরিকান ফেডারেশন অব টিচার্স (এএফটি)-এর অধিকাংশ সদস্যই মাসের শেষ পর্যন্ত টিকে থাকার জন্য বেতন থেকে বেতনে জীবনযাপন করছেন। অনেক শিক্ষক খাদ্য, বাড়িভাড়া এবং স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় মেটাতে ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি তাল মেলাতে পারেনি। ন্যাশনাল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন (এনইএ)-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের পর বাস্তব অর্থে আজকের শিক্ষকরা এক দশক আগের তুলনায় কম আয় করছেন। নতুন শিক্ষকদের প্রারম্ভিক বেতন কিছুটা বাড়লেও বাড়িভাড়া, খাদ্যপণ্য, স্বাস্থ্যসেবা এবং জ্বালানি খরচের তুলনায় সেই বৃদ্ধি অত্যন্ত অপ্রতুল।
অনেক রাজ্যে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি সন্ধ্যায় রেস্তোরাঁ, খুচরা বিক্রয় কেন্দ্র, রাইডশেয়ার সেবা কিংবা ব্যক্তিগত টিউশনের মতো অতিরিক্ত কাজে যুক্ত হচ্ছেন। ফলে শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ পরিকল্পনা, মূল্যায়ন ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার সময়ও কমে যাচ্ছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব শুধু শিক্ষকদের ওপর নয়, পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর পড়বে। ইতোমধ্যে অনেক স্কুলে শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। নতুন প্রজন্মের তরুণরা শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে নিরুৎসাহিত হচ্ছে। অভিজ্ঞ শিক্ষকদের একটি অংশও আগেভাগে পেশা ছেড়ে অন্য খাতে চলে যাচ্ছেন।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা খরচ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির ফলে মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর চাপ বেড়েছে। কিন্তু শিক্ষক, সমাজকর্মী এবং জনসেবামূলক পেশার কর্মীরা তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, কারণ তাদের বেতন বৃদ্ধি বাজারমূল্যের সঙ্গে সমানতালে বাড়েনি।
শিক্ষক সংগঠনগুলোর দাবি, শুধু বেতন বাড়ালেই হবে না; আবাসন সহায়তা, শিক্ষাঋণ মওকুফ, স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা এবং কর্মপরিবেশ উন্নয়নের মতো সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় শিক্ষকদের আর্থিক সংকট আরও গভীর হবে এবং তার সরাসরি প্রভাব পড়বে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মানের ওপর।
বিশ্লেষকদের মতে, একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার শ্রেণিকক্ষের ওপর। আর সেই শ্রেণিকক্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন শিক্ষকরা। যদি একজন শিক্ষক নিজের পরিবারের খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারেন, তবে শিক্ষাব্যবস্থার ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষকদের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সংকট এখন শুধু একটি পেশাগত সমস্যা নয়; এটি জাতীয় অগ্রগতি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]