​৭৫ দেশের ভিসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত

আদালতে বাতিল আপিল না হলে ভাগ্য খুলবে প্রবাসীদের

প্রকাশ : ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৪০ , অনলাইন ভার্সন
বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। বহুল আলোচিত এ রায় বহাল থাকলে দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মা, সন্তানসহ নিকটাত্মীয়দের যুক্তরাষ্ট্রে আনার অপেক্ষায় থাকা বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির জন্য আবারও খুলে যেতে পারে পারিবারিক অভিবাসনের পথ। গত ২১ আগস্ট শুক্রবার নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল বিচারক জেনেট এ. ভার্গাস ৬১ পৃষ্ঠার এক রায়ে পররাষ্ট্র দপ্তরের নীতিটিকে ‘আইনবিরোধী’ বলে ঘোষণা করেন। আদালত বলেন, কেবল জাতীয়তার ভিত্তিতে একটি দেশের সব আবেদনকারীর ইমিগ্র্যান্ট ভিসা আটকে দেওয়ার ক্ষমতা পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেয়নি কংগ্রেস। বিচারক নীতিটিকে বাতিল বা াধপধঃব করার পাশাপাশি শুধুমাত্র এই নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রত্যাখ্যাত আবেদনগুলোও আইন অনুযায়ী পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছেন।
ট্রাম্প প্রশাসন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু স্থগিত করে। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, এসব দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে এসে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল বা ‘পাবলিক চার্জ’ হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি। তবে আবেদন ও সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ না হলেও কার্যত ভিসা ইস্যু আটকে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে পরিবারভিত্তিক অভিবাসন আবেদনে।
এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও গ্রিনকার্ডধারী বহু বাংলাদেশি তাদের স্বামী-স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা কিংবা অন্যান্য যোগ্য স্বজনের জন্য আবেদন করেও চূড়ান্ত ইমিগ্র্যান্ট ভিসা পাচ্ছিলেন না। মাসের পর মাস ধরে আটকে থাকা এসব পরিবারের জন্য নতুন আদালতের রায় তাই বড় ধরনের স্বস্তির খবর।
তবে এখনই ভিসা নিশ্চিত নয়। আদালতের সিদ্ধান্ত কোনো আবেদনকারীকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা দেওয়ার নির্দেশ নয়। বরং জাতীয়তার ভিত্তিতে আর নষধহশবঃ বা সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করে প্রতিটি আবেদন প্রচলিত অভিবাসন আইন অনুযায়ী পৃথকভাবে যাচাই করতে হবে। অর্থাৎ মেডিকেল, আর্থিক সক্ষমতা, স্পনসরশিপ, নিরাপত্তা যাচাই এবং অন্যান্য যোগ্যতা আগের মতোই বিবেচিত হবে।
আদালতের রায় কার্যকর থাকলে শুধু বাংলাদেশ নয়, পাকিস্তান, নেপাল, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, মিসর, নাইজেরিয়া, রাশিয়াসহ তালিকাভুক্ত ৭৫ দেশের আটকে থাকা বিপুলসংখ্যক পরিবারভিত্তিক ও কিছু কর্মসংস্থানভিত্তিক ইমিগ্র্যান্ট ভিসা আবেদন পুনরায় স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ফেরার সুযোগ পাবে।
এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন- ট্রাম্প প্রশাসন রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে কি না এবং আপিল করলে উচ্চ আদালত রায়টি সাময়িকভাবে স্থগিত করবে কি না। অদ্যাবধি ২১ আগস্টের এই রায় স্থগিত হওয়ার কোনো তথ্য অফিসিয়ালি প্রকাশিত হয়নি। তবে পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে পুরোনো ৭৫ দেশের স্থগিতাদেশের নোটিশ এখনও দেখা যাচ্ছে; আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোকে নতুন নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আইনি লড়াই এখানেই শেষ, এমনটি এখনই বলা যাচ্ছে না। প্রশাসন আপিল করে ‘স্টে’ চাইতে পারে। কিন্তু আপিল না হলে, অথবা আপিল হলেও আদালতের রায় স্থগিত না হলে, বাংলাদেশিদের জন্য পরিবারভিত্তিক ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যুর বড় বাধাটি সরে যাবে। সে ক্ষেত্রে মাসের পর মাস অনিশ্চয়তায় থাকা অসংখ্য প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারের স্বজনদের যুক্তরাষ্ট্রে আসার পথ আবারও খুলে যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, ৭৫ দেশের ওপর একযোগে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা আটকে দেওয়ার নীতির বিরুদ্ধে এই রায় যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসনের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশিদের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সুখবরগুলোর একটি। তবে চূড়ান্ত স্বস্তির জন্য নজর থাকবে, ট্রাম্প প্রশাসন আপিল করে কি না এবং পররাষ্ট্র দপ্তর কত দ্রুত আদালতের রায় কার্যকর করে তার ওপর।
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]