ডিসেম্বরে না ফিরলে আওয়ামী লীগে ডা. দিপুমনির ক্যু!

প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:২৬ , অনলাইন ভার্সন
২৮ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনার ৭৯তম জন্মতিথি। অর্থাৎ ৮০ বছরে পদার্পণ ঘটছে বঙ্গবন্ধু কন্যার। ঐ সময়ে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান থাকছেন আমেরিকায়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিল জাতিসংঘ অধিবেশনের সভাপতি। ফলে প্রধানমন্ত্রী তারেক থাকবেন খোশমেজাজে।  
বিশ্বনেতাদের সাক্ষাতে, বৈঠকে, আড্ডায় থাকবেন মশগুল। ঐ সুযোগে বাংলাদেশে বিপ্লব ঘটাতে চায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ! ডিসেম্বরে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন শেখ হাসিনা। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী ভারতে থেকেও কথাকর্মে সক্রিয়। সম্প্রতি সহ-পলাতক জাহাঙ্গীর কবির নানক দিয়েছেন বার্তা। বলেছেন, প্রত্যাবর্তন ঠিক ডিসেম্বরেই নয়। জননেত্রী শেখ হাসিনা ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই ঢুকবেন। সেটি সেপ্টেম্বর বা নভেম্বরও হতে পারে। এ নিয়ে শতভাগ প্রস্তুতি চলছে, ঘটনা ঘটবেই।

ডিসেম্বরে না ফিরলে রিফাইন্ড আ.লীগের ঘোষণা
হাসিনাবিরোধী ক্যু-এর নেপথ্যে ডা. দিপুমনি
আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, সম্পাদক নির্ধারণের প্রক্রিয়াও চলছে। কমিটি গঠন নিয়ে তৈরি হয়েছে দু’টি ধারা। পলাতক ও প্রবাসী বনাম ভূতলবাসী গ্রুপ। প্রথম গ্রুপটি হাসিনাবাদী ও আত্মীয়-স্বজন পরিবেষ্টিত। পরের গ্রুপটি মূলত বাংলাদেশে লুকিয়ে থাকা নেতাদের। প্রবাস-পলাতক কিছু নেতাও সম্পৃক্ত রয়েছেন।
ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা না ফিরলে ঘটবে পাল্টা ক্যু। রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের জন্য টগবগ করছে নেতারা। এদের অধিকাংশজন ভূতলবাসী ও কারাগারে বন্দি। সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপুমনিও কারাগারে। যুগ্ম-সম্পাদক ছিলেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে। হাসিনাবাদী এই আওয়ামী নেত্রী সম্পাদক হওয়ায় প্রস্তাব পেয়েছেন। কিন্তু বিনীতভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগ করাকালে খবর দেননি। ক্ষমতাসীন আত্মীয়-স্বজনদের পালানোর পূর্বে মেসেজ দিয়েছেন। কিন্তু দিপুমনিসহ তিন শতাধিক কেন্দ্রীয় নেতাকে অবজ্ঞা করেছেন। ফলে অধিকাংশজনকে জেলের ঘানি টানতে হচ্ছে। 
দিপুমনি অবশ্য ক্ষমতাসীন থাকতেই কোণঠাসা ছিলেন। শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালে নির্বাচনী এলাকা চাঁদপুরে অপমানিত হন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালে সরকারি অর্থের অপচয় করে নিকটজনেরা। দিপুমনির সহোদর জমি ক্রয়ে ৫০০ কোটি টাকার দুর্নীতি করেন। চাঁদপুরের তৎকালীন জেলা প্রশাসক দূর্নীতির মামলা করেন। এই মামলার নেপথ্যে শেখ হাসিনার হাত রয়েছে বলে প্রচারণা। মেঘনা নদীর তীরে বালু ভরাট কেলেঙ্কারিও ছিলো। মিডিয়াতে বেশ কিছু অনিয়মের খবর প্রকাশিত হয়। ফলে প্রধানমন্ত্রী হাসিনা দিপুমণিকে হালকা শাস্তি দেন। শিক্ষামন্ত্রী থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বানান। ২০২৪-এর ৫ আগস্ট-এর পতন পর্যন্ত সম্পর্ক ছিলো শীতল। সম্প্রতি স্বামী ব্যারিস্টার তওফিক নওয়াজ প্রয়াত হয়েছেন। কারাগার থেকে একদিনের প্যারোলে মুক্তি পান দিপুমনি। অতঃপর পূর্বোক্ত জামিন আবেদনের শুনানি হয়। কিন্তু জামিন নিতে আদালতে অনীহা দেখান ডা. দিপুমণি। বলেন, আমার সবতো শেষ, আর বাড়ি ফিরে কী লাভ। এখন বাড়ি ফেরার ভাড়ার টাকাও হাতে নেই। বিষয়টি কারাবন্দি দিপুমণির অভিমান বলে প্রচারণা চলে। তবে বিশেষ সূত্রে নেপথ্য কারণ জানা গেছে। জামিন পেলে দিপুমণি আওয়ামী লীগ সম্পাদক হতেন। পলাতক সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ভারতে চরম অসুস্থ। এছাড়া তিনি সরকারের বিরুদ্ধে জিঘাংসা ঘোষণা করেছেন। খুনের বদলে খুন, চোখের বদলে চোখ নিতে চান। আওয়ামী লীগের শান্তিবাদী নেতারা বিষয়টিকে নেতিবাচক মনে করেছেন। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশে আটক দিপুমনিকে সম্পাদক মানতে আগ্রহী। কিন্তু বাদ সেধেছেন নেত্রী দিপুমনি স্বয়ং। পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রানিংমেট হবেন না। উল্লেখ্য দিপুমনি বাংলাদেশের প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস। জন হফকিন্স বা লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় শুধু নয়। আমেরিকার হার্ভার্ড থেকেও উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন। ফলে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের পদটি প্রত্যাশা করেন। শেখ হাসিনার পুত্র-কন্যা জয়-পুতুলের সম্পাদক নয়। সভাপতি পদের জন্যে আগামীতে লড়তে চান। এক্ষেত্রে দেশের ভূতলবাসী ও কারাগারের নেতারা সমর্থন দিচ্ছেন। দিপুমনি-রাশেক রহমান প্যানেলও প্রস্তাবিত  হয়েছে। উল্লেখ্য রাশেকের পিতা আশিকুর রহমান আওয়ামী লীগের দীর্ঘমেয়াদী কোষাধ্যক্ষ। পৈতৃকবাস বৃহত্তর রংপুরের মিঠাপুকুর। মা কণ্ঠশিল্পী রেহানা আশিকুর রহমান। রাশেদ রহমান বর্তমানে ব্রিটেনে অবস্থানরত। প্রায়শ টকশো করেন, গানও শোনান।  আওয়ামী লীগে কাদের-নানক গ্রুপের তুমুল সমালোচক। ডা. দিপুমনি কৌশলে রাজনীতি নিয়ে কারাগারে সক্রিয়। আদালতে সমমানদের শুনানির তারিখ পড়ে একই। ফলে পারস্পরিক মতবিনিময়ে সুবিধা হয়। সমমানদের পরামর্শেই তিনি আদালতে খেলেন জামিনকার্ড। হাসিনাপন্থী সম্পাদক না হতে জেলেই থাকতে চান। দিল্লি থেকে শেখ হাসিনাও বুঝতে পারেন নেতিবাচক মেসেজ। অর্থাৎ পরিবারতান্ত্রিক আওয়ামী লীগে দীপুমনির অনীহা।

সালাহউদ্দিনকে ঠেকাতে বিএনপিতে জামায়াতের ক্যু
২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছিলেন বিএনপির কর্মিষ্ঠ মহাসচিব। পাশাপাশি সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। কথা ছিলো দুটি পদেই বসবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ছিলেন অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তড়িঘড়ি করে তাকে দলের স্থায়ী কমিটিতে নেয়া হয়। যাতে স্থায়ী কমিটির সালাউদ্দিন মহাসচিব হতে পারেন। অন্যদিকে পানিসম্পদ মন্ত্রী এনিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু মন্ত্রী সালাউদ্দিনের উত্থান ঠেকাতে মরিয়া হয় জামায়াত-এনসিপি। ইসলামী ব্যাংক-এ জামায়াতের প্রভাব কমিয়েছেন মন্ত্রী সালাউদ্দিন। জামায়াতের অভিযোগ, জনাব সালাউদ্দিনের ভায়রা নেপথ্যের কারিগর। এই নিকটাত্মীয় ‘এস আলম গ্রুপে’র প্রতিনিধি। ওই গ্রুপের আশীর্বাদে একদা ডিএমডি হয়েছিলেন। ওনার তথ্যের ভিত্তিতে ইসলামী ব্যাংককে আইনি কাঠামোয় বাঁধা হয়েছে। জাতীয় সংসদেও সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে জামায়াত-এনসিপি সোচ্চার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে মানববন্ধন অনেক। মন্ত্রী সালাউদ্দিনের সন্তানকে নিয়েও প্রচারণা ঢের। ক্রিকেট বোর্ডের সদস্য হওয়ায় সমালোচনা গড়ায় সংসদেও। জাপানি কোম্পানির কাজে কমিশন চুক্তি বিষয়ে  তীর্যক সমালোচনা। সেই সুদর্শন সালাউদ্দিন মহাসচিব হয়েই গিয়েছিলেন। কিন্তু সরকারের কাছে কড়া বার্তা পাঠায় প্রতিপক্ষ। বলে ‘শিলং সালাউদ্দিন’কে না ঠেকালে সরকার পতনের ডাক। চরম আকার নেবে গরম আন্দোলন। 
পরিশেষে ‘সালাউদ্দিন উন্নয়ন প্রকল্পে’র আপাত অবসান। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী হন ড. মঈন খান। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন অ্যাডভোকেট রিজভী। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সালাউদ্দিন আহমেদ খুঁজছেন সাফল্য। শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে জটিল পরিস্থিতি। ভারতের সঙ্গে বন্দী বিনিময় চুক্তির অধীনে। নাকি রাজনৈতিকভাবে ঢুকে পড়ার সহিংস পরিস্থিতি। 
গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা মোচনের নতুন কৌশল খুঁজছে সরকার। ভারত সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেকের দোদুল্যমান কূটনীতি। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সুদূর যুক্তরাষ্ট্র সফর। অন্যদিকে গোয়েন্দা তথ্য অনেকটা রোমহর্ষক। জন্মতিথিতে স্বদেশে ফিরে কেক কাটার পরিকল্পনা! আওয়ামী লীগের উগ্রবাদী গ্রুপটি শেখ হাসিনাকে ফেরাতে সক্রিয়। বিদ্যুৎ-গ্যাস-জ্বালানি সংকটের মুখে চায় নতুন নৈরাজ্য।
সচেতন মহলের প্রশ্ন— প্রধানমন্ত্রী দেশে না থাকলে কি হবে পরিস্থিতি? ‘বিকল্প প্রধানমন্ত্রী’-খ্যাত সালাউদ্দিন কি পারবেন সামলাতে? ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে লংমার্চ করছে জামায়াত-এনসিপি। গৃহযুদ্ধ বাঁধানোর চেষ্টায় অদৃশ্য বাহিনি। সরকারের মতে বিরোধীরা আওয়ামী লীগকে ফেরাতে চায়। না হলে এমন চূড়ান্ত কর্মসূচি দিচ্ছে কেনো?
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]