বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি ৪৯ বছরে পা দিয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় ক্ষমতায় যাওয়া-আসা, আন্দোলন-সংগ্রাম, নেতৃত্বের পরিবর্তন, মামলা-গ্রেপ্তার ও নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে দলটি এবার ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্্যাপন করেছে রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে। ফলে এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বিএনপির জন্য শুধু দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার স্মরণ নয়, বরং ক্ষমতায় ফিরে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং নিজেদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের বড় পরীক্ষারও সূচনা।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঢাকার রমনা বটমূলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির ঘোষণা দেন। এর আগে ১৯৭৭ সালে ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচিকে ভিত্তি করে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তিকে একটি প্ল্যাটফর্মে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, বহুদলীয় গণতন্ত্র, জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা এবং জনগণের অংশগ্রহণকে দলটির রাজনৈতিক দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়। কৃষি, খাদ্য উৎপাদন, গ্রামীণ উন্নয়ন, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণের মতো বিষয়ও দলটির কর্মসূচিতে গুরুত্ব পায়।
প্রতিষ্ঠার অল্প সময়ের মধ্যেই বিএনপি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়। ১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাফল্যের মধ্য দিয়ে দলটি সারা দেশে দ্রুত সাংগঠনিক বিস্তার ঘটায়। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর দলটি নেতৃত্বের সংকটে পড়লেও পরে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে প্রবেশ করে। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনের বিজয়ের পর দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় শুরু হয়।
১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করে এবং খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হন। পরে ১৯৯৬ সালে ক্ষমতা হারালেও ২০০১ সালের নির্বাচনে বড় বিজয় নিয়ে আবার সরকার গঠন করে দলটি। দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকলেও দেশব্যাপী সাংগঠনিক কাঠামো ধরে রাখার মধ্য দিয়ে বিএনপি তার রাজনৈতিক উপস্থিতি বজায় রাখে। তবে দলটির পথচলা কখনোই মসৃণ ছিল না। এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ওয়ান-ইলেভেনের পরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময়ে বিএনপি নানা চাপ ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়।
দলটির নেতাকর্মীদের দাবি, দীর্ঘ সময়ে বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী মামলা, গ্রেপ্তার, নির্যাতন, গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও দলটি আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন আসে। পরবর্তী নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে আসে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এবারই প্রথম সরকার হিসেবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করল বিএনপি।
এই প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে দলের দায়িত্বও বহুগুণ বেড়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় জনগণের কাছে যে পরিবর্তন, সুশাসন, জবাবদিহি ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, এখন সেগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব বিএনপির ওপর। দলের ঘোষিত ৩১ দফা এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন তাই সরকারের জন্য অন্যতম বড় পরীক্ষা।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বাড়ানো, শিল্প ও ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন—এসব বিষয়ে জনগণের প্রত্যাশা ব্যাপক। একই সঙ্গে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করার বিষয়েও সরকারকে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে হবে।
ক্ষমতায় থাকার ক্ষেত্রে বিএনপির জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হবে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখা। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকার পর সরকারে এসে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অনিয়ম, দখল, চাঁদাবাজি কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠলে তা সরকারের ভাবমূর্তির পাশাপাশি দলের জনপ্রিয়তাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ফলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কঠোর সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ এবং নেতাকর্মীদের জবাবদিহির আওতায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নেতৃত্বের দিক থেকেও বিএনপি একটি পরিবর্তিত বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জিয়াউর রহমান দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও রাজনৈতিক ভিত্তি নির্মাণের প্রধান ব্যক্তি। তার পর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি গণভিত্তি ও নির্বাচনী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি নতুন প্রজন্মের কাছে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করছে। ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলের নেতৃত্বের ভার আরও সরাসরি তারেক রহমানের ওপর এসে পড়ে। ফলে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ধরে রাখার পাশাপাশি পরিবর্তিত সময়ের সঙ্গে সংগঠনকে মানিয়ে নেওয়াও তার জন্য বড় দায়িত্ব।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি পাঁচ দিনের কর্মসূচি নিয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ভোরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গুলশানে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। সকালে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। সেখানে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে তিনি সমাধি প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপণ এবং জিয়া উদ্যানের লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। সারা দেশে বৃক্ষরোপণ ও মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনও পৃথক কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি পালন করছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে বিএনপি নেতাকর্মীরা গণতন্ত্র রক্ষা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখার অঙ্গীকার করেন। নেতারা বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দলটি যে পর্যায়ে এসেছে, এখন জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করাই প্রধান লক্ষ্য।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি জনগণের কাছে অঙ্গীকার রক্ষাকারীর দল। প্রতিষ্ঠার সময় জিয়াউর রহমান যে আদর্শ ও প্রত্যয় নিয়ে দল গড়ে তুলেছিলেন, সেই নীতি ও দর্শনের পতাকা ধারণ করেই বিএনপি এগিয়ে যাচ্ছে।
৪৮ বছরে বিএনপি বহু রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এবারের বাস্তবতা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আলাদা। দীর্ঘদিন বিরোধী অবস্থানে থেকে ক্ষমতায় ফেরার পর এখন দলটিকে আন্দোলনের রাজনীতি থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার বাস্তবতায় নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, সুশাসন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, রাজনৈতিক সহনশীলতা, আইনশৃঙ্খলা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফেরাতে পারাই হবে সরকারের সাফল্যের প্রধান মাপকাঠি।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঢাকার রমনা বটমূলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির ঘোষণা দেন। এর আগে ১৯৭৭ সালে ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচিকে ভিত্তি করে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তিকে একটি প্ল্যাটফর্মে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, বহুদলীয় গণতন্ত্র, জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা এবং জনগণের অংশগ্রহণকে দলটির রাজনৈতিক দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়। কৃষি, খাদ্য উৎপাদন, গ্রামীণ উন্নয়ন, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণের মতো বিষয়ও দলটির কর্মসূচিতে গুরুত্ব পায়।
প্রতিষ্ঠার অল্প সময়ের মধ্যেই বিএনপি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়। ১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাফল্যের মধ্য দিয়ে দলটি সারা দেশে দ্রুত সাংগঠনিক বিস্তার ঘটায়। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর দলটি নেতৃত্বের সংকটে পড়লেও পরে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে প্রবেশ করে। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনের বিজয়ের পর দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় শুরু হয়।
১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করে এবং খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হন। পরে ১৯৯৬ সালে ক্ষমতা হারালেও ২০০১ সালের নির্বাচনে বড় বিজয় নিয়ে আবার সরকার গঠন করে দলটি। দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকলেও দেশব্যাপী সাংগঠনিক কাঠামো ধরে রাখার মধ্য দিয়ে বিএনপি তার রাজনৈতিক উপস্থিতি বজায় রাখে। তবে দলটির পথচলা কখনোই মসৃণ ছিল না। এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ওয়ান-ইলেভেনের পরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময়ে বিএনপি নানা চাপ ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়।
দলটির নেতাকর্মীদের দাবি, দীর্ঘ সময়ে বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী মামলা, গ্রেপ্তার, নির্যাতন, গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও দলটি আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন আসে। পরবর্তী নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে আসে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এবারই প্রথম সরকার হিসেবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করল বিএনপি।
এই প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে দলের দায়িত্বও বহুগুণ বেড়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় জনগণের কাছে যে পরিবর্তন, সুশাসন, জবাবদিহি ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, এখন সেগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব বিএনপির ওপর। দলের ঘোষিত ৩১ দফা এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন তাই সরকারের জন্য অন্যতম বড় পরীক্ষা।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বাড়ানো, শিল্প ও ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন—এসব বিষয়ে জনগণের প্রত্যাশা ব্যাপক। একই সঙ্গে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করার বিষয়েও সরকারকে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে হবে।
ক্ষমতায় থাকার ক্ষেত্রে বিএনপির জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হবে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখা। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকার পর সরকারে এসে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অনিয়ম, দখল, চাঁদাবাজি কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠলে তা সরকারের ভাবমূর্তির পাশাপাশি দলের জনপ্রিয়তাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ফলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কঠোর সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ এবং নেতাকর্মীদের জবাবদিহির আওতায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নেতৃত্বের দিক থেকেও বিএনপি একটি পরিবর্তিত বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জিয়াউর রহমান দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও রাজনৈতিক ভিত্তি নির্মাণের প্রধান ব্যক্তি। তার পর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি গণভিত্তি ও নির্বাচনী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি নতুন প্রজন্মের কাছে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করছে। ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলের নেতৃত্বের ভার আরও সরাসরি তারেক রহমানের ওপর এসে পড়ে। ফলে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ধরে রাখার পাশাপাশি পরিবর্তিত সময়ের সঙ্গে সংগঠনকে মানিয়ে নেওয়াও তার জন্য বড় দায়িত্ব।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি পাঁচ দিনের কর্মসূচি নিয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ভোরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গুলশানে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। সকালে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। সেখানে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে তিনি সমাধি প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপণ এবং জিয়া উদ্যানের লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। সারা দেশে বৃক্ষরোপণ ও মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনও পৃথক কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি পালন করছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে বিএনপি নেতাকর্মীরা গণতন্ত্র রক্ষা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখার অঙ্গীকার করেন। নেতারা বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দলটি যে পর্যায়ে এসেছে, এখন জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করাই প্রধান লক্ষ্য।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি জনগণের কাছে অঙ্গীকার রক্ষাকারীর দল। প্রতিষ্ঠার সময় জিয়াউর রহমান যে আদর্শ ও প্রত্যয় নিয়ে দল গড়ে তুলেছিলেন, সেই নীতি ও দর্শনের পতাকা ধারণ করেই বিএনপি এগিয়ে যাচ্ছে।
৪৮ বছরে বিএনপি বহু রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এবারের বাস্তবতা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আলাদা। দীর্ঘদিন বিরোধী অবস্থানে থেকে ক্ষমতায় ফেরার পর এখন দলটিকে আন্দোলনের রাজনীতি থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার বাস্তবতায় নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, সুশাসন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, রাজনৈতিক সহনশীলতা, আইনশৃঙ্খলা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফেরাতে পারাই হবে সরকারের সাফল্যের প্রধান মাপকাঠি।